পার্থসারথি পাণ্ডা :
আজকের মতোই রমজানের চাঁদ সেদিনও পায়ে পায়ে এগিয়ে এসেছিল কৃষ্ণপক্ষের গায়ের সঙ্গে গা মিলিয়ে গলাগলি করতে। পক্ষপথের অনেকটা বাঁক হেঁটে হেঁটে সে তখন কাস্তের ফলার চেয়েও ক্ষীণ কৃশ। তবু যেন কীসের প্রতীক্ষায় চেয়ে ছিল সে, দু’চোখে তার অগাধ আলো। সেই আলো চুঁইয়ে পড়ছিল নূর পর্বতের গা বেয়ে, চুঁইয়ে পড়তে পড়তে থমকে দাঁড়ায় এসে হোরা গুহার ঠিক মুখে। গুহার ভেতর ধ্যানমগ্ন সত্যসন্ধানী হজরত মহম্মদ। তাঁকে একটু দেখার বড় বাসনা তার। সেখানে রাঙাভাঙা চাঁদ ছাড়া আরও একজন ছিলেন প্রবল প্রতীক্ষায়। তিনি আল্লাহর দূত জিব্রাইল। তিনি প্রতীক্ষা করছিলেন আল্লাহর নির্দেশের। কয়েক প্রহরের অনন্ত অপেক্ষার পর এলো সত্যজ্ঞাপনের মাহেন্দ্রক্ষণ। তখন আল্লাহ্ নির্দেশ দিলেন। সেই নির্দেশ মাথায় নিয়ে নবীর সামনে আগুনের পাখা বেয়ে এসে দাঁড়ালেন জিব্রাইল। তিনি নবীকে দিলেন পবিত্র কোরাণের প্রথম পাঠ। ‘ইক্রা বি ইম্মি রব্বিক’– বললেন, ‘আল্লাহ্র নামে পাঠ কর’। সালতামামির হিসেবে সেটা ৬১০ খ্রিস্টাব্দ।
তারপর দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে জিব্রাইলের কাছ থেকে নবী নিয়েছেন ঈশ্বর প্রেরিত পবিত্র গ্রন্থের সত্যপথের পাঠ। যা সংকলিত হয়ে প্রণম্য হয়েছিল ‘কুরআন শরীফ’ নামে। জিব্রাইলের দেওয়া শেষতম পাঠটি ছিল, ‘রব্বিকল অক্রাম’— ‘ প্রভু তুমি অত্যন্ত মহান’। এই পাঠ সাধারণের মাঝে প্রচারের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছিল নবীর কাজ। তেষট্টি বছর বয়সে তিনি লোক-দেহ রেখে পাড়ি দিয়েছিলেন তাঁর প্রিয়তম আল্লাহ্র কাছে।
রমজানের যে রাতটিতে প্রথম কোরাণের বাণী আবির্ভূত হল, সেই রাতটিকেই বলা হয় ‘শব ই কদর’। কথাটির মানে ‘সম্মানীয় রাত বা পবিত্র রাত’। স্বয়ং আল্লাহ্ বলেছেন যে, এই রাতে যাঁরা আল্লাহ্র উপাসনায় জাগরণে সমস্ত রাত কাটাবেন, তাঁরা হাজার রাতের উপাসনার পুণ্য সঞ্চয় করতে পারবেন। এ যেন ঠিক হিন্দুধর্মের শিবরাত্রিতে ভগবান শিবের উপাসনায় রাতজাগা অক্ষয় পুণ্যসাধনার মতো। আসলে সব ধর্মের মূল কথাই কিন্তু ওই সত্যসুন্দরের সন্ধান, শুধু ভজনার আচারটুকুর যা ফারাক…সেই যে এন্টনি কবিয়াল গেয়েছিলেন না, ‘অন্তিমে সব একাঙ্গী’–শুরুতেও তাই, সেটাই সারসত্য…
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news