সুমন ভট্টাচার্য:
বাউন্সি পিচে খেলা সহজ নয়। তাঁর দলের সতীর্থ নভজ্যোত সিংহ সিধুকে জিজ্ঞেস করলেও জানতে পারতেন অধীর চৌধুরী। ব্রিটেনের বাউন্সি পিচ সিধু সামলাতে পারেননি বলেই তো ভারতীয় দলে সৌরভ গাঙ্গুলীর অভিষেক হয়েছিল। দিল্লির নতুন পিচে কি অধীর চৌধুরীকেও একটু নার্ভাস লাগছে?
ক্রিকেটিয় পরিভাষায় বলতে গেলে বহরমপুরের সংসদের একটু সাইট স্ক্রিন অ্যাডজাস্টমেন্টে সমস্যা হচ্ছে। অর্থাৎ বাম বিরোধিতা করে সংসদীয় রাজনীতিতে হাত পাকানো অধীর চৌধুরী গত কয়েক বছর ধরেই এই বঙ্গে তৃণমূল বিরোধিতার প্রধান মুখ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এত মধুর যে তৃণমূল নেত্রী যেমন তাঁকে বারবার নিশানা করেছেন, তেমনই তিনিও মুর্শিদাবাদে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি ছিলেন না।
কিন্তু এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতি। নিজের খাসতালুক মুর্শিদাবাদের বহরমপুর ছাড়া বাকি দুটি আসনেই কংগ্রেসকে জেতাতে পারেননি অধীর চৌধুরী। আর বুদ্ধিমান সনিয়া গাঁধী অধীর চৌধুরীকে যে ব্যাটিং অর্ডারে ব্যাট করতে পাঠিয়েছেন, সেখানে তৃণমূল নয, বিজেপিকেই চাঁদমারি করতে হবে। লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতার জন্য বিজেপিই প্রধান শত্রু, তৃণমূল বরং স্বাভাবিক মিত্র । ওই জন্যই বললাম না বহরমপুরের সংসদের সাইট স্ক্রিন আডজাস্টমেন্টে অসুবিধা হচ্ছে। একটু স্ক্রিন আডজাস্টমেন্টে করে নিলেই তিনি বল ঠিকঠাক দেখতে পাবেন এবং সেঞ্চুরি হাঁকাবেন এমনটা আশা করাই যায়।

কেন অধীর চৌধুরীকে প্রাথমিক দিকে একটু নড়বড়ে লাগছিল? কারণ ১০ নম্বর জনপথবাসিনীর ক্ষুরধার রাজনৈতিক মস্তিষ্ক। সবাই যখন চর্চা করছে অধীর চৌধুরীর বিজেপিতে যোগদান সময়ের অপেক্ষা, খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর পিঠ চাপড়ে বলছেন রিয়েল ফাইটার, তখন সনিয়া গাঁধী তাঁকে লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা বানিয়ে দিলেন। আর বহরমপুরের সাংসদ বুঝে গেলেন বিজেপিতে গেলে তিনি মন্ত্রী হতে পারেন, হয়তো ক্যাবিনেট মন্ত্রীই হবেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্পর্ধী হিসাবে উঠে আসার এই সুযোগ পাবেন না। আর এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে, রাজনীতির চক্রাবত ঘুর্ণনের নিয়মে পাঁচ বছর বাদে কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে তিনি সবচেয়ে ক্ষমতাবান মন্ত্রীদের একজন হবেন। হয়তো বিগ ফোর, অর্থাৎ স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, অর্থ বা বিদেশের মতো কোনও দফতরের দাবিদার হবেন।
একসময় সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখা, এখন কংগ্রেস রাজনীতির শীর্ষে পৌছে যাওয়া অধীর রাজনীতির সাপলুডো খেলা ভালোই বোঝেন। জানেন শীর্ষে আরোহণের জন্য মত নয়,পথটা জরুরি। এবং সেই জন্যই রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপিকে ঠেকাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কংগ্রেস এবং সিপিএমকে কাছে টানতে চেষ্টা করছেন, তখন কিন্তু তিনি চিরশত্রুর সেই চেষ্টাকে নস্যাৎ করে দেননি, বরং বলেছেন দেরিতে হলেও তৃণমূলনেত্রী রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা বুঝতে পেরেছেন।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news