সুমন সেনগুপ্ত :
বাবা তারকনাথের চরণে সেবা লাগে বলে আজ দশ বছর আগেও ঘরে ঘরে দরজায় এসে দাঁড়াতেন সন্ন্যাসীরা। চৈত্র মাসে এই চিত্র দেখা যেত। তাদের এক হাতে মাটির মালসা,অন্য হাতে বেতের ছড়ি। গলায় মোটা সুতোর উত্তরীয়। সাজ দেখলে মনে হবে পরিবারের কেউ মারা গেছেন। এই দেবাদিদেব মহাদেব আসলে শিব। তিনি শুধু মহাকাল রুদ্র নন,নটরাজও। নাচগানের আদি দেবতা। বেহুলা তাকে নাচ দেখিয়ে প্রীত করেছিলেন। মৃত স্বামী লখিন্দরের প্রাণ আদায় করে নিয়েছিলেন। শিবের পুজো বছরভর হলেও, চৈত্র মাসে তা বিশেষ রূপ পায়। এই সময় গাজন সন্ন্যাসীরা ঢাক-কাঁসি নিয়ে সুর তোলে গাঁ-গঞ্জে। ধুলো ভাঙার গান,খেস্যা গান,বাধাই গান ছাড়া হরেক রকম বোলান গান। এ ছাড়া নানা ধরণের প্রাচীন লোকনৃত্যে জমজমাট হয়ে ওঠে শিবের গাজন সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি খুবই প্রাচীন। বাংলাদেশে শিবের উপাসনা মূলত লিঙ্গমূর্তিতে হয়। লিঙ্গের অন্য নাম শিশ্ন। অর্যরা এই শিশ্নদেবকে পছন্দ করতেন না বলে মাত্র একবারই ঋকবেদে এর উল্লেখ আছে। শিবের সঙ্গে শব যুক্ত রয়েছে বলে গা-গঞ্জে এই শিব সাধনায় রয়েছে নানা রূপ। নানা লোকাচার। যে করণে গাজনের সময় নরমুণ্ড নিয়ে নাচ অন্যতম লোকাচার। রাঢ়বঙ্গের কোথাও কোথাও মুখোশ নৃত্যেরও চল আছে। শিবকে কেন্দ্র করে শিবের গাজনের যে ধুম ছিল,বর্তমানে তা আর নেই। তবু রাঢ়বঙ্গে এখন এই প্রাচীন সংস্কৃতিকে ধরে রাখার প্রয়াস দেখা যায়। তিন দিন ধরে চলে উপোষ। সন্ধ্যায় সামান্য ফলজল। পরনে অশৌচ পালনের মতো কোড়া কাপড়। গলায় গলবস্ত্র। গ্রামে গ্রামে চলে পরিক্রমা। সঙ্গে ঢাক-ঢোল-কাঁসর।

এই প্রাচীন প্রথাটি বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। বাংলার সাংস্কৃতির এই ধারাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের কোন আগ্রহ দেখা যায় না। অথচ বাংলা সংস্কৃতির গেল গেল রবে সরব হচ্ছেন। সংস্কৃতি বাঁচাতে কলকাতার রাজপথে নামছেন। সত্যি কি তাঁরা বাংলা সংস্কৃতিকে আগলে রাখতে চাইছেন? বাংলার এই প্রাচীন গাজন সংস্কৃতি ক্রমশ কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে তা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindusta
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news