চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
সততার প্রতীক আর লেখা যাচ্ছে না?
তাই কি এবার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন মূর্তি সম্পন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরোধী দল থেকে ধরে ধরে তৃণমূলে (TMC) যোগদান করানোর কর্মসূচি নিয়েছেন পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)?
সম্প্রতি এই কর্মসূচি ধরেই ‘ইন্ডিয়ান পলিটি কালেকশন কমিটি’র সদস্যরা ডায়মন্ড হারবারে পৌঁছে গিয়েছিলেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা কমল বসুর (Kamal Bose) খোঁজ পেতে।
কমল বসুর নাম নিয়ে ডায়মন্ড হারবারে গিয়ে খোঁজ খবর শুরু করেন আইপ্যাকের প্রতিনিধিরা। জানতে চান ‘কোথায় থাকেন কমল বাবু ? একবারটি যোগাযোগ করিয়ে দিন!’
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বিশেষ কোনও খোঁজ খবর না পেয়ে শেষমেষ ডায়মন্ড হারবারে সিপিএমের (CPM) একটি পার্টি অফিসে পৌঁছে যান তাঁরা। সেখানেই পার্টি অফিসে উপস্থিত সিপিএমের স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে জানতে চান, ‘কমল বসু বর্তমানে কোথায় থাকেন ?’ প্রশান্ত কিশোরের হাইটেক কর্মীদের কথা শুনে খানিকটা হকচকিয়ে যান সিপিএমের কমরেডরা। ডায়মন্ড হারবারের পার্টি অফিসে হাজির কমরেডগণ বুঝে যান কী কারণে কমল বসুর খোঁজ করছেন আইপ্যাক প্রতিনিধিরা।
পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে সিপিএমের কমরেডরা বুঝতে পারেন কেন বর্ষীয়ান নেতার খোঁজে এসেছেন তাঁরা।
কৌতূহলবশত প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাকের সদস্যদের কাছে সিপিএম কমরেডরা জানতে চান কোন কমল বসুর খোঁজে এসেছেন তারা? জবাবে আইপ্যাকের প্রতিনিধিরা জানান, ডায়মন্ড হারবার থেকে ১৯৫২ সালে সাংসদ হয়েছিলেন কমল বসু। সেই প্রাক্তন সাংসদের সাক্ষাৎ প্রার্থী তাঁরা। সম্প্রতি সিপিএম পার্টি সূত্রে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার এই প্রান্তের কমরেডরা জানতে পেরেছেন, এক ঝাঁক লোভনীয় প্রস্তাব নিয়ে সিপিএম তথা বামফ্রন্টের নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন প্রশান্ত কিশোরের দল। আগামী বিধানসভা টিকিট থেকে শুরু করে মন্ত্রীসভায় পাকা জায়গা সহ আরও লোভনীয় প্রস্তাব নিয়ে সিপিএমের নেতাদেরকে তৃণমূলে যোগদানের প্রস্তাব দিচ্ছেন তারা। জলপাইগুড়ির প্রাক্তন সাংসদ মহেন্দ্র রায়, ময়নাগুড়ি প্রাক্তন বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত রায়, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী দেবেশ দাশ, চাকুলিয়া আর বর্তমান ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক আলি ইমরান রাম ওরফে ভিক্টর, হরিরামপুরের সিপিএম বিধায়ক রফিকুল ইসলাম, কৃষ্ণনগরের সিপিএম নেতা সুবিনয় ঘোষকে ভোটের টিকিট সহ মন্ত্রিত্ব ও আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিয়ে দলে টানতে চেয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। সবক্ষেত্রেই ব্যর্থ হতে হয়েছে তাদের।
তাই এক্ষেত্রে প্রস্তাবের ঝুলি নিয়ে কমল বসুর খোঁজে এসেছেন তারা। প্রশান্ত কিশোরের দলবলের এমন কাণ্ড দেখে ততক্ষণ ডায়মন্ড হারবারের সিপিএম কার্যালয়ে হাসির ফোয়ারা ছুটে যায়। ঘটনাচক্রে, ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি প্রয়াত হয়েছেন কমল বসু। ১৯৮৫-৯০ সাল কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র ছিলেন তিনি। কলকাতার মেয়র হিসেবে বাংলা রাজনীতিতে পরিচিতি ছিল কমল বসুর। সল্টলেক স্টেডিয়াম করতেও এই প্রবীণ সিপিএম নেতার অগ্রণী ভূমিকা ছিল বলেও জানা যায়। ডায়মন্ড হারবারের সঙ্গে তাঁর যোগসুত্র ছিল পঞ্চাশের দশকের। ১৯৫২ সালে স্বাধীন ভারতবর্ষের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সিপিআইয়ের প্রার্থী হিসেবে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা থেকে সাংসদ হন কমল বসু। সেবার যুগ্মভাবে ওই আসন থেকে কংগ্রেসের পূর্ণেন্দু শেখর নস্কর সাংসদ হয়েছিলেন। ১৯৬৪ সালে দল বিভাজনের পর সিপিএমে চলে আসেন কমল বসু। চার দশক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। কিন্তু, শেষের দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে পুরোপুরি অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন তিনি।
ডায়মন্ড হারবারের সিপিএমের পার্টি অফিস থেকে এই প্রশান্ত কিশোরের দলকে জানানো হয় কমল বসু মারা গিয়েছেন সাত বছর আগে। তাও তিনি থাকতেন কলকাতায়, অকৃতদার এই মানুষটি সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বলেও জানতে পারেন আইপ্যাকের প্রতিনিধিরা। এমন কথা শুনে খানিক অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে পিকের দল। অগত্যা খালি হাতে ফিরে আসতে হয় তাদের।ডায়মন্ড হারবার পার্টি অফিস মারফত খবর আসে বারুইপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সিপিএমের কার্যালয়ে। জানানো হয় কলকাতার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের সদর দপ্তরে। প্রশান্ত কিশোরের দলবলের এ হেন কাণ্ড দেখে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakroborty) বলেছেন, “হাস্যকরভাবে হামলে পড়েছে পিকে’র বাহিনী। বিহার, উত্তরপ্রদেশ সহ ভিন রাজ্যের মাইনে করে নিয়ে আসা বাহিনী। বামপন্থী দেখলেই হল। নেতা, কর্মী, বামপন্থী সমর্থক, বিশিষ্ট বামপন্থী মানুষ কিংবা বামপন্থী মননের লেখক, সাংবাদিক – দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়ছে। আগে আক্রমণের জন্য, এখন দলত্যাগের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ছে। কাতর আর্তনাদ! ‘বিশ্বাস করুন, মানুষ বুঝে গেছে তৃণমূল আগাপাছতলা অসৎ, লুঠেরার দল। আপনারাই সৎ। তৃণমূলকে বাঁচাতে দলে আসুন। কি চাই? টাকা? পদ? সব দেব। মন্ত্রীত্ব? – তাতেও পারছে না পিকে’র টিম।” তিনি আরও বলেন, “দেউলিয়াপনা এতটাই যে, কোম্পানীর লোক ডায়মন্ডহারবারের বামপন্থী নেতা কর্মীদের বাড়ি অথবা অফিসে পর্যন্ত ঢুঁড়ে ফেলেছেন। কি ব্যাপার, না ১৯৫২ সালের ডায়মন্ডহারবারের সি পি আই (এম) সাংসদ প্রয়াত কমল বসুর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতে হবে। ভুতুড়ে কাণ্ড যত, চিরকুটে সাংসদ এবং নাম লেখা আছে, ধাম তো নেই। কোম্পানীর লোক – বেচারা! বাস্তব বিবর্জিত। কী করবে এরা?”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news