Breaking News
Home / TRENDING / রঙরূপের পঞ্চাশ বছরে ‘জলছবি’

রঙরূপের পঞ্চাশ বছরে ‘জলছবি’

পার্থসারথি পাণ্ডা : 

চার বছর পর মঞ্চস্থ হল ‘জলছবি’। রঙরূপের নাটক। ব্রিটিশ-আইরিশ নাট্যকার মার্টিন ম্যাকডোনাফ-এর লেখা নাটকটি, বাংলায় অনবদ্য রূপান্তর করেছেন তীর্থঙ্কর চন্দ। নাটকে মাত্র চারটি চরিত্র—বয়স্ক মা, মাঝবয়সী অবিবাহিত মেয়ে, মেয়ের মাঝবয়সী প্রেমিক পটো আর পটোর আধদামড়া ভাগ্নে। মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রা সেন, মেয়ে- সীমা মুখোপাধ্যায়, পটো- বিমল চক্রবর্তী আর ভাগ্নে- জয়ন্ত মিত্র। বিদেশী নাটকের এমন অনবদ্য অ্যাডাপটেশন খুব কমই দেখেছি আমরা, বাঙ্গালিয়ানায় যেমন তা সমৃদ্ধ, তেমনই দেশকাল ছাড়িয়ে মনস্তত্ত্বে সার্বজনীন । এক-একটা নাটক এমন হয় না, যা দেখে একটা মুগ্ধতার, ভালোলাগার, মন কেমন করার রেশ থেকে যায়—এই নাটকটিও তেমনি।

সিন্ধবাদ বণিকের গল্পে এক বুড়ো যেমন করে সিন্ধবাদের ঘাড়ে চেপে বসে তার জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছিল, এখানে তেমনই মায়ের সব দায় চেপে বসেছিল মেয়ে মৃন্ময়ীর ঘাড়ে। সিন্ধবাদ বুড়োকে মেরে তার হাত থেকে মুক্তি পেয়েছিল। এখানে মেয়েও চায় মায়ের প্রতিদিনের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে আর তার জন্য মনের মধ্যে রচনা করে নানান সম্ভব-অসম্ভব পরিকল্পনা। কিন্তু পেরে ওঠে না। আসলে, মায়ের সঙ্গে তার সম্পর্কটা প্রচণ্ড ঘৃণা আর সামান্য অবলম্বনের। কিছু নিয়ে, কাউকে নিয়ে তো বাঁচতে হবে! ওদিকে মা-ও ভয়ে ভয়ে বাঁচে মেয়ে তাকে ছেড়ে না চলে যায়। সেজন্য সামান্য সসম্ভাবনা দেখলেই সেটা বানচাল করার জন্য উঠে পড়ে লাগে। ইচ্ছে করে একের পর খাবার চেয়ে, চা চেয়ে, মেয়েকে বসতে না দিয়ে নাগাড়ে বিরক্ত করাটা যেন তার খেলা। সেইসঙ্গে চলে উঠতে বসতে মেয়ের ওপর নজরদারি। ঠিক এই অবস্থায় ফিরে আসে মৃন্ময়ীর প্রেমিক পটো। দিয়ে যায় উপেক্ষিত শরীরের সুখ। মায়ের হাত থেকে মুক্তি পেতে, পটোর সঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্নে একদিন মৃন্ময়ী মাকে মেরে ফেলে। কিন্তু শেষঅব্দি ঘর বাঁধা আর তার হয়না। মরার আগে মা যে কলকাঠি নেড়ে দিয়ে যায়, তাতেই ভুল বুঝে পটো বিয়ে করে বসে অন্য কাউকে। তখন মৃন্ময়ীর মুক্তিও হয় না, ঘর বাঁধাও হয় না, ভাঙা বাড়ির চৌহদ্দির বাইরে আর পা রাখা হয় না। মায়ের নিসঙ্গতা, মায়ের ছেড়ে যাওয়া চেয়ার, মায়ের মনস্তত্ত্বের উত্তরাধিকার নেমে আসে তার ওপর, নিয়তির অভিশাপের মতো। মায়ের জলছবি হয়ে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়াই তার ভবিতব্য হয়ে ওঠে।


দু’ঘন্টা ধরে একই দৃশ্যপটে চারটি চরিত্র দর্শকদের একইসঙ্গে মুগ্ধ ও অভিভূত করে রাখে। সীমা মুখোপাধ্যায় এই নাটকে একইসঙ্গে দুই ভূমিকায়– অভিনেত্রী ও পরিচালক। তাঁর পরিচালনায় অসামান্য অভিনয়ের সাক্ষী থাকা গেল সত্তর ছোঁয়া চিত্রা সেনের। এই শো-তে দর্শকের আসনে অসুস্থ শরীরেও উপস্থিত ছিলেন কবি শঙ্খ ঘোষ, অভিনেতা ও নাট্যপরিচালক বিভাস চক্রবর্তী, মেঘনাদ ভট্টাচার্য এবং শমীক বন্দোপাধ্যায় । ২ অক্টোবর তাঁদের হাতে প্রকাশিত হল ‘রঙরূপে’র পঞ্চাশপূর্তির স্মারকগ্রন্থ এবং শুরু হল নাট্যউৎসব। উৎসব চলবে ৮ অক্টোবর অব্দি মধুসূদন মঞ্চ ও তপন থিয়েটারে, অভিনীত হবে একগুচ্ছ নাটক ।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *