Breaking News
Home / TRENDING / অমিত শাহের সভায় গরহাজির থাকলেও, বিজেপিতেই শোভন-বৈশাখী

অমিত শাহের সভায় গরহাজির থাকলেও, বিজেপিতেই শোভন-বৈশাখী

নীল রায়।

অমিত শাহের (Amit Shah) সভায় দেখা যায়নি শোভন চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে! তারপরই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়, যোগদানের পর তৈরি হওয়া মনোমালিন্যতা বাড়ায় কী বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন শোভন-বৈশাখী। কিন্তু দিনের শেষে জানা গিয়েছে, কোনও অভিমান নয়, কিছুটা কৌশলগত কারণেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির সভায় গরহাজির ছিলেন তাঁরা। সম্প্রতি শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী (Subrata Baxi)। বিজেপিতে যোগদান সত্বেও ওই শীর্ষনেতা শোভনকে দলে ফিরে কাজ করার অনুরোধ করেছিলেন।

তারপর থেকেই জল্পনা চাউর হয়েছিল তাহলে কি গেরুয়া শিবিরের পাট চুকিয়ে আবারও ঘরে ফিরতে চলেছেন ‘দিদির কানন’! শোভনের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানাচ্ছে, তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়াতেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বে কয়েকজন নেতার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলেও এখনই দল ছাড়ার মতো পরিস্থিতি আসেনি বলেই জানাচ্ছে শোভনের ঘনিষ্ঠ বৃত্ত। তাই অন্তরালে থাকলেও আপাতত পদ্ম শিবিরের আশ্রয়ই শোভন চট্টোপাধ্যায় (Shovan chatterji) ও তাঁর বান্ধবীর কাছে শ্রেয় বলে মনে হয়েছে। অমিত শাহের সভায় অনুপস্থিত থাকা প্রসঙ্গে অবশ্য শোভন প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। এ প্রসঙ্গে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় (Baishakhi Banerjee) অবশ্য জানিয়েছেন,  ‘‘সোমবার আমন্ত্রণপত্র পাওয়ার আগে পর্যন্ত জানতাম না যে, আমন্ত্রণ আসবে। তাই আগে থেকেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ নির্ধারিত ছিল। তবু চেষ্টা করেছিলাম অমিতজির সভায় যাওয়ার। কিন্তু যেতে পারাটা যে কিছুটা অনিশ্চিত, সেটাও নেতৃত্বকে আগে থেকেই জানিয়ে রেখেছিলাম।’’

অভিনেত্রী তথা রায়দিঘির তৃণমূল বিধায়ক দেবশ্রী রায়ের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে শোভন-বৈশাখীর যে আপত্তি ছিল তা আপাতত ধামাচাপা পড়ে গিয়েছে গেরুয়া শিবিরে। এমতাবস্থায় আর রাগ দেখিয়ে পরিস্থিতি জটিল করতে নারাজ প্রাক্তন মেয়র। বিজেপির একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানাচ্ছে, কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের এক শীর্ষ নেতাই শোভনকে আপাতত দলীয় কর্মসূচি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রয়োজন হলেই স্বমহিমায় গেরুয়া শিবিরে দেখা যাবে কলকাতার প্রাক্তন মেয়রকে। কারণ বিজেপি-র ওই শীর্ষ নেতা জানেন কলকাতার রাজনীতিতে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের প্রভাব। সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা হাতের তালুর মত চেনেন তিনি। কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা মিলিয়ে মোট ৪২টি বিধানসভা আসন রয়েছে। ক্ষমতায় আসতে গেলে এই ৪২টি আসনের বেশিরভাগ জিততে হবে। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো একজন বলিষ্ঠ সেনাপতি থাকলে সেই লড়াইয়ে অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে বলে মনে করেন ওই শীর্ষনেতা।

তাই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো ঝানু রাজনীতিককে যথাসময় ব্যবহার করতে চায় বিজেপি। আপাতত অন্তরালে থেকেই নিজের রাজনৈতিক ঘুঁটি সাজাতে বলা হয়েছে বেহালা পূর্বের বিধায়ককে। বিজেপির এক রাজ্য নেতার কথায়, ঠিক সময় শোভনদা এলেই নিজের কাজ শুরু করবেন। এ বিষয়ে তৃণমূলকে না ভাবলেও চলবে।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *