নিজস্ব সংবাদদাতা।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) থেকে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) কী বেশি সমীহ আদায় করে নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে ? সম্প্রতি এমনই প্রশ্ন উঠেছে জাতীয় রাজনৈতিক মহলে। গত মে মাসে কৃষ্ণনগর লোকসভা থেকে জিতে সংসদে পা রেখেছেন মহুয়া মৈত্র। সংসদে প্রথম দিন থেকেই নিজের উপস্থিতির ছাপ রাখতে সক্ষম হয়েছেন এই তৃণমূল সাংসদ। মঙ্গলবার তাঁর দায়ের করা একটি মামলায় নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) সরকার কার্যত হার মেনে নিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। করিমপুরের বিধায়ক থাকাকালীন সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন মহুয়া। মামলার মূল বিষয় ছিল, বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার বিরুদ্ধে আদালতের আবেদন করেন মহুয়া।
এদিন সেই মামলার শুনানি হয়েছিল উচ্চ আদালতে। মঙ্গলবার সেই মামলার রায় বেরোনোর পর উচ্ছ্বসিত মহুয়া টুইটারে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, “আমার পিটিশনের ভিত্তিতে এদিন ইউআইডিএআই জানিয়েছে, তারা সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি হাব গঠন করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। একইসঙ্গে জানিয়েছে, অদূর ভবিষ্যতেও এমন হাব তৈরি করার কোনও পরিকল্পনা নেই। বেআইনিভাবে মানুষের উপর নজরদারির বিরুদ্ধে বিচার পেলাম। আজ এক বড় জয়ের দিন।”
এদিন সুপ্রিম কোর্টে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদের পক্ষে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি (Abhishek Manu Singhvi)। শুনানিতে তিনি দাবি বলেন, “সরকার যে পরিকল্পনা করছে, তা পুরোপুরি গোপনীয়তার অধিকার খর্ব করে।” তাছাড়া, এতে নাগরকিদের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। সিংভির সেই যুক্তি মেনে নেয় আদালত। সেই মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “ই-মেলে আর নজরদারি করা হবে না। ই-মেলে নজরদারির জন্য প্রস্তাবিত টেন্ডারও বাতিল করা হয়েছে।” তাঁর মামলার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার পিছু হটায় নিজের আনন্দের টুইটারে ব্যক্ত করেন তিনি।
সম্প্রতি তিনি সুপ্রিম কোর্টে নাগরিক সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলাটি নিয়েও চিন্তা রয়েছে বিজেপি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নাগরিকদের জীবনে হস্তক্ষেপের বিষয়টি থেকে পিছিয়ে আসার পর এখন তাঁর দায়ের করা মামলার ওপরই নজর রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের।
উল্টোদিকে হুইপ সত্ত্বেও সিএবি-র দিনে আট জন সাংসদের অনুপস্থিতি মমতার বিরুদ্ধ মহলকে উৎসাহ দিচ্ছে। দলের শৃঙ্খলা কমিটি কারন দর্শাতে তো বলছেনই না, উল্টে নেত্রী স্বয়ং সেলেব সাংসদদের হয়ে সাফাই গাইছেন। আট জনের অনুপস্থিতিকে মোদির প্রতি মমতার আরও একটি বার্তা বলেই মনে করছেন অনেকে। রাজ্যের বিরোধী দল তো বটেই, মঙ্গলবার এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফুরফুরা শরিফের ত্বহা সিদ্দিকিও। উল্টো দিকে মহুয়ার বিরোধিতা অনেক গঠনমূলক বলেই অভিমত রাজনৈতিক মহলের।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুলনায় কি গেরুয়া শিবিরের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন মহুয়া মৈত্র?
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news