মূল হিন্দি রচনা: শরদ জোশী
অনুবাদ: পার্থসারথি পাণ্ডা
শীত শেষ হবার ঠিক মুখটিতেই প্রতিবছর আসে পদ্মশ্রী বিলির মরশুম। আমার মনে হয়, ডিসেম্বরের শুরুতেই এটা বিলি করে দেওয়া উচিত ছিল, কারণ, এটা পাওয়ার গরমে প্রাপক এবারের শীতটা অন্তত বেশ আয়েশ করে কাটিয়ে দিতে পারতেন!
আর তাছাড়া, শরীরের তোয়াজ-তরিবত করার জন্য এই শীতকালটাই হল একমাত্র খাসা সময়। এই সুযোগে পদ্মশ্রীতে মধু মাখিয়ে যদি চাটা যায়, তাহলে একদিকে পদ্মশ্রী চাটাও হয়, অন্যদিকে এরসঙ্গে মধুও কিছু পেটে যায়; এতে করে লেহনকর্মের ফাঁকে ফাঁকে কিছু স্বাস্থ্যচর্চাও হয়! অবশ্য এই লেহ্যশীলতা লুকোতে এখন পদ্মশ্রীধারীরা যেখানেই যাবেন, সেখানেই হাজির হবেন জবরদস্ত একখানা শাল গায়ে। হয়তো একেই বলে, শালীনতা। আসলে, শাল-ইন হলে শীতও কাটে, সম্মানটুকুও বাঁচে–এই আর কি!
পদ্মশ্রী বিলির মরশুম এলেই আকাশ অংশত উজ্জ্বল হতে থাকে। কুয়াশারা একটু একটু করে ফিকে হয়। রেডিওর সিগন্যাল আরও তীক্ষ্ণতর হয়ে ওঠে, টিভির সম্প্রচারেও কোন বিঘ্ন ঘটে না!
পদ্মশ্রী যিনি পান, তাঁর চারিদিকে তখন শুধু মজা আর মজা। আত্মীয়স্বজনেরা যেন সব হামলে হাজির হয় তাঁর কাছে। তারা যেন এই অজুহাতটুকুই চাইছিল তাঁর কাছে আসার জন্য। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ছেলেপুলেদের পরীক্ষা শুরু হতে দু’একদিন মাত্র হাতে থাকে বলে, দূরের আত্মীয়রা ইচ্ছে থাকলেও এসময় আসতে পারে না। পরীক্ষার পর গরমের সময় তারা যখন আসার অবসর পায়, তখন ভুলেই যায় যে, লোকাল শুভেচ্ছার বদলে চা খাওয়াতে খাওয়াতে প্রায় ফতুর হতে বসেছে যে লোকটা, সে একদা পদ্মশ্রী পেয়েছিল! শ্রীমান পদ্মশ্রী হয়তো আশা করে অপেক্ষা করেন সামনের আত্মীয়টি তাঁকে শুভেচ্ছা জানাবেন, কিন্তু তখন এই ভুলো আত্মীয়টির জন্যই তাঁর সেই আশায় ফুস করে যেন একরাশ দুর্বিনীত ছাই পড়ে!
সরকার ওদিকে আনন্দেই আছে। কারণ, মুখরক্ষার খাতিরে এখনো পদ্মশ্রী লটকে দেবার মতো কিছু নাম ঠিক জুটে যায়। সমাজ-শিল্প-সংস্কৃতির ডাস্টবিন ঘাঁটলে বেশকিছু যোগ্য নাম অবশ্যই পাওয়া যায়, যাদের পদ্মশ্রী দেওয়াই যায়। এঁদের মধ্যে এমনও কিছু লোক আছেন, যাঁরা পদ্মশ্রী ছাড়া আর অন্যকিছুর যোগ্যই না। যেমন ধরুন, কেউ দারুণ নাচিয়ে। নাচতে নাচতে সে এমন ইমেজ বানিয়ে ফেলে যে, সবারই ধারণা হয় নাচার মতো পরিস্থিতি হোক বা না-হোক, সে নাচবেই! তখন তাকে পদ্মশ্রী দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না; নইলে সে আরও বেশি বেশি করে নাচবে। এখন তার নাচ দেখার চেয়ে, তাকে পদ্মশ্রী দিয়ে দেওয়াই ভালো নয় কি! অবশ্য, পদ্মশ্রী পাওয়ার পরও কিছুদিন সে নিজের তালে তুর্কিনাচন নাচবেই! কিন্তু তখন তাকে অনায়াসেই দাবড়ে দেওয়া যায়, এই, পদ্মশ্রী তো দিয়ে দিয়েছি, তাহলে আবার নাচন-কোন্দন কেন! চুপ করে বসো!
তবে, আশার কথা যে, পদ্মশ্রী পাওয়ার পর কেউ আর তেমন কাজের লোক থাকে না। পদ্মশ্রীও কাউকে কাজের লোক হয়ে থাকতে দেয় না। তাই যে লোকটা পদ্মশ্রী পাওয়ার পর আর কিছু করছে না, তাকে বরং সম্মান জানাতে আর একটা পদ্মশ্রী দেওয়া উচিত!
এই মরশুমে করার মতো এর চেয়ে বেশি কিছু নেই। ঠাণ্ডা হাওয়ার সাথে সমানে মিশে চলেছে অল্প অল্প আর্দ্রতা! এই অবস্থাতেও সরকার নিজের কাজটি ঠিক করে চলেছে। তাতেই পদ্মশ্রীপ্রাপক সময়ে পদ্মশ্রী পায়। তার শীতের বাগানে যেন বসন্ত আসে। জীবন হয়ে ওঠে পরিপূর্ণ! সেই পূর্ণতা নিয়ে কোমরে পদ্মশ্রীর তাবিজ বেঁধে, সে গান ধরে, দিগন্তের– শেষের দিনে সে জন বিনে!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news