পার্থসারথি পাণ্ডা :
বেশ কিছুদিন ধরেই সুপ্রিয়া দেবীর শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। বয়স হয়েছিল তিরাশি। তবু বাড়ির কেউ ভাবতে পারেননি আজই তিনি চলে যাবেন। ভোরে ঘুম থেকে উঠে নিজে নিজেই বাথরুমে যান, ফিরে আসেন। তারপরই হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাতেই সব শেষ হয়ে যায়।
উত্তমকুমারের প্রথম হিট ছবি ‘বসু পরিবার (১৯৫২)’-এ উত্তমকুমারের বোনের চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর আত্মপ্রকাশ। পরের ছবি ১৯৫৯ সালে ‘সোনার হরিণ’। এতে তিনি প্রথম উত্তমকুমারের বিপরীতে অভিনয় করেন। তারপর ‘সবরমতী’, চিরদিনের…’, ‘বিলম্বিত লয়’-এর মতো বেশ কিছু ছবিতেই উত্তমকুমারের নায়িকা হয়েছেন তিনি। অভিনয়-প্রতিভার গুণে সুপ্রিয়া দেবী হয়ে উঠেছিলেন ঋত্বিক ঘটকের একজন প্রিয় অভিনেত্রী।
১৯৯২ সালে ঋষি কাপুর অভিনীত ‘হানিমুন’ ছবিতে অভিনয়ের পর কয়েক বছরের জন্য বড়পর্দা থেকে সরে আসেন তিনি। এসময় বাংলা দূরদর্শনের জন্য বিষ্ণুপদ পালচৌধুরীর ‘জননী’ ধারাবাহিকে অভিনয় করতে শুরু করেন। এটি বাংলার প্রথম মেগা-ধারাবাহিক। এই ধারাবাহিকের ‘জননী’ চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বাংলার ঘরে ঘরে জনপ্রিয়তার এক নতুন শিখরে পৌঁছেছিলেন সুপ্রিয়া দেবী।
চলচ্চিত্র জগতের মানুষদের কাছে তিনি ছিলেন সকলের প্রিয় ‘বেণুদি’। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি খুব রাঁধতে ভালবাসতেন, খাওয়াতে ভালবাসতেন। মহানায়ক উত্তমকুমারের প্রিয় পদগুলি ‘বেণুদির রান্নাঘর’ নামের একটি জনপ্রিয় কুকারি শো-এর মধ্য দিয়ে তিনি আপামর বঙ্গবাসীকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন। হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির প্রিয় ‘বেণুদি’।
বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি মিলিয়ে চল্লিশটিরও বেশি ছবিতে সুপ্রিয়া দেবী অভিনয় করেছেন। তিনি শুধু একজন অসামান্য অভিনেত্রীই ছিলেন না, বাংলা চলচ্চিত্রের একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের বলিষ্ঠ প্রতিনিধিও ছিলেন। বাঙালির চিত্ত ও চলচ্চিত্র চর্চায় তাঁর আসন তাই ‘চিরদিনের…’
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news