ওয়েব ডেস্ক:
দুর্গাপুর, ১ অক্টোবর:
‘মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি’ উপন্যাসে ‘লামড়ো’র (লাউ আর কুমড়ো=লামড়ো) কথা লিখেছিলেন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। বাস্তবে তাই ঘটবে কে জানত! এ অবশ্য ফল ‘লামড়ো’ না, বরং গাছ ‘লামড়ো’ ।
সাধ করে বাড়ির সামনের ফাঁকা জমিতে কুমড়ো চাষ করেছিলেন সম্পন্ন চাষি স্বপন সানা। পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ের এই চাষির ইচ্ছা ছিল দুর্গা পুজোর অষ্টমীর দিন পুজো দিয়ে দুপুরে বাড়ির সকলে মিলে গরম গরম লুচি আর নিজের চাষের কুমড়োর ছক্কা খাবেন। কিন্তু সেই সাধ পূরণ হল না মোটেই। কারণ এক আশ্চর্য কাণ্ড, যে কাণ্ড দেখতে এখন প্রতিদিন মানুষের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে স্বপন চাষিকে। কিন্তু কী দেখতে লোকে ভিড় করেছে স্বপনের বাগানে? ওই কুমড়ো গাছ দেখতে। কিন্তু কেন? কারন নামেই কুমড়ো গাছ। বাস্তবে সেই গাছে ফলেছে লাউ। এই অদ্ভুরে সংবাদ চাউর হতেই শক্তিগড়ে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রতিদিন শয়ে শয়ে লোক সানা বাড়িতে ছুটে যাচ্ছে ‘লাউ-কুমড়ো’ গাছ একবার সচোক্ষে দেখতে।
স্বপন সানার বক্তব্য, বাড়ির সামনের ফাঁকা জমিতে কুমড়ো গাছের বীজ পুঁতেছিলাম। গাছের যত্ন করায় গোটা জমি জুড়ে লতানো কুমড়ো গাছ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু যেদিন ‘কুমড়ো ফলন দেখতে জমিতে যাই। চোখ কপালে উঠে যায় আমার। গিয়ে দেখি কুমড়ো গাছে ফলেছে লাউ!’
স্বপন বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম কুমড়ো জমিতে হয়ত লাউগাছও রয়েছে। কিন্তু গোটা জমি তন্ন তন্ন করে খুঁজেও একটিও লাউগাছ পাইনি। সবই কুমড়ো গাছ। তখনই নিশ্চিত হলাম একই গাছে কুমড়োর সঙ্গে লাউও ফলেছে।‘ স্বপন বাবু আরও বলেন, ‘কি কারণে কুমড়ো জমিতে লাউ ফলল তা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছি না।’
বর্ধমান সদর ২ ব্লকের কৃষি অধিকারিক সৌমেন ঘোষ এ বিষয়ে বলেন, ‘সাধারণত জেনেটিক্যাল মডিফায়েডের কারণে এই ধরনের পরিবর্তন হতে পারে। তবে বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে হবে।’
সে যাই হোক, আসল কথা হল কেবল গল্প কথায় না, বাস্তবেও তাহলে ‘লামড়ো’ গাছ, মানে লাউ আর কুমড়োর যুগলবন্দি গাছ হতে পারে। আরও একটা প্রশ্ন, ‘লামরো’ গাছে কি কুমড়ো ফলবে আর? যদি না ফলে, তাহলে স্বপন সানার আষ্টমীর কুমড়োর ছক্কার কী হবে!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news