নিজস্ব সংবাদদাতা, রামপুরহাট,ঃ
মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বিরোধী প্রার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হল গোলাপ ফুল। সঙ্গে বাড়তি পাওনা বাতাসা ও জল। সৌজন্যে তৃণমূল। এভাবেই অভিনব পদ্ধতিতে তৃণমূল তাঁদের বিরোধী প্রার্থীদের সম্বর্ধনা জানাল বীরভূমের নলহাটি ১ নম্বর ব্লকে।
সাড়া রাজ্যের সঙ্গে বীরভূম জেলাতেও শাসকের দলের বিরুদ্ধে মনোনয়ন কেন্দ্রের সামনে জমায়েতের অভিযোগ ওঠে। দুষ্কৃতীদের বোমা গুলির সেই দুর্গ ভেঙে ৫ এপ্রিল মনোনয়ন জমা দিতে যায় বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। দুষ্কৃতীদের ছোড়া ইট, পাথর ও বোমায় জখম হন প্রাক্তন সাংসদ রামচন্দ্র ডোম সহ অনেকে। ওই দিন তাঁরা পঞ্চায়েত সমিতি স্তরে ১৩ এবং গ্রাম পঞ্চায়েতে ৭৫ টি আসনে মনোনয়ন জমা দেয়। পরে ধীরে ধীরে অধিকাংশ প্রার্থীই মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। শনিবার আরও পাঁচ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ওই ব্লকে বাউটিয়া, বানিওর ও কলিঠা গ্রাম পঞ্চায়েতের আটটি আসনে নির্বাচন হবে। পঞ্চায়েত সমিতির ২১ টি আসনেই বিরোধীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছে। এদিন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন কয়থা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিএম প্রার্থী যাদব কুমার মাল এবং জনতা দল (ইউনাইটেড) এর সীমন্ত ফুলমালি। কলিঠা গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিএম প্রার্থী আশরাফ হোসেন এবং পঞ্চায়েত সমিতিতে জনতা দলের অমরজিৎ ফুলমালি সহ আরও একজন প্রত্যাহার করে নেন। তাঁদের প্রত্যেককে গোলাপ ফুল দিয়ে সম্বর্ধনা জানানো হয়। খাওয়ানো হয় জল ও বাতাসা। তৃণমূলের রামপুরহাট শহর সভাপতি পিন্টু সিং বলেন, “এই সমস্ত মানুষ প্ররোচনায় পা দিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। পরে ভুল বুঝতে পারে। তাঁরা সরকারের উন্নয়নে সামিল হতেই শেষ দিনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলেন। তাই আমরা তাঁদের সম্বর্ধনা জানালাম”। তৃণমূলের ঘেরাটোপে থাকা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়া প্রার্থীরা জানান, উন্নয়নের সামিল হওয়ার জন্যই তাঁরা সরে দাঁড়ালেন। সিপিমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রামচন্দ্র ডোম বলেন, “যাঁরা রক্ত ঝরিয়ে, বোমা বারুদের সামনে দাঁড়িয়ে এতো ঝুঁকি নিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, তাঁরা উন্নয়নে সামিল হয়ে মনোনয়ন তুলে নিয়েছেন এটা বেমানান কথা। পুলিশ এবং তৃণমূল দুর্বৃত্তরা যেভাবে পরিবারে পরিবারে গিয়ে হুমকি দিয়েছে। তাঁদের সুরক্ষা নেই। পুলিশ নগ্নভাবে শাসক দলের হয়ে কাজ করেছে। যেখানে রক্ষক ভক্ষক হয়ে গিয়েছে সেখানে দাঁড়িয়ে কি করবেন তাঁরা।” কংগ্রেস বিধায়ক মিল্টন রশিদ বলেন, “কাউকে খুনের হুমকি, আবার কাউকে জমি সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে প্রত্যেকের মনোনয়ন প্রত্যাহার করিয়েছে। আমরা লড়াই করে কয়েকটি মনোনয়ন জমা করিয়েছিলাম। এখন সেগুলো তুলতে বাধ্য হয়েছি”। বিজেপির জেলা অবজারভার সমীরণ সাহা বলেন, “শাসক এবং পুলিশের সাঁড়াশি আক্রমণে অনেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন। যেখানে আমাদের শক্তি রয়েছে সেখানে দাঁতে দাঁত ঠেকিয়ে কর্মীরা পড়ে রয়েছেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে চলেছে”।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news