Breaking News
Home / TRENDING / রবিবারের গুচ্ছ কবিতা: সবর্না চট্টোপাধ্যায়

রবিবারের গুচ্ছ কবিতা: সবর্না চট্টোপাধ্যায়

 সবর্না চট্টোপাধ্যায়

 

আমাকে একটা রাত্রি দিও

আমাকে একটা রাত্রি দিও, প্রেম

এক বুক জল ঢেলে দেব পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে

ঝরণা হয়ে ঝরবে চাঁদের কথাকলি

এমন এক রাত্রি…

বুনো ঘাসের গন্ধে মাতাল দলমারা জল ছুঁড়বে

শুঁড়ে…

আঠাশ বছর যে দুটো ঠোঁট আগুন ছড়িয়েছে

শহরের দু’ প্রান্তে, সে রাত্রি মিশে যাবে বরফ ও লেবুজলে…

সময় কুচিয়ে রেখেছে যে মাংসের কিমা

আমাকে সে রাত্রি বেড়ে দেবে শুধু দু’মুঠো ফ্যানভাত…

জ্বলতে জ্বলতে কত খিদে নিয়ে পার করেছি

ধূসর মরুঝড়!

 

সে রাত পৌঁছে দেবে ঈশ্বরের দরজায়

মাথা পেতে বিছিয়ে নেব ঘুম। তরুণ মাদুরকাঠির গন্ধ আসবে ভেজা লোমের শিশির হয়ে…

আমরা লিখব কিভাবে বিচ্ছেদেরও নাম হয়

ভালোবাসা!

………………..

 

আইসক্রিম

টুপি খুলে রাখো। আমি ছাতা।

মুখোমুখি সানগ্লাস…

হয়তো আড়াল করছে মেঘ কিংবা আসন্ন ঝড়…

কথা ডুবে আছে কফির ফ্লেভার…

আমি ‘জুস’!

এগিয়ে দিচ্ছ একগ্লাস প্রশ্ন। উত্তর দিচ্ছি নিশ্চুপ।

 

হাত রাখো স্ট্র-এ। পুড়ে যাচ্ছে পিঠ

ঘামে সপসপে নতুন ব্রা

শক্ত হয়ে উঠি ।

তুমি তো আরও তরুণ…

গুলে চলেছ অগুনতি চিনি

আর আমি নির্বিকারে গিলে নিচ্ছি বিষ!

 

যদি এভাবেই থমকে যায় শহর

পিছিয়ে যায় রাত

সমুদ্র ফুঁড়ে উঠে আসে সাদা কেশরের তেজী ঘোড়া

তারপর এই কফিশপে তছনছ হবে সাজানো দেয়াল

ভাঙবে দামী দামী কাপ ডিশ

সারা টেবিল কবজা করবে আমাদের পঁচিশ বছর

 

আর সানগ্লাস দুটো মুখোমুখি… ঝগড়া করব একটাই আইসক্রিমের জন্য!

 

উজ্জ্বল

ঘুম থেকে জাগছে উনুন। উসকানি দিচ্ছে যে ছেলে, আমি শুধু জানতে চেয়েছি ‘কোন ক্লাস’!

ছেঁড়া জামার ভেতরে সে দেখাল একটা ম্যাপ।

আল পথে এগিয়ে চলেছি তারপর…

বেতের ঝুড়িতে চিঁ চিঁ করছে আরও সাতটা মুরগির ছানা…হাঁড়িতে মাছি পড়া ভাতের ফ্যান।

 

আঙুলে ছ্যাঁকা লাগে। ধোঁয়ায় জ্বলে চোখ। চারঘন্টা নোনা জলে চুবিয়ে রেখেছি প্রেম। তোমাকে হারিয়ে যতবার জিততে এসেছি রেসের মাঠ, খানকি মাটিতে ছুটেছে ঘোড়া!

 

অথচ টিনের চাল, লকলকে লাউডাল, কুমড়ো ফুল, দেখিনি। দেখিনি ছই আর জেলের ছেলে উজ্জ্বল।

 

সে তো দানা নিতে আসে রোজ চার ক্রোশ দূরে। কয়লার আঁচে সেঁকে নেয় সমস্ত অক্ষর। তারপর

ঢেলে দেয় ঘাম গ্লাসে গ্লাসে…

সপ্তাহ শেষে মা’কে তুলে দেয় হাসি ! আর আমি দেখি ছেঁড়া বোতামের ফাঁকে ধকধক করছে বাংলার অভুক্ত কঙ্কাল !

 

ফেরারি

ছেলেটা চলে গেল। তিনটেয় ফ্লাইট। এখানে রাত হলে ওখানে দিন। তারপর আরও একা হয়ে যাওয়া…

অথচ ভিড়ে মিশে যেতে হবে। তখন সূর্যাস্ত হবে

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে…

কত ঠোঁট ডুবে যাবে। কত ঘ্রাণ ঘামের সাথে…

 

আমরা ফিরব না আর এঁদো গ্রামের

অন্ধকারে। লোডশেডিংয়ে হাতে পাখা…

ঘামতে ঘামতে, সারারাত, ঘুম পারাব না !

 

অথচ আমাদের দেখা হবে…  দিল্লি থেকে আমেরিকা। কিংবা কলকাতা থেকে অস্ট্রেলিয়া। তুমি ক্যাঙ্গারুর সাথে সেলফি দেবে… আমি কাঙালের সাথে…

তুমি হোয়াইট হাউজের সামনে গিয়ে অবাক হবে

যেভাবে আমি, ফুটপাতে ভাত ফুটতে দেখে হই!

 

আমাদের দেখা হবে…তর্কে বিতর্কে। আর ভেতরে আরও একা হয়ে যাব…

 

অথচ ট্যাংরার ঝোল তো দুজনেরই বড় প্রিয় ছিল!

Spread the love

Check Also

মনের মত যৌতুক পেলে বিয়ে করতে রাজি ছিলেন বাজপেয়ী

নিজস্ব প্রতিনিধি। বিয়ে করতে রাজি ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ি। কথাটা শুনলে হয়ত চট করে হজম …

স্ত্রী গর্ভবতী থাকাকালীন ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, মৃত্যু দণ্ড দিল আদালত

নিজস্ব প্রতিনিধি। পাঁচ বছরের মেয়েটাকে যখন ফুটপাথ থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে খুন করা …

নতুন ভারতে সাধারণ ব্যবসায়ীও ধীরুভাই হয়ে উঠতে পারবে : মুকেশ আম্বানি

নিজস্ব প্রতিনিধি : ভারতবর্ষ দ্রুত গতিতে সোনালী অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। এই গতিতে অর্থনীতির বিকাশ হলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *