Breaking News
Home / TRENDING / যুদ্ধের বাজার আর অস্ত্রের দালাল

যুদ্ধের বাজার আর অস্ত্রের দালাল

মূল হিন্দি রচনা: শরদ জোশী

অনুবাদ: পার্থসারথি পাণ্ডা

আমরা চাই বা না-চাই, আমেরিকা তো আর অস্ত্রের ভাণ্ডারটি হয়ে চুপ করে বসে থাকতে পারে না! আর তাছাড়া, পাকামাল রাখার জায়গারও বড্ড অভাব সেখানে!

সভ্যতার ভাঁড়ামো আর ভণ্ডামো পেরিয়ে অস্ত্র ব্যবসাই আসলে আমেরিকার মূল পেশা। অস্ত্রের কারখানাতে তাদের মূলধন খাটছে কয়েক কোটি, কয়েক বিলিয়ন, কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার। এই অবস্থায় নিশ্চয়ই তারা চুইংগাম চিবোতে চিবোতে নিষ্কর্মার মতো মাছি মারে না! ওদের শকুনের চোখ ঘুরতে থাকে দূরতর প্রদেশের সেইসব দেশগুলোর ওপর, বিচ্ছিন্নতার জিগির তুলে যেসব দেশের হাওয়া সহজেই গরম করে তোলা যায়! আর তাই এশিয়ায় তাদের সন্ধানী ধুরন্ধর চোখ সবসময়ই এসে স্থির হয় একটি দেশের ওপর, যার নাম, ‘পাকিস্তান’ এবং ভারতের একটি প্রদেশের ওপর, যার নাম ‘জম্মু ও কাশ্মীর’।

পাকিস্তানের ভূগোল যেন তৈরিই হয়েছে এর-তার সঙ্গে লড়াই জিইয়ে মরবার জন্য। একদিকে আফগান, অন্যদিকে পাঞ্জাব এবং কাশ্মীর থেকে শুরু করে কচ্ছের রণ অব্দি সর্বত্রই বিচ্ছিন্নতার ঝাণ্ডা, উগ্রপন্থীদের ঘোট। আর তাই দেখেই আমেরিকার মুখ দিয়ে ঝরে টস টস করে লালসার লালা!

ছোট্ট একটা দেশ পাকিস্তান। আমেরিকার সব অস্ত্র নিয়ে নিজের ভাণ্ডারে জমিয়ে রাখার মতো জায়গা তারও নেই। তবুও উপচে পড়া প্রীতিতে আমেরিকা পাকিস্তানের সেনাদের জন্য পাঠায় বিচিত্র সব বন্দুক, কার্তুজ, বুলেট আর বোমা। এসব জটিল এবং বিচিত্র অস্ত্রমালা ঘাড়ে নিয়ে পাকসেনাদের অবস্থা হয়, ঠিক যেন দোআঁশলা কুলির মতো! এই কুলিদের ভার কমাতেই পাকিস্তান পুষ্যি নেয় দাঙ্গাবাজ উগ্রপন্থীদের। ধান্দাবাজ আমেরিকা এদের উৎসাহ দিতেই বানায় ‘কমান্ডো’র মতো সিনেমা। যেখানে পেশল এক হিরো আমেরিকার অস্ত্র কারখানায় বানানো টাটকা অস্ত্রমালায় সুসজ্জিত হয়ে, সেইসব অস্ত্রের জ্বলন্ত বিজ্ঞাপন দিতে দিতে স্ক্রিন প্লের ডিমান্ডে সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী বীর হয়ে ওঠে। তাকে দেখে স্বপ্নের ঘোর লাগে পাকিস্তানের পুষ্যি এবং পৃথিবীর কোণায় কোণায় ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসবাদী উগ্রপন্থীদের মনে, লক্ষ্য স্থির হয়ে যায়, ‘এইসব অস্ত্রশস্ত্র আমি যদি পাই বস, সব শেষ করে দেব– সব!’

ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়। সেই উপায়ের পথ ধরে বহিরাগতরা হাজির হয় পাকিস্তানে। এ ব্যবসার হেব্বি টেকনিক! হাভাতে দেশ আর ধান্দাবাজ উগ্রপন্থী দুটোই আমেরিকার তাঁবে! একজনকে টাটকা মাল, মানে ব্র্যান্ড ন্যু অস্ত্র বেচলে, অন্যজন অমনি হুড়মুড়িয়ে ঠেকায় পড়ে প্রথমকে ঠেকাবার অস্ত্র কিনতে বাধ্য হয়! আর কপাল ঠুকে একবার পাকিস্তানে এসে পড়লে আমেরিকার সব অস্ত্রই সেখানে পাওয়া যায়, জানা যায় ব্যবহারের কৌশল। সেখানে দায়িত্ব নিয়ে অস্ত্রের ডেমন্স্ট্রেশন দিয়ে, পিঠে সাবাশী চাপড় মেরে এগিয়ে দেওয়া হয় উগ্রপন্থার দিকশূন্য পথের দিকে। সে কাবুলের উগ্রপন্থী উপজাতি হোক, আফগানি হোক, পাকিস্তানি হোক কিংবা বেড়া টপকে ভারতে ঢুকে আসর জমিয়ে ফেলা কোন জঙ্গি গোষ্ঠীর খচ্চরই হোক–এরা সকলে ধোলাই মগজে ধর্মীয় জেহাদের নামে আসলে মার্কিনি ফাঁদের বগা হয়ে নিজেরা মরে, নিরীহকে মারে আর নখ বাজায় আমেরিকা! সে বেচুবাবু, হওয়া যত গরম হয়, ততই তার রমরমা! এটাই তো সে ছলে-বলে চিরকাল চেয়ে এসেছে। আজও চায়..।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *