নিজস্ব প্রতিনিধি।
জেডি (ইউ) থেকে বহিষ্কারের ঠিক একদিন পর মুখ খুললেন প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishore)। বৃহস্পতিবার সংবাদ সংস্থা এএনআই সম্মুখীন হয়েছিল এই রাজনৈতিক বিশ্লেষকের। প্রশ্ন করা হয়েছিল তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে। জবাবে এই ভোটগুরু জানিয়েছেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে যা বলার তা আমি ১১ ফেব্রুয়ারি পাটনায় গিয়ে বলব। তার আগে আমি কারো সঙ্গে কোনও কথা বলব না।”
প্রসঙ্গত, ধারাবাহিকভাবে নানা ইস্যুতে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হওয়াতেই বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের (Nitish Kumar) চক্ষুশূল হন প্রশান্ত কিশোর। ২০১৭ সালে কংগ্রেস ও আরজেডি-কে নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে বিধানসভা ভোটের লড়াই করে জয় পান নীতিশ কুমার। সেই ভোটে জেডি (ইউ)-এর কৌশলী ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। তারপরই নীতিশের বিশেষ আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন পিকে। তবে বছর খানেকের মধ্যে শিবির বদল করে কংগ্রেস ও আরজেডি-কে ছেড়ে বিজেপির হাত ধরে বিহারের ক্ষমতায় থেকে যান নীতিশ। তৎকালীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের পরামর্শে দলের সহ-সভাপতির পদ প্রশান্ত কিশোরকে দেন নীতিশ। কিন্তু সম্প্রতি নাগরিক সংশোধনী আইন, এনআরসি ও এনপিআর ইস্যুতে দল বিরোধী অবস্থান নেন এই বিহারী ভোটগুরু। মতপার্থক্য শুরু হয় নীতীশ কুমারের সঙ্গে।
জেডি (ইউ) (JD-U) নেতৃত্ব মনে করছিল, দলীয় স্বার্থের চেয়ে ব্যবসায়িক স্বার্থ বড় করে দেখছিলেন প্রশান্ত কিশোর। কারণ বিজেপি বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে ও আপের হয়ে ভোটের ঘুঁটি সাজাচ্ছেন প্রশান্ত কিশোর। ফলে জাতীয় স্তরে তিনি এমন অবস্থান নিচ্ছেন, যা ওই সমস্ত বিজেপি বিরোধী দলের কাছে সুবিধাজনক হলেও, জেডিইউ-এর কাছে তা অস্বস্তির বিষয়। যার জেরে শেষ পর্যন্ত জেডি (ইউ) থেকে প্রশান্ত কিশোরকে ছেঁটে ফেললেন নীতিশ কুমার। পাটনায় ১১ ফেব্রুয়ারি যে প্রশান্ত কিশোরের পয়লা নিশানায় থাকবেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী, সে বিষয়ে নিশ্চিত জাতীয় রাজনীতির কারবারিরা।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news