নীল বণিক
কিশোর ঘোষ
এমন পরিস্থিতিতে কমই পড়েছেন ফেলুদা। তাঁর পেছনেই কিনা গোয়েন্দা লেগেছে! যে লোক মগনলাল মেঘরাজের মতো বাঘা ভিলেন ধরে দিয়েছে, কানাঘুসো তাঁর পেছনে গোয়েন্দা লাগিয়েছে লাল নীল সবুজ হলুদের দল। কিন্তু কেন?
কারণ আজ সকালে তাঁর সঙ্গে বিজেপি শীর্ষ নেতা রাহুল সিংহ সৌজন্যে সাক্ষাৎ-এ যান। দু’জনের মধ্যে হাসিমুখে দুটো কথা হয়। আর তা জেনে-শুনে-দেখে বিষয় বুঝে উঠতে না পেরে চাপে পড়েছে অতি-রাজনৈতিক পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক কুশীলবরা। আসলে এমনিতেই ফেলুদা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে সাম্প্রতিককালে ধন্দ বেড়েই চলেছে। শঙ্খ ঘোষের ‘লাইনেই ছিলাম বাবা!’ কাব্যগ্রন্থের সেই কবিতার সেই লাইনটা মনে মনে আওড়াচ্ছে অনেকেই—‘তুমি কোন দলে?’ তবে ফেলুদার ব্যক্তিত্ব, শিল্পী হিসেবে তাঁর মহিমা, চরিত্রের আভিজাত্য ছাপিয়ে কেউ মুখ ফসকে প্রশ্নটা করতে পারছে না। আর ফেলুদা বরাবরই যেমন, তার মগজাস্ত্রটি অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই সক্ষম। অতএব…। তা বলে একজন সৌজন্য সাক্ষাতের অনুরোধ করলে তিনি ফিরিয়ে দেবেন কেন? ফেরানওনি। আজ সকাল ১১টা নাগাদ নিজের গলফগ্রিনের বাসভবনে রাহুল সিংহকে অতিথি হিসেবে গ্রহণ করেন তিনি। কিন্তু রাহুল হঠাৎ কেন ফেলুদা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে?

রাজনৈতিক ‘গোয়েন্দা’দের মতে, রাজ্যে আমিত শাহ-র আগমনের আগে বুদ্ধিজীবী ধরতে পথে নামার কথাই ছিল বিজেপির। ফেলুদাকে দিয়ে শুরু হল সেই প্রক্রিয়া।
রাহুলের কথায়, মোদী সরকারের গত চার বছরের কাজের প্রশংসা করেছেন ফেলুদা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এদিন ফেলুদার বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাহুল দাবি করেন, জাতীয় পুরস্কার জয়ী চলচ্চিত্র অভিনেতা তাঁর সঙ্গে দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। এক নোটবন্দি ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের সব রকম কাজে সৌমিত্র চট্টপাধ্যায় খুশি। বলা বাহুল্য, এই ঘটনা সত্যিই ঘটলে, নতুন করে দু’রকম ফেলুদা কাহিনি লেখা শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। প্রথমত, রাজ্য বিজেপি আপ্লুত। স্বভাবতই ফেলুদাকে নিয়ে তাঁরা আগামী পরিকল্পনাও ছকে রাখার কথা ভাববে, অপরপক্ষে অন্যরা বেজায় ভয় খাবেন!
কারণ রাহুলের দাবি, মোদী সরকারকে ‘হাইলি সাসপিশাস’ মনে হয়নি ফেলুদার।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news