নিজস্ব প্রতিনিধি।
জলসাঘরের দিন শেষ!
ঘোড়া থেকে মুখ থুবড়ে পড়েছেন জলসাঘরের শেষ ‘জমিনদার’।
অলক্ষ্যে যেন কেউ বলছে। ‘আই অ্যম এ সেল্ফমেড ম্যান। নো পেডিগ্রি’। বিশিষ্ট ঐতিহাসিক, ঘোষিত মোদি বিরোধী, রামচন্দ্র গুহ কেরলের সাহিত্য সভায় গিয়ে শুক্রবার যে কথা বলেছেন তাতে সত্যজিতের জলসাঘর ছবির ঝাড়লণ্ঠনটি যেন আর একবার দুলে উঠল মানসপটে!রামচন্দ্র বলেছেন, নেহরু-গাঁধি পরিবারের এই পঞ্চম বংশধরটির কোনও ভবিষ্যৎ নেই রাজনীতিতে। উল্টোদিকে মোদির মত নিজের ভাগ্য নিজে তৈরি করা মানুষের সামনে রাহুল তুচ্ছাতিতুচ্ছ।

রামচন্দ্র এই কথা জানাতেও ভোলেননি যে রাহুল গাঁধির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কোনও সমস্যা নেই। রাহুল ভদ্র এবং বিনয়ী, একথাও বলেছেন রামচন্দ্র। তবে ‘সেল্ফমেড’ মোদির তুলনায় তিনি কোনও গুনতিতেই আসেন না। ‘মোদি একটি রাজ্য চালিয়েছেন। তারপর দেশ চালাতে এসেছেন। রাহুলের মত তাঁকে ইউরোপে ছুটি কাটাতে হয় না।’ কেরলের ওয়ানাড থেকে রাহুলকে জিতিয়ে সংসদে পাঠানোর জন্য কেরলবাসীকেও মৃদু ভর্ৎসনা করেছেন ঐতিহাসিক। বলেছেন, কেরল দেশকে অনেক ভাল কিছু দিয়েছে। কিন্তু রাহুলকে সংসদে পাঠিয়ে মারাত্মক ভুল করেছে।
তাঁর মতে, রাহুল সংসদে থাকেন বলেই মোদি বলতে পারেন নেহরু পাকিস্তানের ক্ষেত্রে কিংবা চায়নার ক্ষেত্রে এমনটা করেছিলেন। রাহুল না থাকলে তিনি এটা করতে পারতেন না। তখন তাঁকে তাঁর নিজের কাজের ব্যখ্যা দিতে হত।
সবচেয়ে তীব্র শব্দটি তিনি ব্যবহার করেছেন, সনিয়া গাঁধির জন্য। বলেছেন তাঁর পুত্র যে ‘বাদশা’ নয় এটা তাঁর বোঝা উচিত। বোঝা উচিত মুঘল পরবর্তী তাঁদের সাম্রাজ্য আর নেই। সামন্ত প্রথা আর নেই। দেশ এখন অনেক বেশি গণতান্ত্রিক।
বামেদেরও এক হাত নিয়েছেন রামচন্দ্র গুহ। বলেছেন, এদেশের বামেরা ভণ্ড। তারা স্বদেশ ছেড়ে অন্য দেশের প্রতি বেশি প্রীতি দেখিয়েছেন। বলেছেন, পৃথিবী জুড়ে উগ্র জাতীয়তাবাদ, প্রতিবেশী দেশে মুসলিম মৌলবাদের উত্থান, ভারতে হিন্দুত্ববাদকে জাগিয়েছে।
রামচন্দ্র গুহর মত ঐতিহাসিকের এ হেন মন্তব্যে কংগ্রেস তথা বামেদের বিড়ম্বনা বাড়ল বলেই মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news