Breaking News
Home / TRENDING / বিধানসভার লাইব্রেরীতে নাগরিক সংশোধনী আইন নিয়ে তর্কযুদ্ধ রাজ‌্যপাল-বিধায়কের

বিধানসভার লাইব্রেরীতে নাগরিক সংশোধনী আইন নিয়ে তর্কযুদ্ধ রাজ‌্যপাল-বিধায়কের

নীল রায়।

বিধানসভার লাইব্রেরীতে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের (Jagdeep Dhankhar) সঙ্গে নাগরিক সংশোধনী আইন নিয়ে যুক্তিযুদ্ধ জড়ালেন কংগ্রেস বিধায়ক অসিত মিত্র। মঙ্গলবার বিধানসভায় পরিদর্শনে এসেছিলেন রাজ্যপাল। একসময় যান লাইব্রেরীতে। সেখানে আচমকাই হাজির হয়ে যান কংগ্রেসের আমতার বিধায়ক। উপস্থিত বিধানসভার আধিকারিকরা রাজ্যপালকে পরিচয় করিয়ে দেন অসিত মিত্রর (Asit Mitra) সঙ্গে। আলাপচারিতায় রাজ্যপাল বিধায়কের কাছে জানতে চাই যে বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন কেন? প্রশ্ন শেষ হওয়া মাত্রই অসিত মিত্র বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের ভুল আইন প্রণয়নের জন্যই রাজ্যে এতো গোলমালের ঘটনা ঘটেছে।”

উত্তরে রাজ্যপাল বলেন, “সংসদের দুই কক্ষ বিল পাসের পর নাগরিক সংশোধনী আইন তৈরি হয়েছে। সবকিছুই আইনমাফিক করা হয়েছে। তাহলে ঝামেলা হচ্ছে কেন?” কংগ্রেস বিধায়ক বলেন, “সংসদ হচ্ছে বিতর্কে জায়গা। যেখানে বিল পেশের পর তর্কবিতর্কের শেষে, ভোটাভুটির মাধ্যমে যে কোনও বিল সেখানে পাশ হয়ে যায়। তার আগে সংশোধনী বিলটি সংসদে সর্বদলীয় কমিটির কাছে পেশ করা উচিত ছিল। মতামত নেওয়া উচিত ছিল সব রাজনৈতিক দলের। কিন্তু বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার তা করেনি।” সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “প্রস্তাব দিয়েছিলেন কংগ্রেস প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গাঁধী (Rahul Gandhi) ও লোকসভার দলনেতা অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhry)। কিন্তু নরেন্দ্র মোদির সরকার কিছুই শোনেনি।” পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে রাজ্যপালকে কংগ্রেস বিধায়ক আরও বলেন, “আমাদের বিধানসভাতে অনেক সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস করা হয়। কিন্তু তার আগে আমাদের রাজ্যে সর্বদলীয় বৈঠকের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সিএবি নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে তেমন কোনও আলোচনা করেনি কেন্দ্রীয় সরকার।”

সূত্রের খবর, বিধায়কের কথা শুনে রাজ্যপাল জানান, তিন প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে আগত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দিতে এই বিলটি পাস করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক নেই। জবাবে অসিত মিত্র বলেন, “নতুন এই আইনটি নিয়ে দেশের মানুষ বিভ্রান্ত। দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যেমন অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তেমনি আশঙ্কার মেঘ দেখছে সংখ্যাগুরুরা।” আমতার চারবারের বিধায়ক জানান, এই আইন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ মেনে নেবে না।

তর্ক বিতর্ক চলতে চলতেই রাজ্যপাল জানতে চান কোন কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিধায়ক। প্রশ্নের জবাবে অসিত মিত্র জানান, ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের (Congress) প্রতীক হাওড়া আমতা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক তিনি। ১৯৯৬ সাল থেকে চারবার বিধায়ক হয়েছেন তিনি। এরপর আর নাগরিক সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনা করতে চাননি রাজ্যপাল, এমনটাই সূত্রের খবর। এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস বিধায়ক মিত্র বলেন, “রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলতে পেরে ভাল লাগছে। তিনি রাজ্যের অবস্থা ও নাগরিক সংশোধনী আইন নিয়ে আমার মতামত জানতে চেয়েছেন। সুস্পষ্টভাবেই আমি আমার ও আমার দলের অবস্থান জানিয়েছি। আশাকরি আমার সঙ্গে কথা বলে তিনি রাজ্যের মানুষের মনের কথা জানতে পেরেছেন।”

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *