দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়
, নীল বণিক :
তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙবে – রাজনৈতিক মহলে এই জল্পনা আগে থেকেই ছিল। এবার সেই জল্পনা যে শুধু জল্পনা নয় বরং প্রবল সম্ভাবনা সেই তত্ত্বে সীলমোহর বসিয়ে দিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং।
সোমবার, দলের ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে, মেয়ো রোডে, গান্ধি মূর্তির তলায় মমতা বলেন, ‘তৃণমূলকে ভাঙ্গতে আসলে ফল ভাল হবে না। খোঁচা খাওয়া বাঘের মত তৃণমূল তার জবাব দেবে। আমরা ক্ষুধার্ত বাঘ নই, আমরা আহত বাঘ।”
রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে মুখ্যমন্ত্রী কেন এই কথা বললেন!
তৃণমূল ভাঙ্গার জল্পনা ইদানীং নতুন করে মাথা চাড়া দিলেও এই জল্পনা নতুন নয়। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এমনকি ২০০৯ সালেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নিয়ে কখনওই প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, ‘দল ভাঙ্গা অত সোজা নয়।’
কিন্তু এবার কী এমন হল যে তৃণমূলনেত্রী ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করলেন!
আগে যতবার দল ভাঙ্গার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে উল্টো দিকে থেকেছে কংগ্রেস। অর্থাৎ দল ভেঙ্গে যাঁরা বেরোবেন তাঁরা কংগ্রেসে যাবেন। বাজপেয়ীর আমলেও দল ছেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতি যে তৈরি হয়নি তা নয় তবে সেটা ভাঙ্গনের পরিস্থিতি ছিল না। যদি হত তবে এক-আধ জনের দল ছেড়ে যাওয়া হত মাত্র। ভাঙ্গন হত না। যাই হোক গত লোকসভা নির্বাচনের আগেও মমতা নিশ্চিত ছিলেন যতই ভাঙ্গনের রব উঠুক শেষ হাসি তিনিই হাসবেন। হয়েওছিল তাই। এক সাংসদ বিবৃতির ঝড় তুললেন, কেউ বললেন, দল নয় দেশ আগে। তবে ওই পর্যন্তই। সেই বার ভোটের প্রস্তুতি শুরুর আগে ইন্ডোর স্টেডিয়ামের সভায় হাজির থেকে সবাই (ব্যতিক্রম সোমেন মিত্র) নিজেদের আনুগত্য বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। আসলে তৃণমূলের নভেম্বর বিপ্লবীদেরও পুরোপুরি দোষ দেওয়া যায় না বলেই অনেকে মনে করেন। কারণ তখন তাঁরা মমতার নৌকা ছেড়ে সনিয়ার নৌকায় উঠবেন কী করে! সেই নৌকার যিনি হাল ধরে আছেন, সেই সনিয়া গান্ধির ওপরেও মমতার ব্যক্তিগত প্রভাব অভাবনীয়। তাই সেবার বিপ্লবীরা ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছিলেন।
এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। উল্টোদিকের দলটির নাম বিজেপি। বাজপেয়ী-আদবানি-রাজনাথের বিজেপিও একরকম ছিল, কিন্তু মোদির বিজেপি মমতার কাছে এখনও ‘বেয়াড়া’ বলেই দিল্লির খবর।
যাঁকে এক সময় কোমরে দড়ি পরাবার কথা মমতা বলেছেন, কয়েকদিন আগে সংসদের সেন্ট্রাল হলে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে ছুটে গেছেন। অন্তত সংসদের বিশ্বস্ত সুত্রে এমনটাই খবর। মোদি তাঁকে রাজনাথের সঙ্গে কথা বলতে বলে অন্য কাজে মন দিয়েছেন। তারপর মোদি ভাল অমিত শাহ্ খারাপের ফর্মুলাও ব্যবহার করা হয়েছে। লাভ হয়নি। তাই কী প্রকাশ্যে ফুঁসে উঠলেন মমতা! ভাবছে রাজনৈতিক মহল। ফুঁসে উঠতে গিয়ে স্বীকার করেও ফেললেন, তাঁর দলে ভাঙ্গন ধরেছে।
দল ভাঙ্গবে নাকি ভাঙ্গবে না, দোদুল্যমান নেতারা (যাঁদের নিয়ে জল্পনা চলছে) দল ছাড়বেন নাকি থেকেই যাবেন এসব সময় বলবে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজকের এই মন্তব্য প্রমাণ হিসেবে রয়ে গেল যে দল ক্ষমতায় আসার ৬ বছরের মাথায় দলে ভাঙ্গন ধরেছে।
লাইক শেয়ার ও মন্তব্য করুন
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news