Breaking News
Home / TRENDING / একুশ বড় বালাই, বিজেপি ভাঙার গুজব রটিয়ে বাজিমাত করতে চাইছেন পিকে

একুশ বড় বালাই, বিজেপি ভাঙার গুজব রটিয়ে বাজিমাত করতে চাইছেন পিকে

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো :

ভেঙে পড়ছে বিজেপি, তৃণমূলের রাজনৈতিক দাপটের কাছে জমি ধরে রাখতে পারছে না তারা। সম্প্রতি প্রশান্ত কিশোরের মস্তিষ্কপ্রসূত এমনই কৌশল অবলম্বন করে গেরুয়া শিবিরকে জবাব দিতে চলেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ‌ নির্দিষ্ট নির্ঘণ্ট অনুযায়ী আগামী বছর মার্চ-এপ্রিল-মে মাস জুড়ে হবে রাজ্যের সাধারণ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলকে (TMC) শক্তিশালী করতে এবং বিরোধী শিবিরকে খাতায় কলমে কমজোর করতে এই কৌশল নিয়েছেন পিকে স্যার। সূত্রের খবর, দলীয় প্রচারযন্ত্রকে সচল করে এমন ভাবখানা তুলে ধরতে হবে, যেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের পার্টি বাংলায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাপটের কাছে নাজেহাল হয়ে গিয়েছে। দিলীপ ঘোষ বা মুকুল রায় কেউই এই আগ্রাসনের মোকাবিলা করতে পারছে না।

আর সেই দাপটের কারণে বিজেপি নেতারা যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলে। যারা তৃণমূল থেকে অনেক আশা নিয়ে বিজেপিতে (BJP) যোগ দিয়েছিলেন, রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের অপদার্থতায় সেই সমস্ত নেতারা ফিরে আসছেন বাংলার শাসকদলে। তৃণমূল কংগ্রেসের ডিজিটাল সেলের উদ্যোগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত বিষয়ে প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মিডিয়া জুড়ে প্রায় প্রতিদিন ছড়িয়ে দিতে হবে বিজেপির ভাঙন সংক্রান্ত খবর। যা বিজেপির ভোটারদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে বলেই ধারণা প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাকের। লোকসভা নির্বাচনে পাওয়া বিজেপির ভোট ব্যাংক ৪০ শতাংশ থেকে আগামী কয়েক মাসে তা অনেকটাই নীচে নেমে আসবে বলে ধারণা প্রশান্ত কিশোরের দলবদলের।

পরামর্শদাতা হিসেবে প্রশান্ত কিশোরকে (Prashanta Kishor) নিয়োগের পরেই ‘দিদিকে বলো’ ওপরে ‘বাংলার গর্ব মমতা’র কর্মসূচি দিয়ে শুরু হয় ভোটব্যাঙ্ক মেরামতের কাজ। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও আমফান ঘূর্ণিঝড়ের বেজায় বিপাকে পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তার উপর দলের নিচুতলার নেতাকর্মীরা জড়িয়ে পড়েছেন একের পর এক দুর্নীতিতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রীর নাজেহাল অবস্থাও প্রকাশ্যে এসেছে। এমতাবস্থায় প্রশান্ত কিশোর দুটি কর্মসূচি ‘দিদিকে বলো’ ও ‘বাংলার গর্ব মমতা’ মুখ থুবড়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জন্য ‘বাংলার যুবশক্তি’ কর্মসূচি শুরু করেছেন প্রশান্ত কিশোর। পাশাপাশি অন্তরালে থেকে ‘অপারেশন লোটাস’ শুরু করেছেন তিনি। এই কর্মসূচিতে রাজ্য বিজেপির কর্মীদের মনোবল চির ধরানোর কৌশল যেমন তাঁর রয়েছে। বিজেপির ভাঙ্গনের খবরে তৃণমূলের মনকে চাঙ্গা করার ভাবনাও কাজ করছে বলে রাজনৈতিক মহলের জল্পনা।

গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক, জেলা কিংবা রাজ্য বিজেপি নেতাদের তৃণমূলে যোগদান করানো হোক না কেন ? সোশ্যাল মিডিয়া মারফত ফলাও করে প্রচার করতে হবে। বড় কোনও নেতার দলবদল হলে বড় মিছিল ও আতশবাজি পুড়িয়ে বিজেপি নেতাকর্মীদের মনে প্রভাব ফেলতে হবে। এমনকি সেই প্রচার কৌশলে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের যাবতীয় সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলিও সহায়তায় এগিয়ে আসবে। আপাতত প্রশান্ত কিশোরের এই কৌশলে শান্ দিয়েই ভোটের জমি তৈরি করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও তার সাংসদ ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।

Spread the love

Check Also

আজও কলকাতায় বৃষ্টির সম্ভাবনা, বৃষ্টি হবে জেলাতেও

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো : আজও দক্ষিণবঙ্গের (South Bengal) কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত হবে বলে জানাল …

পর্যবেক্ষকের পদ তুলে দিয়ে শুভেন্দুর হাতে পেনসিল, দল কার্যতঃ পিকে-ভাইপোর হাতে

অমিত রায় : জেলা পর্যবেক্ষকের পদ তুলে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দলের …

কাশ্মীরে জঙ্গিদের গুলিতে মৃত্যু হল বিজেপি নেতার

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো: ৪৮ ঘন্টার ব্যবধানে জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গিদের গুলিতে আক্রান্ত হলেন দুই বিজেপি নেতা। বৃহস্পতিবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!