দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়
:
দলের প্রতি নিজেদের আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা একটি বিশেষ বাক্যবন্ধ প্রায়ই ব্যবহার করেন। মাঠে ময়দানে বক্তৃতায় কিংবা সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁরা সুযোগ পেলেই বলেন যে তাঁরা দলের অনুগত সৈনিক। এই ‘অনুগত সৈনিক’ শব্দবন্ধ উচ্চারণে, দলের প্রতি প্রেম, নিষ্ঠা, ভক্তি যেমন প্রদর্শিত হয়, তেমনই সৈনিক শব্দে লুকিয়ে থাকে দলের জন্য যে কোনও পরিস্থিতির সঙ্গে লড়ে যাওয়ার সংকল্প আর প্রয়োজনে দলের জন্য শহীদ হওয়ার অঙ্গীকার।
এ হেন দলনিষ্ঠ, আদর্শবাদী উচ্চারণই এখন তৃণমূলের আশঙ্কার কারণ। শুনতে অবাক লাগলেও শেষ কয়েকদিন যাবৎ তৃণমূল কংগ্রেসে এটাই সত্যি।
কিন্তু কেন?
সূত্রের খবর, এক শ্রেণীর তৃণমূল নেতা তাঁদের বিভিন্ন সূত্র মারফৎ খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছেন, সিবিআই -এর কাছে মুকুল রায় আর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের কাছে শুভেন্দু অধিকারি কী বললেন!
তৃণমূল-মুকুল সম্পর্ক এখন তলানিরও তলায় যদি কিছু থাকে সেখানে পৌঁছেছে। এক সময়ের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মানুষটি এখন সন্দেহ-তালিকার শীর্ষে। ভালোবাসার উল্টোপিঠে ঘৃণার মত, মুকুল এখন বিশ্বাসের উল্টোপিঠের সন্দেহ! তার ওপর মুকুলের মস্তিষ্কের ধার দলীয় নেতৃত্ব ভালভাবেই জানেন। সূত্রের খবর, তৃণমূলের ভয় ঠিক এই জায়গাতেই! কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সামনে মুকুল যদি বলে বসেন “আমি দলের অনুগত সৈনিক” তাহলে কী হবে!
তৃণমূল কংগ্রেসে তাঁর সুদিন ফেরার আশা মুকুল আর করেন না। গল্পের হ্যাপি প্রিন্সের মত দল থেকে পাওয়া তাঁর বিবিধ অলঙ্কার খুলে নিয়েছেন দলনেত্রী (মতভেদে অভিষেক)। নিভে যাওয়ার অপেক্ষায় এখন টিমটিম করে জ্বলছে তাঁর রাজ্যসভার প্রদীপ (পড়ুন আসন)। এই দলে তাঁর দিন ফুরিয়েছে, একথা বুঝতে মুকুলের আর এতটুকু বাকি নেই। এই সময় মুকুলের মত ‘সুচারু’ রাজনীতিক কী প্রত্যাঘাত করলেন! এই আশংকা সংক্রামিত হয়েছে নেতৃত্বের মধ্যে। আর বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে প্রতি আক্রমণের সেরা পথ এই এক জোড়া শব্দ, অনুগত সৈনিক। আপাতভাবে দলের বিরুদ্ধাচরণও করা হল না আবার বুঝিয়েও দেওয়া হল, দলের নির্দেশ ছাড়া কিছুই করা হয়নি।
একই রকম অবস্থা তৈরি হয়েছে শুভেন্দুর ক্ষেত্রেও। নন্দীগ্রামকাণ্ডের সময় সম্পূর্ণ নিজের যোগ্যতায় যে নেতা রাজ্য রাজনীতিতে মাথা তুলেছিলেন তিনি শুভেন্দু অধিকারি। দক্ষ সংগঠক, সুবক্তা, ঠান্ডা মাথার রাজনীতিক শুভেন্দুকে নিয়ে এক সময় রাজনীতির অঙ্গনের অনেকেরই অনেক উচ্চাশা ছিল। ২০০৯ সালে শুভেন্দু সাংসদ হওয়ার পর তাঁকে মন্ত্রী করা হয়নি। একটি জেলা থেকে দুজন মন্ত্রী হবে না (শিশির অধিকারি মন্ত্রী ছিলেন), এই যুক্তিতে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছিল তাঁকে। পরবর্তীতে দিল্লি থেকে ফিরিয়ে এনে রাজ্য সরকারের একটি কম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর দিয়ে রেখে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। যুব সংগঠন তাঁর হাত নিয়ে অভিষেককে দেওয়া হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, তাঁর জেলাতে তাঁর বিরুদ্ধ লবিকে প্রশ্রয় দিয়ে তাঁর চাপ বাড়াচ্ছে নেতৃত্ব। শুভেন্দুরও কিছু কম ক্ষোভ নেই। এই অবস্থায় তিনি কী বলে এলেন গোয়েন্দাদের!
আর যাই বলুন অনুগত সৈনিক মার্কা কিছু বলেছেন কী!
গোয়েন্দাদের কী বলে এলেন তাই নিয়েই এখন গোয়েন্দাগিরি চলছে তৃণমূলে।
লাইক শেয়ার ও মন্তব্য করুন
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news