রণবীর ভট্টাচার্য :
গতকাল দেশ জুড়ে মানুষ একান্তে দুঃখ করেছে ইরফান খানের চলে যাওয়া নিয়ে। সেই দুঃখ শুধু নায়কের চলে যাওয়া নয়, বরং ব্যক্তিগত ক্ষতি আপামর দর্শককুলের। চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না
কাটতেই, আরো একটা দুঃসংবাদ – বর্ষীয়ান অভিনেতা ঋষি কাপুর তথা বলিউডের আদরের চিন্টু স্মৃতির ঝাঁপি ক্যান্সারের কাছে রেখে দিয়ে চলে গেলেন। খবরটা বিশ্বাস হয়নি, মনে হল টুইটারে ওনার প্রোফাইলে দেখে আসি, এটা ওনার নিছক মজা করা নয় তো! ততক্ষণে অবশ্য শাহেনশাহ চোখের জলে জানিয়েছেন যে আকবর অমরের কাছে চলে গিয়েছেন অ্যান্টনিকে একা রেখে!
বেশিদিন নয়, টুইটারের বেতাজ বিদ্রোহী বাদশা ঋষি কাপুর এই এপ্রিলের শুরুতেই জানিয়েছিলেন যে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইটা একসঙ্গে জিততে হবে। কিন্তু কে জানত যে ‘মেরা নাম জোকারের’ সেই স্বপ্নালু চোখের রাজুর এত তাড়াহুড়ো ছিলl কাপুর পরিবার ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির বটগাছ আর ঋষি ছিলেন সবার থেকে অন্যরকম। আগের প্রজন্মের রাজ, শাম্মী, শশী কাপুরের মত অাভিজাত্য না থাকলেও, পর্দায় অভিনয়ে কারোর চেয়ে কম ছিলেন না। আর যাই হোক, কাপুর পরিবারের ব্যাটন ছিল তাঁর হাতে।
ভারতীয় সাদা কালো সংসার জীবনে ঝড় তুলেছিলেন ডিম্পল কাপাডিয়ার সাথে ‘ববি’-তে। যৌনতা ও ভালোবাসা পেয়েছিল নতুন বলিউডি উপস্থাপনা। একদিকে সেখানে ছিল সাহস আর সঙ্গে ভুবন ভোলানো হাসি, ঋষি কাপুর মানেই ছিল ভালোবাসার ককটেল। ভুললে চলবে না, সেই সময় সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে রাজেশ খান্না, অমিতাভ বচ্চন, বিনোদ খান্না, ধর্মেন্দ্রের মত স্টারের সঙ্গে । তাই ৫১টি সিনেমায় নিজে একা হিরো হিসেবে থাকলেও, বক্স অফিসে সাফল্য দেখেছিলেন মাত্র ১১টি সিনেমায়।
অভিনেতা হিসেবে ঋষি কাপুরের সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট ছিল নিজেকে মানিয়ে নেওয়া। তাই আশির দশকে যখন দুই ভাই কিংবা দুই বন্ধুকে নিয়ে সিনেমা তৈরির ট্রেন্ড শুরু হল, সেখানে মানিয়ে নিয়েছিলেন নিজেকে। আবার নিজের চেয়ে অনেক ছোট শ্রীদেবী, জুহি চাওলার সঙ্গে সাবলীলতার সঙ্গে অভিনয় করেছেন যা দেখেছি চাঁদনি, বোল রাধা বোলের মত সিনেমায়। তারপর নিজেকে এক সময়ে চরিত্র অভিনেতা রূপে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ভিলেন হিসেবেও তুলে ধরেছেন আর আমরা চমকে গিয়েছি নতুন অগ্নিপথের রউফ লালার চরিত্রের ভয়ানক অবতারে।
খ্যাতি দেখেছেন, নিজের ছেলে রণবীর কাপুরের জনপ্রিয়তা দেখেছেন আবার দুর্নামও কুড়িয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘যা বলার নয়’ তা বলে। কাপুর পরিবারের নিরিখে হয়তো ওনাকে অভিনেতা হিসেবে বেশি নম্বর দেওয়া যাবে না, কিন্তু যদি দুই যুগের কথা বলা হয়, তাহলে ওনার কথা বলতেই হবে। রাজেশ খান্নার জমানা থেকে ভিকি কৌশল – ঋষি কাপুর ইতিহাস তৈরি হওয়া দেখেছেন, নিজের মত করে তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়েছেন।
সেই গোল গলা লাল সোয়েটার আর অজস্র পুরষ্কার থেকে যাবে, আর উদ্দাম যৌবনের ঠিকানা লেখা সিনেমা – ঋষি কাপুর থেকে যাবেন এক হারিয়ে যাওয়া দশকের উজ্জ্বল প্রতিভা হিসেবে। ‘কার্জের’ মত তার পুনর্জন্ম হবে কিনা জানা নেই, তবে শেষ বারের মতো ব্যাট করতে গিয়ে তার আর ১০২ নট আউট থাকা হল না, তার আগেই সাজঘরে ফিরতে হল ভালোবাসার রাজপুত্রকে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news