Breaking News
Home / TRENDING / শুরুতে রবীন্দ্রনাথ যেমন হিটলারকে, তেমন সুভাষও কী মমতাকে চিনতে ভুল করেছিলেন!

শুরুতে রবীন্দ্রনাথ যেমন হিটলারকে, তেমন সুভাষও কী মমতাকে চিনতে ভুল করেছিলেন!

পার্থ সারথি পাণ্ডা : 

বেশকিছু কাল ধরেই কিডনি আর হার্টের অসুখে ভুগতে ভুগতে মৃত্যুর ডাক শুনতে পাচ্ছিলেন, তাই মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করেছিলেন কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়। তারপর তিনি মারা গেলেন ২০০৩ এর ৮ জুলাই । তখন তাঁর মরদেহের দখল নিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। সেই সময়ের কোনও কোনও সংবাদপত্রে এমন কথা লেখাও হয়েছিল। অনেকে বলেন, মমতা চিরকালই নিজের ইচ্ছেকেই সার্বজনীন ইচ্ছে বলে মনে করেন! তাহলে এক্ষেত্রেও কী তাঁর ইচ্ছের তলায় পড়ে কবির শেষ ইচ্ছে নিহত হয়েছিল! কারণ, তাঁরই তদারকিতে কবির দেহ সাততাড়াতাড়ি দাহ করে ফেলা হল। অবশ্য মমতার সেই সময়ের ঘনিষ্ঠ বলয় থেকে জানানো হয়েছিল যে কবির পরিবারের লোকজনেরও নাকি এমন ইচ্ছেই ছিল। মমতার ভূমিকা নিয়ে তখন কেউ কেউ খানিক উচ্চবাচ্য করে ছিলেন বটে, তবে তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। কি কুক্ষণে যে কবি নয়ের দশকে ‘তেজময়ী’ মমতাকে দেখে ‘অগ্নিকন্যা’জ্ঞানে ‘ক্ষমতা গেছে মমতায়, মমতা গেছে ক্ষমতায়’ এর মতো লাইন লিখে ফেলেছিলেন! এই সংশয় আজও অনেক সুভাষ অনুরাগী কবিতা পাঠকের মনে আছে। আসলে কবি তখন তথাকথিত ‘কমরে- ড’ দের প্রতি এতটাই বীতস্পৃহ হয়ে উঠেছিলেন যে, বামপন্থীদের ছায়া ছেড়ে বিকল্প গণমুখী দল, রাজনীতি ও নেত্রীর উপর আস্থা রাখতে চাইছিলেন। সেই মুহুর্তেই মমতার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ। রাজনৈতিক সমাজ সচেতন শিল্পীর এই এক জ্বালা! গণ আন্দোলনের পথটা ক্রমে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির ও স্বজনপোষণের আখড়া না হয়ে ওঠা পর্যন্ত তাঁদের বিতৃষ্ণা আসে না। কারণ, কবি চেনেন, কিন্তু সম্পূর্ণ চিনতে তাঁরও অনেক সময় লাগে। রবীন্দ্রনাথও প্রথমে চিনতে পারেননি হিটলারকে। উত্থান পর্বে তাঁর স্থির বিশ্বাস ছিল হিটলারই একদিন হয়ে উঠবেন সারা বিশ্বের মুক্তিদাতা। তারপর যখন ভুল ভাঙ্গল তখন লিখলেন ‘সভ্যতার সংকট’। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় সেই সময়টা পাননি। তবে, কবির কবিতার চরণের মানে তো সময়ের পথে ভিন্ন ভিন্ন ব্যঞ্জনা নিয়ে আসে… আজ তাই ‘ক্ষমতা মমতা’ জাতীয় পংক্তিমালার মধ্যে স্মিত ব্যঙ্গ কালের কণ্ঠে শুনতে পাই। হয়তো সে ব্যঙ্গ স্বকপোলকল্পিত, হয়তো কানটা নিজের..তাই.. কবিকে সাততাড়াতাড়ি দাহ করে মমতা বামপন্থীদের একদিকে মরদেহ দখল নেবার সুযোগ দেননি, অন্যদিকে বঙ্গবাসীকে দেখিয়ে দিলেন, দেখ, আমি ছাড়া আজ কবির পাশে কেউ নেই…। তারপর বুড়ি গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেল। তৃণমূল ভবন হল। সিঁড়িতে কবির ছবি টাঙানো হল। আবেগ মরে গেল, একদিন ছবিও সরে গেল… এসব পনের বছর আগের কাসুন্দি । পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটতে তেমন ইচ্ছে করে না, তবু ঘেঁটে ফেললাম, কারণ আজই কবির মৃত্যুদিন আর তাঁর শেষ ইচ্ছের অপমৃত্যুর দিন…

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *