ওয়েব ডেস্ক:
বাংলা শিল্প ও সংস্কৃতির জগতে চলছে মৃত্যুমিছিল! আজ এক সকালে এল দুই আঘাত। সকালে প্রয়াত হন পিনাকী ঠাকুর, মধ্যদুপুরে চলে গেলেন একাধারে গদ্য ও পদ্য সাহিত্যিক দিব্যেন্দু পালিত।
হপ্তা দুয়েক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন পিনাকী ঠাকুর। ভুগছিলেন ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়ায়। ব্যারাকপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন ভেন্টিলেশানে। গতকাল তাঁকে পিজি হাসপাতালে আনা হয়। সেখানেই সকালে মৃত্যু হয় কবি পিনাকী ঠাকুরের। নেহাতই কম বয়সে চলে গেলেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।
মেধাবী ছাত্র ছিলেন এই পিনাকী। তথাপি কবিতাকে ভালোবেসে ছেড়ে ছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর উচ্চতর কোর্স। তারপর থেকে রুটিরুজি ছিল গৃহশিক্ষকতা। আবিবাহিত পিনাকীর কবিতাই ছিল গৃহ ও বঁধূ। ‘চুম্বনের ক্ষত’ কাব্যগ্রন্থের জন্য ২০১২ সালে আনন্দ পুরস্কার পান কবি। পিনাকী ছিলেন আদ্যন্ত ‘প্রেমিক’ কবি। আপন জীবনচর্চার আলো-অন্ধকারে বুনে গেছেন কবিতার আত্মা। লিখেছিলেন—এত রাতজাগা, প্রুফ, প্রেসের তাগাদা, রক্তফোঁটা/ পুরনো, মলাট ছেঁড়া প্রেসিডেন্সি রেলিংয়ের ধারে …।’
পিনাকী ঠাকুরের মৃত্যুশোক সামাল দিতে না দিতেই আরও এক মৃত্যুর মুখিমুখি হল বাংলার সারস্বত সমাজ। এরপরেই এল দিব্যেন্দু পালিতের মৃত্যুসংবাদ।
অসুস্থ ছিলেন কবি ও ঔপন্যাসিক। জানা গিয়েছে, কলকাতার কেপিসি মেডিকেল কলেজে ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি ছিলেন। আজ সকালে জীবনাবসান হয় তাঁর। বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
বিহারের ভাগলপুরে ১৯৩৯ সালে জন্ম দিব্যেন্দু পালিতের। ১৬ বছর বয়সে আনন্দবাজার পত্রিকার রবিবাসরীয় পাতায় প্রকাশিত হয় প্রথম গল্প। প্রথম গল্পগ্রন্থের নাম ‘শীত গ্রীষ্মের স্মৃতি’। উপন্যাস, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ – সাহিত্যের সব ক্ষেত্রেই ছিল তাঁর অনায়াস দক্ষতা। ‘সিনেমায় যেমন হয়’, ‘অন্তর্ধান’ ‘চরিত্র’ বা ‘উড়োচিঠি’র মতো উপন্যাসের জন্য তিনি বাঙালি পাঠকের প্রাণের লেখক হয়ে রয়ে যাবেন চিরকাল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news