রণবীর ভট্টাচার্য্য :
কোক বলুন বা বিয়ার, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিন্তু এর চেয়েও কম এখন! শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি! ব্যারেল পিছু তেলের দাম এসে ঠেকেছে শূন্য ডলারে, যা আপাততঃ নামছে তো নামছেই, থামার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। আমেরিকান বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অনুসারে সোমবার ৩০০ পয়েন্ট পতন হয়েছে মে মাসের ডেলিভারির প্রয়োজন অনুসারে, আর দাম এসে থেকেছে – ৩৭.৬৩ মার্কিন ডলারে। বলাই বাহুল্য, অপরিশোধিত তেলের এই দাম পড়ার হিড়িকে অস্বস্তিতে সবাই। ট্রাম্পের দেশের শেয়ারহোলডারদের মাথায় হাত! অনেকেরই দেউলিয়া হওয়ার জোগাড় হবে যদি আর্ন্তজাতিক বাজারে
অপরিশোধিত তেলের দাম পড়তেই থাকে।
বলতে অসুবিধা নেই, এই অদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দায়ী কিন্তু সেই চীনা ভাইরাস করোনা। সারা পৃথিবী আজ স্তব্ধ, অর্ধেকের বেশি জায়গায় লক ডাউন চলছে এবং ব্যবসা বাণিজ্য প্রায় লাটে উঠেছে। এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে তেলের জোগান থাকলেও চাহিদা ঐতিহাসিক ভাবে কমেছে। করোনা মুক্তি কবে ঘটবে বলা পৃথিবীর কঠিনতম প্রশ্নগুলোর একটা এখন। তাই আর্ন্তজাতিক বাজার ও দোটানায় ভুগছে।
ভারতের মতো দেশ, যাকে আমদানি করতে হয় তেল, তার কি কোন লাভ হবে? এর কোন সহজ উত্তর নেই এই মুহূর্তে। প্রথমত ভারতে পেট্রোল ডিজেলের চাহিদা অনেক কম এখন। পণ্যবাহী উড়ান, কিছু রুটে জরুরী সামগ্রী নিয়ে চলা ট্রেন আর বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে চলা যানবাহন বাদ দিয়ে পরিবহণ একপ্রকার স্তব্ধ লকডাউনের এই দ্বিতীয় পর্যায়ে। স্বাভাবিক সময়ে হলে বলা যেত যে নিত্য-প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমবে। কিন্তু এই করোনার সময়ে স্বাভাবিক বাজার অর্থনীতির নিয়ম খাটবে না কারণ মানুষের বাজারের কেনাকাটার সুযোগই তো নেই এখন নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্য বাদ দিয়ে। তবে সরকার যদি দেশে তেলের দাম না কমায় এই অবস্থায়, তাহলে অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী কোষাগারে বাড়তি টাকা ঢুকবে।
ভারতের পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের জন্য একটু ভাবার সময় বলা যেতে পারে। তবে গাড়ি শিল্পের জন্যে হয়ত এটা বেশ ভালো খবর। বেশ কয়েক বছর ধরে গাড়ির শিল্প ধুকছে। সেদিক থেকে যদি এই ব্যারেল পিছু তেলের দাম খুব বেশি না বাড়ে, এই শিল্পে বিনিয়োগকারীদের যথেষ্ট আশার কারণ থাকছে!
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্যে এটি দুর্দান্ত সুযোগ দেশীয় অর্থনীতি ঢেলে সাজানোর। একদিকে করোনার জন্যে যেমন বিশেষ প্যাকেজ থাকবে আবার অর্থনৈতিক দাওয়াই ও থাকবে! যারা এই কয়েকদিন জিডিপি ও রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে কান্না কাটি করছিলেন, তারা আপাততঃ বিরতি নিতে পারেন। সেই সাথে জিডিপি নিয়ে যেই সমস্ত আমেরিকান রেটিং কোম্পানী জ্যোতিষ চর্চা করছিলেন, তারা এবার নিজের দেশের অর্থনীতি নিয়ে ভাবার সময় পাবেন!
পরিশেষে বলাই যায়, তেলের দামের এই পতন আমেরিকা ও তার আরবের বন্ধুদের জন্যে অশনিসংকেত। তেল নির্ভর অর্থনীতির উপর যারা নির্ভরশীল, তাদের বিকল্প ভাবার দিন এসেছে। করোনার পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প সাহেবকে আবার ভারতে আসতে হতে পারে আমেরিকান পসরার ডালি নিয়ে। তবে সেবার কিন্তু আর ‘বিবেকামুন্নন’ বলা চলবে না।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news