নীল রায়:
বহু অনর্থ ঘটার পর এসএসসি-র অনশনকারীদের প্রতি মমতা দেখালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নির্বাচনী বিধি চালু হওয়ার পর এলেন মমতা, অতএব ঘোষণার দায় নেই, আশ্বাস সম্বল।
তারপরেও একাধিক চাপে পড়েই এবং সরকারের মুখ পুড়ছে বুঝে আজ অনশন মঞ্চে হাজির হয়ে অনশনকারী চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার কালীঘাটে তৃণমূলের লোকসভা ভোটের ইশতেহার প্রকাশের পর কলকাতা প্রেসক্লাবের কাছে অনশনরতদের কাছে আসেন তিনি। অনশনকারীদের বলেন, “এখন নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি জারি হয়ে গিয়েছে। তাই কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে পারব না।” কিন্তু আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী, “গোটা ব্যাপারটি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”
আসলে গত ২৭ দিন ধরে রোদ-ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে কলকাতার প্রেস ক্লাবের কাছে স্কুল শিক্ষকের চাকরির দাবিতে অনশন করছেন ৩৫০ যুবক-যুবতী। যাঁরা এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করেও চাকরি পাচ্ছেন না। অনশনকারীদের অভিযোগ, এরমধ্যে অনেকেই চোরা গলি দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করছিলেন এই ছেলেমেয়েরা। কিন্তু প্রশাসন বা মুখ্যমন্ত্রী বিন্দুমাত্র গা করেননি। তারপর আজ অনশনকারীদের সঙ্গে আচমকাই দেখা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশ্ন হল, কেন হঠাৎ অনশনের ২৮ দিনের মাথায় ঘুম ভাঙল মুখ্যমন্ত্রীর?
তার কারণ, গত ২৮ দিনে প্রেস ক্লাবের অনশন মঞ্চে একাধিক অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটে গেছে। অসুস্থ হয়েছেন একাধিক ছাত্রছাত্রী। এমনকী এক ছাত্রীর গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে গুরুতর অসুস্থ হয়ে শহরের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বেশ কয়েক জন। এই করুণ পরিস্থিতি দেখে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষের মতো বিশিষ্টজনেরা পাশে দাঁড়িয়েছেন অনশনকারীদের। শঙ্খ ঘোষ কেঁদে ফেলেছিলেন দেখে, যে দীর্ঘদিন অনশন করা সত্ত্বেও চাকরিপ্রার্থীদের দিকে ঘুরেও তাকাচ্ছে না মমতার সরকার। অন্যদিকে কংগ্রেস, সিপিএম, বিজেপির মতো বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অনশনমঞ্চে এসে চাকরিপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়ায়। এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় বইতে শুরু করে। এত কিছু ঘটার পর জাগল তৃণমূল সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘুম।
যাই হোক, আসল কথা হল, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হৃদয়ে মমতা জাগাতে একাধিক বলিদান দিতে হল অনশনকারীদের। বাচ্চা খোয়াতে হল মা’কে! তবে তৃণমূল সুপ্রিমো যে এইসব কারণকেও শেষ পর্যন্ত গুরুত্ব দিলেন তা হয়তো সামনে লোকসভা ভোট বলেই। কারণ তিনি জানেন এসএসসির চাকরীপ্রার্থীদের অনশনের বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে ভোটে। এমনটা মত রাজনৈতিক মহলের।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন মিনিট দশেক অনশনকারীদের সঙ্গে থাকার পর সেখান থেকে রওনা হন। জানা গিয়েছে, পরে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বলেন, “জুন মাসের মধ্যে কিছু একটা ব্যবস্থা করতে হবে।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news