Breaking News
Home / TRENDING / মীরের রসিকতা তাঁর কাছে ছিল দ্রৌপদীর অপমানের সামিল, বলেছিলেন ঋতুপর্ণ

মীরের রসিকতা তাঁর কাছে ছিল দ্রৌপদীর অপমানের সামিল, বলেছিলেন ঋতুপর্ণ

সুমন ভট্টাচার্য :

‘ভরা রাজসভায় দ্রৌপদীকে যখন অপমান করা হয়েছিল, তখন কেমন লেগেছিল তাঁর মনে?’
একটু উত্তেজিত গলায় যিনি কথাটা বলছিলেন, তিনি একটু আগে অমিতাভ বচ্চনকে চিত্রনাট্য শুনিয়ে এসেছেন। কিন্তু তবু এত রাগ, এত উষ্মা, মুম্বইতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গেস্ট হাউসেও তাঁর কপালের ঘামগুলো দেখতে পাচ্ছিলাম। ‘সায়েন্স সিটির মঞ্চে আমাকে নিয়ে মীর যখন ওই রসিকতাগুলো করছিল, তখন আমারও দ্রৌপদীর মতো মনে হয়েছে। ভরা কৌরব রাজসভায় তাঁকে যে অপমান করা হয়েছিল, সেগুলোই যেন আমার গায়ে এসে বিঁধেছিল। মনে রাখিস, সেদিন সায়েন্স সিটিতে আমার পিছনের সারিতে বাংলার সব নামী পরিচালক বসেছিল। কেউ কিন্তু কোনও প্রতিবাদ করেনি। সবাই ধৃতরাষ্ট্র, ভীষ্ম হয়ে গিয়েছিল।’ তিনি ঋতুপর্ণ ঘোষ। অনেক বছর আগে, তাঁর বলা কথাগুলো আবার বৃহস্পতিবার দুপুরে ফিরে এল সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর। বেঁচে থাকলে নিশ্চয় ঋতুদা আজকে সবচেয়ে খুশী হতেন। হয়তো প্রথম ট্যুইটটা আসত তাঁর কাছ থেকেই।
ঋতুপর্ণ ঘোষ বিশ্বাস করতেন ‘মহাভারত’ই আজকের ভারত, অর্থাৎ যা মহাভারতে নেই, তা ভারতবর্ষে হওয়া কঠিন। সেইজন্যই সমকাম প্রেমের আন্দোলন ভারতবর্ষে এত ধাক্কা খাচ্ছে বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। মাঝেমাঝে মনে করিয়ে দিতেন, শিখন্ডীকে মহাভারতে বা এমনকি কুরুক্ষেত্রেও কত ‘কিছু’ সহ্য করতে হয়েছিল। সারাজীবন ধরে যিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন ভারতে ৩৭৭ ধারা বাতিল হবে, সেই স্বঘোষিত ‘রূপান্তরকামী’ ২০১৮-র ৬ সেপ্টেম্বর দেখে যেতে পারেননি। কিন্তু বেঁচে থাকলে তিনি নিশ্চয় আজ বলতেন, শিখন্ডীর মতোই সব অপমান, সব লাঞ্ছনা সহ্য করেও এই দিনের জয়টা তাঁদের প্রাপ্য ছিল।
ছোটবেলায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য পড়ার সময় আমাদের সফো-র কবিতা পড়তে হতো। লেসবোসের রানি সফো, প্রাচীন গ্রিসের রাজ্যের নাম এবং সেই রাজ্যের রানির সমকাম প্রেম থেকে লেসবিয়ান শব্দটা এসেছে। সফো-র কবিতা পড়ার সময় থেকেই কেমন যেন বুঝতে পারতাম এই প্রেমে যন্ত্রণা এবং সুখ দুটোই কোথায় যেন লুকিয়ে আছে। আরও পরিস্কার করে ঋতুদা যখন পরে বলতেন, যে প্রেমে ভবিষ্যতের প্রজন্ম তৈরি করে যাওয়ার কোনও ‘দায় অথবা দায়িত্ব’ কোনোটাই নেই, সেখানে প্রেম কতটা তীব্র হলে দুজন সমলিঙ্গের মানুষ সম্পর্কটাকে টিঁকিয়ে রাখার জন্য চেষ্টা করে যেতে থাকেন। আসলে তো ‘চেষ্টা’ নয় এটা একটা সংগ্রাম, সমাজের চোখরাঙানিকে উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে থাকার লড়াই। আমাদের সমাজ যেখানে ‘অপরিচিত’ কিছু দেখলেই তাকে অপছন্দ এবং বাতিল করে দিতে চায় সেখানে সমকাম তো একটা লড়াই ছিল বটেই। প্লেটো, হ্যাঁ, বিখ্যাত গ্রীক দার্শনিক প্লেটোর কথাই বলছি। প্লেটো, সফো এবং হাল আমলের ঋতুপর্ণ ঘোষের সেই লড়াই আজকের ভারতে অবশেষে আইনি বৈধতা পেল।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *