চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো:
গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সৈন্যদের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি ও আরএসএস (RSS)-কে একযোগে আক্রমণ করলেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংহ। আজ এক সরকারি বিবৃতিতে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চিনের সৈন্যদের ওপর কেন গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
১৫ জুন লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় জওয়ানদের ওপর পাথর, কাঁটা লাগানো রড ও লাঠি দিয়ে নৃশংসভাবে হামলা চালিয়েছে চিনা সৈন্যরা। এই ঘটনায় ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হয়েছেন। আজ এ প্রসঙ্গে অমরিন্দর সিংহ বলেন, “কেউ কেউ নিজের কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে। জওয়ানদের মারার সময় অন্য জওয়ানরা কোথায় ছিলেন। তাঁরা কেন গুলি চালাননি।” পাশাপাশি সঙ্ঘের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার যদি চিনাদের সঙ্গে মুষ্টি যুদ্ধ বা লাঠির লড়াই করতে চায় তবে আরএসএস ক্যাডারদের যুদ্ধে নামাতে পারত। সেনাবাহিনীকে প্রয়োজন ছিল না।” তবে অমরিন্দরের এই মন্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির সর্বভারতীয় এক মুখপাত্র বলেন, দেশের কঠিন সময়েও রাজনীতি করছে কংগ্রেস। চিনের কিভাবে মোকাবিলা করা যায় সে জন্য সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি এইসময় রাজনীতি করছে না। তাই কারও রাজনীতি করা উচিত নয়।
একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “পুরুষদের যা দরকার তা হল অস্ত্র। এবং যে কোনও মূল্যে দেশকে রক্ষা করার জন্য অস্ত্রের ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া প্রয়োজন।” তবে সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সমস্ত বাহিনীই সশস্ত্র ছিল। ১৯৯৬ এবং ২০০৫ সালে ভারত-চিন চুক্তির অনুসারে এই অঞ্চলে অস্ত্রের ব্যবহার করা হয়নি। এর পাল্টা হিসেবে অমরিন্দর যুক্তি দেন, এই চিনরাই প্রথম করেছে। তাই সেনাবাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের উচিত গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, আজ দেশ জানতে চায়, আমাদের সৈনিকদের সেভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় সেভাবে প্রতিশোধ নিতে পারেননি কেন তাঁরা। গুলি বহন করে দাঁড়িয়ে আছে অথচ না চালিয়েই প্রাণ হারাচ্ছেন।
অমরিন্দরের মতে, সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র সৈন্যদের সামনের সারিতে রাখা উচিত। এবং তাঁদের পরিষ্কার ভাবে বলা উচিত আমাদের একজনকে মারলে ওদের তিন জনকে মারতে হবে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news