নিজস্ব সংবাদদাতা
আঠেরো আগস্টের বিকেল থেকে মেগাধারাবাহিকের শিল্পীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ডেকেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন তাঁদের দাবি না মেটা পর্যন্ত তাঁরা ফ্লোরে কাজে ঢুকবেন না। তাঁদের দাবি কি? শিল্পীদের মাইনের বকেয়া টাকা অবিলম্বে মেটানো এবং প্রত্যেক শিল্পী দশ ঘন্টার বেশি কাজ করবেন না—এটা প্রযোজকদের মেনে নিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরেই শিল্পীদের অভিযোগ অনেক প্রযোজক শুটিং চালিয়ে যাচ্ছেন নিয়মিত, চ্যানেলে রমরম করে ধারাবাহিক চলছে, কিন্তু পেমেন্টের বেলায় তা বাকি পড়ে থাকছে মাস তিনেকের বেশি। শিল্পীদের অভিনয়টাই একমাত্র পেশা, এভাবে দীর্ঘদিন মাইনে আটকে থাকলে তাঁদের দিন চলবে কেমন করে? পরের মাসের পনের তারিখের মধ্যে মাইনে দেওয়ার কথা এবং দেরি হলে তা দু’মাসের বেশি দেরি করা যায় না, এমনটাই নিয়ম। এই দুটি সমস্যাতেই বেশি পড়তে হচ্ছে নতুন শিল্পীদের। কোথাও কোথাও তাঁদের মাইনে আটকে রাখা হয়েছে পাঁচ থেকে সাত মাস। এর বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলেই গল্প থেকে বাদ দিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় কিম্বা সারা মাসে তাঁদের শ্যুটিং-এর ডেট কমিয়ে দিয়ে চাপে রাখা হয়। কাজ করিয়ে নেওয়া হয় তের থেকে চোদ্দ ঘন্টা। মূলত এসব সমস্যায় জেরবার হয়েই প্রতিবাদের চরম পথ বেছে নিয়েছেন শিল্পীরা। পনের আগস্ট শিল্পীদের পক্ষ থেকে প্রযোজকদের জানানো হয়েছিল যে, সতের আগস্টের মধ্যে বকেয়া টাকা না মেটালে তাঁরা ধর্মঘটের পথে যাবেন। আঠেরো তারিখের দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করে যখন তাঁরা দেখলেন যে, প্রযোজকেরা তাঁদের দাবিকে পাত্তাই দিলেন না, তখনই তাঁরা ধর্মঘটের পথে নামলেন।
বর্তমানে সমস্যা হল, শিল্পীরা বলছেন তাঁদের দাবি মানতে হবে, প্রযোজকেরা বলছেন মানব না। দু’পক্ষই অনড় অবস্থানে। এতে করে আজ তিন দিনে পড়ল প্রতিটি চ্যানেলের বাংলা মেগার নন টেলিকাস্ট, কিন্তু স্লট তো খালি রাখা যায় না, তাই প্রতিটি চ্যানেলেই পুরনো এপিসোডের রিপিট টেলিকাস্ট হচ্ছে। অচল অবস্থা কখন কাটবে সে ব্যাপারে কোন পক্ষই সদুত্তর দিতে পারছেন না। অচল অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হয় শিল্পীদের ধর্মঘট থেকে সরে আসতে হবে, নয় প্রযোজকদের তাঁদের দাবি মেনে নিতে হবে, কিম্বা দুপক্ষকেই আপোষ করতে হবে। আজ সকালে রবীন্দ্র সরোবরের নজরুল মঞ্চে আর্টিস্ট ফোরামের মিটিং-এ প্রায় দেড় হাজার চলচ্চিত্র শিল্পী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তাঁরা জানিয়েছেন যে, তাঁরা তাঁদের অবস্থানে অনড় থাকবেন। প্রযোজকেরাও তাঁদের অবস্থান থেকে এখনও পর্যন্ত সরে আসার ইঙ্গিত দেননি। তাহলে সমাধানের উপায় কি হবে?
সূত্রের খবর এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে নজরুল মঞ্চের মিটিং সেরে জি বাংলা, স্টার জলসা, কালারস বাংলার চ্যানেল হেডের সঙ্গে মিটিং-এ বসেছিলেন প্রযোজকদের পক্ষ থেকে অরিন্দম শীল, আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়, চলচ্চিত্র ফেডারেশনের পক্ষ থেকে স্বরূপ বিশ্বাস প্রমুখ। সেখান থেকে সমাধান সূত্র না বেরোলেও তাঁদের আলোচনা থেকে একটা গভীর সমস্যার কথা উঠে এসেছে, আর সেটা শিল্পীদের মানসিক চাপকেই যেন বাড়িয়ে দিচ্ছে। টানা কয়েকদিন এই অবস্থা চললে, রিপিট টেলিকাস্ট চললে দর্শক কমবে, ফলে বিজ্ঞাপন কমতে থাকবে—যেখানে চ্যানেলের আয় বিজ্ঞাপন নির্ভর, সেখানে বিজ্ঞাপনদাতাদের উতসাহ হারিয়ে গেলে, তারা চলে যেতে থাকলে, চ্যানেল তো আর লস করে প্রজেক্ট চালাবে না, ফলে প্রজেক্ট বন্ধ হবে। তখন শিল্পীদের কর্মসংস্থানও বন্ধ হবে। ফলে ঘুরে ফিরে সমস্যাটা যেন বুমেরাং হয়ে শিল্পীদের দিকেই এগিয়ে আসতে চলেছে। সেইসঙ্গে একটা প্রশ্নও হাওয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে যে, এটা ইচ্ছে করেই শিল্পীদের চাপে রাখতে বাধ্য করে রাখতে বুমেরাং করে তোলা হচ্ছে না তো! উত্তরটা সময়ই দেবে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news