দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়
:
ফেসবুক যেন নন্দ ঘোষ। তার ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বাদুড়িয়ার আসল সমস্যা থেকে প্রশাসন কী মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে নিতে চাইছে ? সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছে এই প্রশ্ন। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের পূর্বাঞ্চলীয় শাখার নেতা ড. জিষ্ণু বসুও একই প্রশ্ন তুলেছেন। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত দেখে কলকাতার অনেকেরই মনে পড়ে যাচ্ছে মোল্লা নাসিরুদ্দিনের একটি বিখ্যাত গল্প। নাসিরুদ্দিনের একবার একটি চাবি খোয়া গিয়েছিল। তিনি তাঁর সাধের বাগিচায় সেটি তন্ন তন্ন করে খুঁজছিলেন। তাঁকে এমনভাবে কিছু খুঁজতে দেখে পথচলতি একজন জিজ্ঞাসা করলেন, মোল্লা সাহেব কি খুঁজছেন অমন করে? মোল্লা বললেন, চাবি খুঁজছি মিঞা। পথিকের প্রশ্ন, কোথায় হারালেন চাবি? মোল্লার উত্তর, ঘরে। পথিক- ঘরে হারিয়েছেন যখন তবে বাগিচায় খুঁজছেন কেন? মোল্লার অমায়িক উত্তর, ঘরে যে আলো নেই। সেখানে খোঁজা যাচ্ছে না। বাগিচায় আলো আছে তাই বাগিচায় খুঁজছি। যেখানে খোঁজা যাবে সেখানেই তো খুঁজব।
রাজ্যের প্রশাসনও সম্ভবত নাসিরুদ্দিনের যুক্তিকেই শ্রেয় মনে করেছেন। গোটা ঘটনায় ভিলেন বানানোর জন্য ফেসবুককেই সহজে বেছে নিয়েছেন তাঁরা।
তবে প্রশ্ন পিছু ছাড়ছে না। ড. জিষ্ণু বসু প্রশ্ন তুলেছেন, কালিয়াগঞ্জ, ধুলাগড়, দেগঙ্গার ঘটনায় তো ফেসবুক ছিল না। তাঁর কথায়, ‘ সরকারের এই সিদ্ধান্ত ধর্ষকদের সুবিধে করে দিচ্ছে।’ কীরকম? জিষ্ণুর ব্যাখ্যা, মেয়েদের ছোট পোশাককে অনেকে ধর্ষণের কারণ বলে মনে করেন। তাঁরা বলেন মেয়েদের ছোট পোশাক ধর্ষকদের প্ররোচিত করে। এভাবে ধর্ষকদের অপরাধ খাটো করে দেখান এক শ্রেণির মানুষ।’ জিষ্ণু বসুর মতে, ফেসবুককে দোষী সাব্যস্ত করে ঠিক একইরকম মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে সরকার। ফেসবুকে একটি নাবালক প্ররোচনা দিল আর একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল নৈরাজ্যে মুড়ে দিল এক শ্রেণির জনতা!
অন্যদিকে ইন্টারনেট পরিষেবা বিভিন্ন জায়গায় বন্ধ থাকায় অসুবিধায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে জরুরি কাজ।
তবে প্রশাসনের কাছে এই ব্যাপারে এখনই কোনও বিকল্প নেই বলেই জানানো হয়েছে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news