সুমন ভট্টাচার্য:
আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি বিরোধিতা যে কোনও গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ। যদি মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকে তাহলে গণতন্ত্রের বিকাশ হওয়া সম্ভব নয়। তাই কাশ্মীর নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের যদি কেউ সমালোচনা করেন, তাহলে সেটা গণতন্ত্রের জন্য সুস্থ লক্ষণ। কিন্তু বিষয়টা সমালোচনায় থামছে না। বামপন্থীরা যেন অধীর আগ্রহে কাশ্মীরের লাশ গোনার অপেক্ষায় বসে আছেন!
এই যে শুক্রবারের নমাজ হয়ে গেল এবং সেইরকম বড় কোনও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটল না, তাতে বঙ্গজ বামপন্থীরা এবং কলকাতার সাংবাদিককূল সাংঘাতিক রকম হতাশ। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ হলে রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে, এই পাকিস্তানি ন্যারেটিভস-এ বামপন্থীরা এতটা বিশ্বাস করতেন, যে এখনও সেইরকম কিছূ না হওয়ায় তাঁরা একদম ভেঙে পড়েছেন। এবং ভেঙে পড়েছেন বলেই তাঁরা নরেন্দ্র মোদীর বৃহস্পতিবারের ভাষণ শুনেও না শোনার ভান করছেন। কলকাতার বিখ্যাত প্রগতিশীল সংবাদপত্রগুলিও তাঁকে উপেক্ষার নীতি নিয়েছে।
এবং যেহেতু প্রগতিশীলতার চাদর নন্দনে এবং বইমেলায় গায়ে জড়িয়ে ঘুরে বেড়ালে অনেক কিছুকে ধামাচাপা দেওয়া যায়, তাই বাংলার প্রগতিশীল মিডিয়া যত গুরুত্ব দিয়ে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ব্যবস্থার কথা ছেপেছে, ততটাই পিছনে ঠেলে দিয়েছে ইমরানের সন্ত্রাসবাদী হামলার জন্য নির্দেশ দেওয়া মন্তব্যটিকে। ইমরান বলেছিলেন, ভারতের ৩৭০ ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত আরও পুলওয়ামা ঘটাবে। এর চেয়ে পরিষ্কার ভাবে কেউ, কোনও প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার কথা বলতে পারেন?
কিন্তু যেহেতু ইমরান, যেহেতু তাঁর সঙ্গে অনেক ভারতীয় নায়িকার অনেক কিছু নাকি ছিল, যেহেতু ইমরান খানের নাম শুনলে অনেক ভারতীয ক্রিকেট সাংবাদিক, এবং কিছু বাঙালি ক্রিকেট সাংবাদিক তো বটেই, হেঁটেও ইসলামাবাদ চলে যেতে পারেন, তাই এই নিয়ে টুঁ শব্দটি হয়নি। কোনও প্রতিবাদ মিছিল নয়, কোনও টেলিভিশন ডিবেট নয়, কিচ্ছুটি নয়। আহা ইমরান বলে কথা!
হয়তো এইরকম প্ররোচনামূলক মন্তব্য পাকিস্তান বা সৌদি আরবের রাষ্ট্রনায়ক বা খলনায়করাই করতে পারেন। কিন্তু তবুও ভাবতে পারেন এই কথাটা নরেন্দ্র মোদী বা ডোনাল্ড ট্রাম্প করলে কতটা শোরগোল হতো? কতটা ছিছিক্কার হতো? কিন্তু কলকাতা শহরের তথাকথিত প্রগতিশীলরা ইমরানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কোনও প্রতিবাদ সভা ডাকেননি, কোনও বাংলা কাগজ সম্পাদকীয় লিখে জনমত তৈরির চেষ্টা করেনি।
কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ বা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির চাইতে কলকাতার প্রগতিশীলদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বেইজিং কি বিবৃতি দিয়েছে। এই প্রগতিশীলরা ১৯৬২’র যুদ্ধের সময় কী বলেছিলেন, আমি সেইসব পুরনো কাসুন্দি ঘাটতে চাই না। কিন্তু ভারত রাষ্ট্র হিসাবে মুসলিমদের উপর অত্যাচার করছে, এইসব ভাঙা রেকর্ড বাজানোর আগে বামপন্থীরা একটু চিনের উঘুর প্রদেশে কী হচ্ছে, তার খবর রাখতে পারেন। আহা, কাশ্মীরিরা মুসলিম বলে ওদের উপর মোদী-শাহ অত্যাচার করছেন, এইসব কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে বাজার গরম করার আগে বেইজিং-এ কেন সমস্ত রেস্তরাঁয় হালাল খাবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তার খোঁজ নিতে পারেন। চিনের উন্নতি, চিনের সমাজব্যবস্থা নিয়ে যাঁরা এত উদ্বেলিত, তাঁরা চিনে, কমিউনিস্ট চিনে মুসলমানরা কেমন আছেন, সেই নিয়ে কেন কোনও কথা বলেন না?
ভারতের গণতন্ত্র, ভারতের সমাজব্যবস্থা নিয়ে এই বামপন্থীদের আলোচনা করাটা যতটা হাস্যকর, ততটাই ছেলেমানুষি। বামপন্থীদের হতাশ করে কাশ্মীরে ঈদ শান্তিতে কাটবে, আমি এটাই বিশ্বাস করি। রক্তঝরা দিন শেষ হয়ে যদি নতুন রাস্তা তৈরি হয়, তাহলে ক্ষতি কী? সেই নতুন সকালকে নিয়ে এত আশঙ্কা কেন?
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news