নিজস্ব সংবাদদাতা
অটল বিহারী বাজপেয়ীর রাজনীতিতে প্রথম পদক্ষেপটা হয়েছিল বেশ অদভূতভাবেই। ১৯৪২র অগস্টে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে যোগ দিয়ে ধরা পড়েন বাজপেয়ীর বড় ভাই প্রেম। ২৩ দিন জেল খাটার পর আর কখনও প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশ নেবেন না, এমন মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান তিনি। ফলে দাদার জায়গায় দলে যোগ দেন ১৮বছরের অটল বিহারী বাজপেয়ী। এরপর টানা ৪ দশক জুড়ে দেশের রাজনীতিতে অন্যতম ভূমিকা পালন করে গিয়েছেন তিনি। ১৯৫১ সালে দীনদয়াল উপাধ্যায়ের সঙ্গে মিলে ভারতীয় জন সংঘ দলটির স্থাপনা করেন তিনি। এরপর অচিরেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অনুগত হয়ে পড়েন অটল বিহারী বাজপেয়ী। ১৯৫৪ সালে গুরু শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাশ্মীরে অ-কাশ্মীরী জনগনের সঙ্গে অসম ব্যবহারের প্রতিবাদে আমরণ অনশনে বসেন তাঁরা। এই অনশনে জেলে মৃত্যু হয় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ।
১৯৫৭ সালে বাজপেয়ী মথুরা থেকে লোকসভা নির্বাচনে লড়েন এবং রাজা মহেন্দ্র প্রতাপের কাছে হেরে যান। পরে অবশ্য বলরামপুর থেকে পুনর্নির্বাচিত হন তিনি। তাঁর বাচন ক্ষমতায় প্রভাবিত হয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। তখনকার তরুন নেতা বাজপেয়ীকে দেখে নেহরুর মনে হয়েছিল, একদিন দেশের নেতৃত্ব দেবেন বাজপেয়ী। ইন্দিরা গাঁধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ১৯৭৫এ জরুরি অবস্থার সময় অন্যান্য নেতার সঙ্গে বাজপেয়ীকেও গ্রেফতার করা হয়। এরপর ১৯৭৭ সালে মোরারজী দেশাইয়ের ক্যাবিনেটে বিদেশমন্ত্রীর পদ সামলান বাজপেয়ী। সেবছরই প্রথম রাষ্ট্র সংঘে হিন্দী ভাষায় বক্তৃতা দেন তিনি। ১৯৭৯ সালে জনতা পার্টিতে চিড় ধরে এবং মোরারজী দেশাই প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করলে দল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বাজপেয়ী। দীর্ঘদিনের সতীর্থ লালকৃষ্ণ আদবানি ও ভৈরো সিংহ শেখাওয়াতের সঙ্গে মিলে ১৯৮০ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি তৈরি করেন বাজপেয়ী। এরপর দীর্ঘদিন বিরোধী দলনেতা হয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে গুজরাত ও মহারাষ্ট্র বিধানসভায় জিতে প্রথম লোকসভায় জয়ের স্বপ্ন দেখে বিজেপি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বাজপেয়ীকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে ভোটে নামে বিজেপি। ১৯৯৬ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী হন অটল বিহারী বাজপেয়ী। কিন্তু সংসদে বহুমত প্রমাণ করতে পারবেন না বুঝেই ১৩ দিনের মাথায় ইস্তফা দেন তিনি। ১৯৯৮ সালে এনডিএ জোটের হয়ে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন বাজপেয়ী। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালীনই পোখরানে ভারত ৫টি পরমাণু বোমার পরীক্ষা করে। বিশ্বে ভারতের নাম নতুন করে লেখা হয়। ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর টাইগার হিল জয়েও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বাজপেয়ী । এরপর ১৯৯৯ সালেই এআইএডিএমকে সরকারের থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করায় ফের পড়ে যায় বিজেপি সরকার। পুনর্নির্বাচনে ৩০৩টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। ফের একবার প্রধানমন্ত্রী হন বাজপেয়ী। এবার জোটসঙ্গীদের নিয়ে হেসে খেলে ৫ বছর কাটিয়ে দেয় তাঁর সরকার। যদিও ২০০৪ সালে কংগ্রেসের কাছে হেরে যায় বিজেপি। ২০০৫ সালে স্বাস্থ্যের কারণে প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে সরে আসেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। তাঁর ৪০ বছরের রাজনীতিক জীবনে ১০ বার লোকসভায় জয়ী হয়েছেন বাজপেয়ী। দুবার রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন তিনি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news