নীল রায়:
সৌমিত্র খাঁ-র বিজেপিতে যোগদানের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, এবার কে? কারণ সৌমিত্র স্বয়ং দাবি করেছেন, আরও ছ’জন তৃণমূলের সাংসদ বিজেপির দিকে পা বাড়িয়ে। এমত অবস্থায় তৃণমূলের অন্দরেই শুরু হয়েছে গুঞ্জন—কারা এই “গদ্দার”?
প্রসঙ্গত, মাস খানেক আগে বোলপুরের তৃণমূলের সাংসদ অনুপম হাজরা ফেসবুকে লেখেন, ২০১৯ সালে বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অসিত মালকে জয়ী করুন। অনুপমের কাণ্ডকারখানায় জেরবার তৃণমূল নেতৃত্ব যে আর লোকসভা ভোটে তাঁকে টিকিট দেবে না তা অনুপম নিজেই বুঝতে পেরেছিলেন। তাই আগভাগে সেকথা ঘোষণা করেন সাংসদ। আসলে তৃণমূল নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেশ কিছু সাংসদকে এবার টিকিট না দেওয়ার। তাঁদের মধ্যে সৌমিত্র-অনুপমর সঙ্গে নাম রয়েছে অভিনেতা তাপস পাল, অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায় ও মুনমুন সেনের। টিকিট নাও পেতে পারেন মথুরাপুরের সাংসদ চৌধুরী মোহন জাটুয়া ও যাদবপুরের সাংসদ সুগত বসুও। মনে করা হচ্ছে এই সব সাংসদদের সঙ্গে মুকুল রায় মারফত যোগাযোগ রাখছে বিজেপি। যার আভাস পাওয়া গেল সৌমিত্র খাঁ-র গেরুয়া শিবিরে যোগদানে। এসব কথা মাথায় রেখেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল।
বিজেপিতে যোগদানের পরেই সৌমিত্র খাঁ-কে বহিষ্কার করল দল। এ বিষয়ে তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আজ সকালেই আমরা ওকে দল থেকে বহিস্কারের চিঠি দিয়েছি। ওর সঙ্গে এমনিতেই দলের কোনও সম্পর্ক ছিল না। মানুষের সঙ্গেও কোনও রাখত না, কাজ ঠিকমতো করছিল না, ও জানতো ওকে লোকসভায় টিকিট দেওয়া হবে না। ওঁর মতিগতি বুঝে আজ সকালেই ওঁকে দল থেকে বহিস্কার করেছি।”
এক সময় কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে গিয়েছিলেন সৌমিত্র। এবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি যোগ দেওয়ায় বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানের কটাক্ষ, “তৃণমূল দেখুক কাদের দলে নিয়ে কংগ্রেসকে কমজোর করেছিল। এদের কোনও নীতি নেই, তৃণমূলও যেমন বিজেপিও তেমন।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news