নীল রায়:
বিজেপিতে যোগ দিলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক লাইভে বিষ্ণুপুরের এসডিপিও সুকোমল দাসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, তাঁকে কোণঠাসা করে বিষ্ণুপুর কিংবা আরামবাগ লোকসভায় প্রার্থী হতে চাইছেন এসডিপিও সুকোমল দাস। সেই সময়ও কাকপক্ষীতে টের পায়নি তাঁর শিবির বদলের ভাবনা। দিল্লি থেকে ফেসবুক লাইভে সৌমিত্র জানিয়েছিলেন, বুধবার বাঁকুড়া জেলায় ফিরে তিনি দেখা করবেন পুলিশ সুপারের সঙ্গে। অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর আপ্তসহায়ক গোপীকে ‘গুম’ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। শাসক দলের সাংসদের এমন অভিযোগে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল তৃণমূলের অন্দরে। যদিও বুধবার সকালে সৌমিত্র বাঁকুড়ায় ফিরলেন না। গেলেন সংসদ ভবনে, সঙ্গে একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যান তথা বর্তমান রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতা মুকুল রায়।

মঙ্গলবার ফেসবুক লাইভের আগে রাতেই মুকুলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন সৌমিত্র। ফোনে তাঁর সঙ্গে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহেরও কথা হয় বলে সুত্রের খবর। এদিন সকালে সংসদ ভবনে সৌমিত্রকে পাশে দাঁড় করিয়েই মুকুল জানিয়ে দেন, সৌমিত্র বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। যদিও, সৌমিত্র খাঁ-এর কাছে দলবদল কোনও নতুন বিষয় নয়। ২০১১ সালে কংগ্রেসের টিকিটে বাঁকুড়ার কোতলপুর থেকে বিধায়ক হন তিনি। ঘটনাচক্রে, ২০১৪ সালে রাজ্যসভা ভোটের আগে এই মুকুল রায়ের হাত ধরেই তৃণমূলে যোগ দেন। এবং বিধায়কের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূলের হয়ে বিষ্ণুপুরের লোকসভায় প্রার্থী হয়ে সাংসদ হন। কিন্তু তারপরেই বালি মাফিয়া চক্রের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের অভিযোগ ওঠে। এক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সৌমিত্রকে এ সমস্ত এবিষয় থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেন।
এদিন সৌমিত্রর দলবদলের খবরে এক তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “প্রত্যাশিতই ছিল। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে সৌমিত্র আসলে গুরুকে গুরুদক্ষিণা দিয়েছেন।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news