Breaking News
Home / TRENDING / সাত মণ তেল পুড়ল তবু প্রধানমন্ত্রী পদে কেউ মমতার নাম বলল না!

সাত মণ তেল পুড়ল তবু প্রধানমন্ত্রী পদে কেউ মমতার নাম বলল না!

রন্তিদেব সেনগুপ্ত:

আজকের ব্রিগেডে আসলে লোক ডেকে মোদীর প্রচার করল তৃণমূল। আজ যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে কলকাতায় এসেছিলেন, সকলের মুখে একটাই কথা— মোদী বিরোধিতা করতে হবে, মোদীকে আটকাতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আসলে এর থেকে একটা জিনিসই পরিস্কার হয়, যে একদিকে একা মোদী, অন্য দিকে বাকি সকলে মিলে নরেন্দ্র মোদীকে রুখতে পথে নেমেছে। গলা ফাটাচ্ছে। এর থেকে কি মোদীর শক্তি সক্ষমতাই প্রকাশ্ হয় না? আমার তো মনে হয় তাই হয়।

দ্বিতীয়ত, এই অখিলেশ যাদব, চন্দ্রবাবু নাইডু, তেজস্বী যাদবেরা কিন্তু এখনও নিজেদের মধ্যে কে নেতা তা ঠিক করে উঠতে পারেননি। তাই ফারুক আবদুল্লার মুখে শোনা গেল, কে প্রধানমন্ত্রী হবে পরে ঠিক করা যাবে। কিংবা সকলেই গড়ে বলে গেলেন, কে প্রধানমন্ত্রী হবে সেটা বড় না, আসল কথা হল মোদীর বিরুদ্ধে ভোটে লড়াই করতে হবে একাট্টা হয়ে ইত্যাদি। হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো এরা সকলেই স্বপ্ন দেখেন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার। এইসঙ্গে এতগুলো দল যখন একজোট হয়েছে তখন সেখানে দলের সংখ্যার মতোই মতানৈক্যের সংখ্যাও বাড়বে বৈ কমবে না বলা বাহুল্য।

তৃতীয়ত, আজকের সভায় যে নেতা, মন্ত্রীরা ভিন রাজ্য থেকে এলেন তাঁরা প্রত্যেকেই প্রায় কেচ্ছা, কেলেঙ্কারি, ঘোটালায় সঙ্গে জড়িত। এঁদের অনেকেই জামিনে জেলের বাইরে রয়েছেন, কাউকে কাউকে নিয়মিত সিবিআই অথবা ইডির তলব, জিজ্ঞাসাবাদ সামলাতে হচ্ছে। তেজস্বী যাদব সকালেই পাটনায় ইডির জেরা সামলে এসেছেন। চন্দ্রবাবু নাইডু সিবিআই যাতে তাঁর রাজ্যে অন্ধ্রপ্রদেশে না ঢুকতে পারে তার পাকা ব্যবস্থা করতে আইন এনেছেন। কেন তা বলে দিতে হয় না! এভাবে সকলের কথাই বলা যায়। অন্যদিকে অখিলেশ আবার নিজের এলাকায় যে রাজনীতি খেলছে তার সঙ্গে মহাজোটের দূর সম্পর্কের আত্মীয়তাও নেই! ফলে আজকের ব্রিগেডের মহাসমাবেশ বেলুন বাঁ আতশবাজি ছাড়া কিছু না। তবে হ্যাঁ, এদের এইভাবে মহাগটবন্ধনে একজোট হওয়ার যুক্তিসঙ্গত একটি কারণই রয়েছে। আসলে মোদী সরকার দুর্নীতি নিয়ে সমঝোতা করছে না। ক্ষমতাশালী দুর্নীতিগ্রস্তদেরও ধরে ধরে জেলে পুরছে। তাই চাপ বাড়ছে বহু আঞ্চলিক নেতাদের উপর। যাঁদের অতীত খুব গৌরবজনক নয়। ফলে একাট্টা হওয়ার সুবিধা আছে তো বটেই।
বাস্তবটা এরকম—- একদিকে দুর্নীতিগ্রস্তদের জোট, অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদী একা। আগামী লোকসভা ভোটে জনতা বেছে নেবে নিজের পছন্দ। এছাড়া আজ আরও ক’জন এসেছিলেন যাঁরা মূলত বিক্ষুদ্ধ বিজেপি। যেমন শত্রুঘ্ন সিংহ, যেমন যশবন্ত সিনহা। কিন্তু কেন বিক্ষুদ্ধ? যেহেতু এঁদের মোদীর মন্ত্রী সভায় জায়গা হয়নি। অর্থাৎ ক্ষমতা না পাওয়ায় বিকল্প ক্ষমতার উৎস খুঁজছেন শত্রুঘ্নরা।

সব মিলিয়ে আজকের ব্রিগেড এই যাঁদের ডেকে এনে, পয়সা খরচ করে পাঁচতারা হোটেলে রেখে মঞ্চে তুলে ভাষণ দেওয়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাতে কি কোনও লাভ হল? পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কোনও ব্যক্তি লাভ? মনে হয় না। কারণ ভিন রাজ্যের নেতাদের একজনও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেননি। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে এই অখিলেশ, তেজস্বী, দেবেগৌড়াদের যে কোনওরকম সম্পর্ক নেই, তা নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না। মাঝখান থেকে ঘুরিয়ে বিজেপি তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রচার করে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দুর্নীতিগ্রস্ত বিরোধী জোটের নেতারা। নেগেটিভ প্রচারও তো একরকম প্রচার!

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *