নিজস্ব প্রতিনিধি :
২০১১-তে মন্ত্রীত্ব পাননি শোভন চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে আগে ইনি কলকাতার ছোট লালবাড়ি অর্থাৎ কর্পোরেসন বিল্ডিংয়ের শীর্ষপদে আসীন হয়ে ছিলেন, সম্ভবত সে জন্য বড় লালবাড়ি, মানে মহাকরণে কোনও ঘর তাঁর জন্য বরাদ্দ করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা না করলে কী হবে মন্ত্রী হতে চেয়ে ছিলেন শোভন। তৃণমূল কংগ্রেসে মমতার অতি-নিকটদের মধ্যে একজন ছিলেন যিনি তিনি শোভন, মমতার স্নেহের কানন। ‘ভাই’ কাননের প্রতি মমতার অধিকারবোধও ছিল চোখে পড়ার মত। কখনও তাঁকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিচ্ছেন সুইমিং পুলে কখনও আবার ধর্মতলায় তাঁকে মাঝরাস্তায় গাড়ি থেকে নামিয়ে দিচ্ছেন, বলছেন, যা, অফিস যা, কাজ কর! অফিস মানে কর্পোরেসন। জলে ফেলে দেওয়া বা গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে যাঁকে তিনি যে শুধু তাঁর ভ্রাতৃসম দলীয় নেতা নন তিনি যে কলকাতার মহানাগরিক, এসব ভাবার সময় কোথায় মমতার! ডেকোরাম তাঁর বড় একটা ধাতে সয় না! এমনকি বড়দিনের কেক নিয়ে কোনও সংবাদমাধ্যমের অফিসে যেতে হবে, যাবে কে? যাবে ওই কানন। ঢাউস কেক নিয়ে সংবাদমাধ্যমের দরজায় হাজির মহানাগরিক! তাঁর পদমর্যাদার কথা মাথায় রাখলে এই কাজ তাঁকে দেওয়া যে সমীচিন নয়, তা একটি শিশুও বোঝে। কিন্তু দলনেত্রীকে এসব বোঝাবে সাধ্য কার! মেয়রপদটি যেমন তাঁর দেওয়া, কেক বিলি করার দায়িত্বও তাঁরই দেওয়া! এমনকি মেয়রের গাড়ি শহরের সেই বাড়ির সামনেও যাচ্ছে, যেখানে দলের এক ‘চামচা’ স্তরের নেতা, যার বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ আছে, যিনি কিছুদিন পরেই সারধা মামলায় গ্রেফতার হবেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর নামে অপমানজনক কথা বলবেন! সেখানেও মমতার দুত মহানাগরিক!
এসবই কিন্তু প্রাক বৈশাখী যুগের ঘটনা।
মনোবিদরা বলতে পারবেন সেই সময় হাসি মুখে যে সব কাজ শোভন করেছেন কিংবা যেভাবে হাসিমুখে শোভন মেনে নিয়েছেন তাঁকে সুইমিং পুলে ফেলে দেওয়া বা গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অবচেতনে কোনও অপমান ছাপ ফেলেছিল কী না!
মন্ত্রী হওয়ার জন্য কম ‘সাধনা’ শোভনকে করতে হয়নি! এগারোর শপথ গ্রহনে, মমতা যাঁদের মন্ত্রীসভায় রাখবেন, তাঁদের সকলকে ধুতি পরে আসতে বলেছিলেন। তিনি মন্ত্রী হতে চান, শুধুমাত্র নেত্রীকে এটা বোঝাবার জন্য তিনি নিয়মিত ধুতি পরা শুরু করলেন। ধুতি আর তার সঙ্গে মহাকরণে হত্যে দিয়ে পড়ে থাকা। হত্যে দিলে নাকি দেবী সন্তুষ্ট হন! একদিন ‘দেবী’ বললেন তথাস্তু। মন্ত্রী হলেন শোভন।
সেই মন্ত্রীত্ব , সেই মেয়র পদ, সেই সবকিছু ভেসে গেল ঝড়ে। অনেকে বলছেন, প্রেমের ঝড়। সত্যিই কী তাই! রাজনীতির আঙিনায় কী এমন ঘটনা আর নেই! দেশে হোক বা বিদেশে, এমনকি এই রাজ্যেও কি এমন উদাহরণ আর মিলবে না? হাঁড়ির খবর রাখিয়েরা বলছে, মিলবে বই কি! ভুরি ভুরি মিলবে। তবু কেন শোভন? শোভন আর বৈশাখীর বিষয়টি নাকি নেহাতই অজুহাত। শোভন বিদায়ের আসল কারন ঢাকতেই নাকি প্রচারিত হচ্ছে শোভনের প্রেমের জোয়ারে ভেসে যাওয়ার গল্প। আসল কথা নাকি শোভনের সঙ্গে ঠিক বনিবনা হচ্ছিল না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
সে যাই হোক। আপাতত নবান্নে শোভনের জন্য নির্দিষ্ট ঘরে পড়ল তালা। তৃণমূলে আর কতদিন শোভন ? নবান্ন থেকে কর্পোরেসন , কর্পোরেসন থেকে কালীঘাট আর কালীঘাট থেকে বেহালা এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এই একটাই প্রশ্ন।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news