নিজস্ব সংবাদদাতা:
দিকশূন্যপুরে পাড়ি দিলেন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। বড়দিনে শীতের কলকাতাকে ঘিরে ধরল বাড়তি কুয়াশা। সেই কুয়াশা শোকের। কবির মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ যেমন অগণিত পাঠক, তেমনি বাংলা ভাষার বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিকরাও।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ভাষায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়লাম। আশ্রয়হীন মনে হচ্ছে নিজেকে। বাংলা সাহিত্যের ক্ষতি হল, ভাষার ক্ষতি হল। নীরেনদা সেই মানুষ, যিনি প্রত্যেক শব্দের মানে জানতেন। এমন মানুষ আজকের দিনে খুঁজে পাওয়া যায় না। তাঁর সঙ্গ পেয়েছি। বড় বিষণ্ণ লাগছে।
জয় গোস্বামী বললেন, একটি জ্যোতিষ্কের পতন। কলকাতার যিশু, উলঙ্গ রাজা-র মতো বহু বিখ্যাত কবিতার স্রষ্টা তিনি। সবচেয়ে বড় কথা, নব্বই বছর পার করেও তিনি কবিতা লিখে গেছেন। যা তরুণ কবিদের কাছে প্রেরণা হয়ে উঠেছিল। চল্লিশের কবিদের মধ্যে তিনি অগ্রগণ্য। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্যের ক্ষতি হয়ে গেল। বাংলা বানান নিয়ে খুব চিন্তা করেছেন। আমি শোকাহত।

বেদনাবিদ্ধ সুবোধ সরকার মনে করেন, বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান ভোলার নয়। বিস্ময়কর যে কলকাতার যিশু চলে গেলেন ২৫ ডিসেম্বরে! এমন ঐতিহাসিক সমাপতন বাংলা কবিতায় কখনও হয়নি। ৭০ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলা কবিতার সঙ্গে ছিলেন। বাংলা কবিতাকে আধুনিক করে তুলেছিলেন তিনি। সান্তিয়াগোতে পাবলো নেরুদা চলে যাওয়ার পর যে রকম অবস্থা হয়েছিল আজ কলকাতার সেরকম অবস্থা। বাংলা সাহিত্যে তাঁর কাছে চির ঋণী থাকবে।

তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি কবি অংশুমান কর জানালেন, কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ইতিমধ্যে চিরস্মরণীয়। তাঁর কবিতা বহু মানুষের অনুপ্রেরণা। বাংলা কবিতা তাঁর কাছে ঋণী। কিন্তু আমরা যারা তাঁর স্নেহ, সান্নিধ্য পেয়েছি তাদের কাছে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি। অনেক বিষয়ে তাঁর কাছে যেতাম, ফোন করে পরামর্শ নিতাম। আমি নিজে বহুবার বানান বিভ্রমে তাঁকে ফোন করেছি। উনি সঙ্গে সঙ্গে বলে দিয়েছেন কোনটি সঠিক এবং কেন। এইসঙ্গে দেখেছি বয়স নব্বই পেরিয়েও কতখানি শৃঙ্খলাবোধ তাঁর ভিতরে। যেদিন কবিতা দেবেন বলেছেন সেদিনই দিয়েছেন। তবে ওঁর শরীরটা ইদানিং ভালো যাচ্ছিল না। মনে মনে আশঙ্কা করছিলাম। সেই ঘটনাই ঘটে গেল। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর মৃত্যুতে বাংলা কবিতা ও ভাষার এক বটবৃক্ষের মৃত্যু হল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news