পার্থসারথি পাণ্ডা : 
মহাপ্রভু তখন রাধাভাবে মাতোয়ারা। সেই ভাব নিয়ে পাড়ি দিলেন পুরীধাম । জগন্নাথের মন্দির তাঁর কাছে ব্রজধাম। আর গুণ্ডিচা হয়ে উঠল বৃন্দাবনধাম। সেখানেই তো তাঁর অন্তরসত্তা রাধারানীর বাস। কিন্তু একদিন গুণ্ডিচায় পৌঁছে দেখলেন সেখানে বড্ড নোংরা, চারিদিকে শুকনো পাতা, ঘাস আবর্জনা । রাজার নফর-চাকর আছে পরিস্কার করার জন্য, কিন্তু ফাঁকি দেওয়া তাদের চিরকালের স্বভাব। রাজা তো আর রথের আগে গুণ্ডিচা দেখতে আসেন না, তাই তাদের পোয়াবারো। রথের আগে যেমন তেমন করে পরিস্কার করে দিলেই চলবে।
রাজা না হয় এসব দেখতে পান না, কিন্তু মহাপ্রভু এসব দেখে কেমন করে চুপ করে থাকেন! তাঁর কাছে গুণ্ডিচা তো বৃন্দাবন, রাধারানীর বাড়ি, সেখানে রথের সময় তাঁর প্রাণপ্রিয় জগন্নাথ আসবেন যে! কিন্তু এমন নোংরা হয়ে থাকলে সেখানে তাঁরা থাকবেন কেমন করে? তাই সেই বৃন্দাবন পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ভার তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। রাজা প্রতাপরুদ্রর কাছ থেকে চেয়ে নিলেন ঝাঁটা আর কলসি। সেই থেকেই এই ‘স্বচ্ছ গুণ্ডিচা অভিযান’ তাঁর প্রাত্যহিক কর্মে পরিবর্তিত হল।
মহাপ্রভু পুরীধামে আসার আগে রথযাত্রা নীরস শোভাযাত্রামাত্র ছিল। তখন জগন্নাথের সেবায়েত দয়িতরা দারুমূর্তি দড়ি আর রেশমের কাপড় বেঁধে রথে তোলার সময় নানান কু-ভাষার কোরাস লাগাত। জগন্নাথের মা বাপ, জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে নানান কুরুচিপূর্ণ কথা বলত। কোন ভারি জিনিস অনেকে মিলে তোলার সময় মজুরেরা যেমন বলে আর কি! কিন্তু মহাপ্রভু পুরীধামে আসার পর সেখানে খোলের তাল আর মৃদঙ্গের বোলে কীর্তন আর ভাবনৃত্যের রঙ লাগিয়ে দিলেন। এমনকি, রথ যখন পথে নামত, তখন তিনি তাঁর পার্ষদদের চারটি দলে ভাগ করে নৃত্যগীতের জন্য স্থাপন করতেন রথের ডায়েবাঁয়ে সামনে পিছনে স্থাপন করতেন। আর নিজে জগন্নাথপ্রেমে মাতোয়ারা হয়ে নাচেগানে মেতে উঠতেন সবার মধ্যমনি হয়ে। পথজুড়ে তখন যেন দেখা যেত বৃন্দাবনের রাসমণ্ডলের শোভা। পথের দুপাশে, রথের পেছনে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়। সামনে রথের রশিতে হাজার হাজার মানুষের হাতের টান। সে এক দেখার মতো দৃশ্য ।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news