চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো :
ধীরে ধীরে কী দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেছেন শুভেন্দু অধিকারী ? সম্প্রতি তাঁর কার্যকলাপে এমনটাই আলোচনা শুরু হয়েছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে। ২৩ জুলাই তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক ভার্চুয়াল বৈঠকে সাংগঠনিক রদবদল করেন। সেই রদবদলের শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) করা হয় দলের সাধারণ সম্পাদক। তাঁকে রাখা হয় ২১ জনের রাজ্য কো-অরডিনেশন কমিটিতে এবং ৭ জনের স্টিয়ারিং কমিটিতেও। সূত্রের খবর, আন্দোলনের এই লড়াকু নেতা দলের কাছ থেকে যে গুরুত্বর আশা করেছিলেন, এযাত্রায় তেমনটা করা হয়নি। বরং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও ছত্রধর মাহাতোর মতো তৎকাল তৃণমূলীদের সঙ্গে একাসনে বসানো হয়েছে তাঁকে। তাঁদের সঙ্গেই তাঁকে রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। যা ভালোভাবে মন থেকে মেনে নিতে পারেননি তিনি এবং তাঁর অনুগামীরাও।
সাংগঠনিক রদবদলের পর ৩১ জুলাই প্রথমবার তৃণমূলের সমন্বয় কমিটির বৈঠকে যোগ দেননি নন্দীগ্রামের বিধায়ক। তিনি যোগ দেননি গত সপ্তাহের রাজ্য মন্ত্রিসভার ক্যাবিনেট বৈঠকেও। ঘটনাচক্রে, সেই বৈঠকেই পরিবহন সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও দুটি ক্ষেত্রেই তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে খবর মিলেছে। ৯ আগস্ট জঙ্গলমহল জুড়ে ছিল বিশ্ব আদিবাসী দিবস উদযাপন। কলকাতা থেকে এদিন রাজ্য সরকারের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। অনুষ্ঠান থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও সরকারি অনুষ্ঠানে যাননি শুভেন্দু। এদিন আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে নন্দীগ্রামের বিধায়ক বলেন, “আমার ইচ্ছা থাকলেও সরকারি অনুষ্ঠানে যেতে পারছি না। কারণ, আমাকে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যেতে হবে।”
পরিবহনমন্ত্রী মুখে যাই বলুন না কেন, তিনি যে ধারাবাহিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত সরকারের নানা অনুষ্ঠান বয়কটের কৌশল নিয়েছেন, তা ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কেন এমন কৌশল ? এ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী মহলে ধন্দ্ব তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ কর্মীমহল মনে করে, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পর দলের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার নাম শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর নেতৃত্বে নন্দীগ্রামে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে সাফল্য পেয়েছিল তৃণমূল। ফলস্বরূপ আজ নবান্নের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে আসীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তাই তাঁর মত নেতাকে দলের সব সময় গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া উচিত। ইতিমধ্যে, রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, হয় শুভেন্দু বিক্ষুব্ধ হয়ে যোগ দিতে পারেন বিজেপিতে, নয়তো নতুন দল গড়ে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে টক্কর দিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই।
কারণ, গত কয়েক বছরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর দলের সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছেন তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। অথচ তাঁর নেতৃত্বে গত লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলে ভরাডুবি হয়েছিল তৃণমূলের। কিন্তু তা সত্বেও দলের ক্ষমতা কমার বদলে, শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে তাঁর। ভাইপোর পরামর্শেই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ভোট বৈতরণী পাড় করতে কৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে নিয়োগ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেই সিদ্ধান্তে সায় ছিল না শুভেন্দু অধিকারীর। লোকসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর পরিবহনমন্ত্রী চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ভাবমূর্তিতে ভরসা করেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করুন। কিন্তু শুভেন্দুর মতামতকে উপেক্ষা করেই ভাইপোর আনা প্রশান্ত কিশোরের ওপরই আস্থা রেখেছেন মমতা। তাই প্রশান্ত কিশোরের জোড়া কর্মসূচির ‘দিদিকে বলো’ কিংবা ‘বাংলার গর্ব মমতা’ কর্মসূচিতে সচেতনভাবেই অংশ নেননি নন্দীগ্রামের বিধায়ক। সম্প্রতি দল তথা প্রশাসনের বৈঠকেও গরহাজির থাকা শুরু করেছেন তিনি। তাই বাংলার রাজনীতির জল্পনার পারদে চড়ছে তাঁকে ঘিরেই।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news