Breaking News
Home / TRENDING / প্রচুর ভ্যাকেনসি, ২৩ মে’র পর রাজনীতি ছাড়ছেন অনেকেই!

প্রচুর ভ্যাকেনসি, ২৩ মে’র পর রাজনীতি ছাড়ছেন অনেকেই!

তরুণ সেন:

মাননীয় নেতানেত্রীরা ভোটের হাওয়ায় সদর্পে ঘোষণা করে চলেছেন, এ না হলে ‘রাজনীতি ছেড়ে দেব’, ও না হলে ‘রাজনীতি ছেড়ে দেব’! হ্যাঁ মশাই, অনেক ক্ষেত্রেই ভরা জনসভায় এ তেনাদেরই কণ্ঠের গর্বিত ঘোষণায় দর্পিত বার্তা। সাক্ষী মিডিয়া এবং কয়েক হাজার জনতা। তবে এ তেনাদের রামসত্যি, না ভামসত্যি—বোঝা যাবে ২৩ শে মে, জনতার রায় বেরুলে!

ছাড়াছাড়ির হুঙ্কারে এক নম্বরে রয়েছেন দিদির প্রিয় কেষ্ট, দাওয়াই বিশেষজ্ঞ বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেস জেলা সভাপতি সদ্য নকুলদানা থেরাপির স্রষ্টা অনুব্রত মণ্ডল। যতদূর জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ তিনি মাড়গ্রামের মঞ্চ থেকেই প্রথম হুঙ্কারটি ছাড়েন, ”মোদি যদি এখান থেকে আট খানা সিট পায়, আমি রাজনীতি করব না, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।” অমনি ‘দাদা দাদা!’ ডাকে সাড়া পড়ে গেল সভায় আর তালে তালে বেজে উঠল চড়াম চড়াম হাততালি! তাতেই দাদা বুঝি জোশ পেলেন দ্বিগুণ, অমনি পরদিন ৩১ মার্চ সেই শপথের এরিয়ায় হাওয়া ঢুকল, ফুলে হল তিনগুণ—

ক. ”মোদি প্রধানমন্ত্রী হলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।”

খ. ”মোদি যদি এখান থেকে ৮ খানা সিট পায়, আমি আর রাজনীতি করব না।”

গ. “রাজ্যে ৪২ এ ৪২ না পেলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।”

এরসঙ্গে ১৭ এপ্রিলের হুঙ্কারে সংযোজিত হল—“বিজেপি ১২০-র বেশি আসন পেলে ভারতবর্ষে রাজনীতি করা ছেড়ে দেব।” কিন্তু প্রশ্ন হল, ‘ভারতবর্ষে রাজনীতি করা ছেড়ে দেব’ বলার মানেটা কি? অন্যদেশে কেরিয়ার শুরুর ইচ্ছে? তবে কি উগাণ্ডা-ফুগাণ্ডা থেকে ডাক পেলেন দাদা? ব্যাপারটা খোলসা করে জানার একটা আগ্রহ মনের মধ্যে কি যে কিলবিল করলো ক’দিন ধরে, সেটাই হয়তো বুঝতে পেরে কেষ্টদা ঠিক চেপে দিলেন ২৫ এপ্রিল। বিশুদ্ধভাবে উচ্চারণ করলেন, “১২০টি আসন পেরোবে না বিজেপি। পেরোলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব!”

অনুব্রতবাবুর শপথবাক্যসমূহ শ্রবণ এবং পাঠ করিলে একটা বিষয় জলের মতো পরিষ্কার হয়, রাজনীতি তিনি ছাড়বেনই ছাড়বেন! এ যেন তাঁর পণ! সেজন্যই যেন তিনি হন্যে হয়ে অজুহাত খুঁজছেন! তিনিও হয়তো আশায় আছেন, এতগুলো অপশনের মধ্যে একটা না একটা তাঁর বিপক্ষে নিশ্চয়ই যাবে! আমরা তো খবর খুঁটে খাওয়া মানুষ, দেখি, কোথাকার জল কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়!

অনুব্রত মণ্ডল বঙ্গরাজনীতিতে গুড়জল, বাতাসার প্রবক্তা বলে এটা ভাবার কোন কারণ নেই যে, রাজনীতি ছাড়ার এই যে ঢ‍্যাড়াবাজি, এরও তিনি পথিকৃৎ। বরং কালের বিচারে এই বাণীটির প্রবক্তা হিসেবে এই মরসুমে কারও নাম যদি উল্লেখ করতে হয়, তবে তিনি বঙ্গবিজেপির ‘চাণক্য’ অভিধাপ্রাপ্ত মুকুল রায়। ২৩ জানুয়ারি তিনিই প্রথম ঘোষণা করেন, ”সামনের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২০ টির বেশি আসন পেলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। আমি আর রাজনীতির ময়দানেই থাকব না।” ভগবান না করুন, যদি তৃণমূল কুড়ির বেশি পেয়ে যায়, তখন? ভোটের হাওয়া, বলা তো যায় না! তখন সত্য রক্ষা করতে গিয়ে, আপনি রাজনীতি ছেড়ে দিলে বঙ্গবিজেপি যে অনাথ হয়ে যাবে, মনিহারা ফণি হয়ে যাবে গো দাদা!

মুকুলদা যে পথ প্রদর্শন করলেন, সেই পথেই কয়েকদিনের মধ্যে নিজের গড় থেকে ঢাক পেটালেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। বহরমপুরে আইন অমান্য আন্দোলনের মঞ্চ থেকে ২৯ জানুয়ারি তিনি ঘোষণা করলেন, ”আমি চ্যালেঞ্জ করছি, মুর্শিদাবাদে যদি তৃণমূল একটা বুথ দখল করতে পারে তাহলে আমি কংগ্রেস ছেড়ে দেব। মুর্শিদাবাদের প্রতিটি বুথে নির্বাচন হবে। ক্ষমতা থাকলে লোকসভা নির্বাচনে একটা বুথ দখল করে দেখিয়ে দে। আমি রাজনীতিই ছেড়ে দেব।” দফা চারে মুর্শিদাবাদে ভোট। নির্বাচন কমিশন এখনো ধাপে ধাপে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের শিক্ষিত করতে ব্যস্ত, শত শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়ার শিক্ষা তাঁরা পাঁচ দফার আগে পাবেন বলে মনে হয় না। সুতরাং, লখিন্দরের লোহার বাসরে তাঁরা দুই শতাংশের ফুটো রেখে দিয়েছেন! এখন চাপড়া, ইসলামপুর প্রভৃতি অঞ্চলে যে গিরিঙ্গিবাজি শুরু হয়েছে, তাতে গড় মুর্শিদাবাদ খুব একটা কিন্তু সেফ নয়! তবে, সেই টেনশন থেকে মানুষকে মুক্ত করতেই মনে হয় অধীরবাবু ২১ মার্চ রাজনীতি ছাড়ার একটি মজার অপশন অন করেছেন, ”বহরমপুরে আমার বিরুদ্ধে লড়াই করে মমতা জিতে দেখাক, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।” হাওয়ার কথা শুধু হাওয়ায় ভাসে! অধীরবাবুও জানেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভারি দায় পড়েছে ওখানে গিয়ে তাঁর সঙ্গে লড়তে!

কথায় কথায় যখন বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কথা উঠল, তখন এবার তাঁর কথাই বলি। কাঁথির জনসভায় বিগত ৩০ জানুয়ারি তিনি উচ্চকিত কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, ”যদি দেখাতে পারে ছবি আঁকার এক পয়সা আমার একাউন্টে ঢুকেছে, তাহলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।” এটা একটা দারুণ অফার! যাকে বলে বাম্পার অফার! ২৩ মে’র পর ইডি ও সিবিআই যদি আবার মুচুকুন্দের নিদ্রায় না-চলে যায়, তাহলে আমরা আর একবার টোয়েন্টি টোয়েন্টির সাক্ষী হতে পারি। জাস্ট ফর ফান!!

মুখ্যমন্ত্রীর পরই যাঁর কথা বলা উচিত, মানে আমাকে বলতেই হবে, তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের ভবিষ্যৎ। তাঁরও রয়েছে রাজনীতি ছাড়ার আব্দার! আমতলায় সাংবাদিক সম্মেলন করে ২৪ মার্চ তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ”২ কেজি কেন, ২ গ্রাম সোনাসহ ধরা পড়লে দেখানো হোক। এমন ঘটনা ঘটেছে প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।” আরও বলেছেন, ”ফুটেজে যদি কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তা হলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। ” তাঁর স্ত্রী রুজিরার সঙ্গে সম্পৃক্ত কলকাতা বিমানবন্দর ও সোনা এবং প্রভাব খাটানোর বিষয়টা এখন কেস হয়ে আদালতে ঝুলছে এবং এয়ারপোর্ট রক্ষীরাও দাবি করছেন যে, তাঁদের কাছে নাকি প্রমাণ আছে! অন্তত পোর্টাল বা খবরের কাগজ থেকে তেমনটাই তো জানা যাচ্ছে। ফলে, বিষয়টা এই মুহূর্তে এক বলে একটা ছয়ের ক্লাইম্যাক্সে আটকে!

অন্যদিকে তৃণমূলের আর এক বিদায়ী সাংসদ দেব (দীপক অধিকারী) ছাড়াছাড়ির এই রাজনীতির ক্ষেত্রে কোন ইস্যুতে কোন অপশন রাখছেন, আসুন একবার দেখে নিই। ৮ এপ্রিল তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর ২ নং ব্লকের চাঙ্গুয়ালের এক কর্মীসভায় দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, ”যেখানে কাউকে বা কোনও প্রার্থীকে ছোট করে ভোট চাইতে হবে, সেদিন আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।” এখনো অব্দি অবশ্য তিনি কারও গুষ্টি উদ্ধার অর্থাৎ কাউকে ‘ছোট’ করেননি। আগে আগে দেখা যাক, কিবা হয় কী হয়…!

এবার প্রসঙ্গটি শেষ করব। শেষ করব কেন্দ্রের মাননীয়া শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে দিয়ে। পুনের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি ঘোষণা করেছেন, ”যেদিন নরেন্দ্র মোদি কাজ ছেড়ে দেবেন, আমিও জাতীয় রাজনীতি ছেড়ে দেব।” কথাটা শুনে আমরা কিন্তু কেউ হাসিনি। বিশ্বাস করুন, সত্যি বলছি!

হাসি বা না-হাসি, কলিযুগ বা কল্কিযুগ এখনও শেষ হয়নি। সুতরাং, কথা ও কাজ এক হবে ভেবে আপনার যদি ছিঁটেফোঁটাও লুকোনো আহ্লাদ হয়, তাহলে আমাদের একটাই পরামর্শ, যা বিসর্জন করবার করে তাড়াতাড়ি আবার শুয়ে পড়ুন গে যান!

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *