চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
করোনা ভাইরাসের (Coronavirus) সংক্রমণ রোধে লকডাউন বাড়ানোই নয়, এবার থেকে শুরু হয়েছে ‘নাইট কারফিউ’ (Night Carfew)। রবিবার রাতে প্রকাশিত কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চতুর্থ দফার এই লকডাউনে সকাল সাতটা থেকে সন্ধে সাতটা পর্যন্ত কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় মিললেও, সন্ধে সাতটা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত জারি থাকবে ‘নাইট কারফিউ’। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ বেরোতে পারবেন না এই ১২ ঘণ্টায়। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আচমকাই কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র? লকডাউন কার্যকর করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কঠোর হলেই তো নতুন এই পদ্ধতির প্রয়োজন হত না।
কারণ প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে, লকডাউন চলাকালীন রাতের অন্ধকারে পরিযায়ী শ্রমিকরা মাইলের পর মাইল পথ হাঁটছেন। এবং সেই সঙ্গে রাতের অন্ধকারে তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। তাতে উদ্বিগ্ন কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকারগুলি। সঙ্গে রাতে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে বাস পরিষেবা চলছে, তাতেও দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বাড়ি ফেরার তাড়নায় জাতীয় সড়ক দিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের মিছিল চলছে। জাতীয় সড়ক দিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে চলাচল করছে সরকারি ও বেসরকারি বাসগুলি। তাছাড়া, সারাদিন লকডাউনে গৃহবন্দী থেকে সন্ধ্যার পর বাইরে বেরিয়ে অযথা আড্ডা তথা এলাকায় এলাকায় আম জনতার জমায়েত হচ্ছে বলেও পুলিশ প্রশাসন মারফত জেনেছে সরকার। ফলে যে কারণে লকডাউন করা হয়েছে সেই বিষয়গুলি বজায় রাখা যাচ্ছে না সন্ধ্যার পর। তাই রাতে শ্রমিকদের পথ হাঁটা, বেপরোয়াভাবে বাস চলাচল ও মহল্লায় মহল্লায় অযথা জামায়াত বন্ধ করতেই এমন ‘নাইট কারফিউ’-এর কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এককথায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তথা দুর্ঘটনার রুখতে নেওয়া হয়েছে ‘নাইট কারফিউ’য়ের কর্মসূচি।
প্রয়োজনে কতটা জোরদার ভাবে পালন করা হবে এই ‘নাইট কারফিউ’, তা ঠিক করবে কোনও এলাকার স্থানীয় প্রশাসন। এমনকি স্থানীয় প্রশাসন যদি মনে করে সুরক্ষার স্বার্থে ১৪৪ ধারা জারি করতে পারবে তারা। কোন কোন জরুরি কাজে কতক্ষণের জন্য কারা বেরোতে পারবেন, কী কী বিধিনিষেধ থাকবে এই নাইট কারফিউ চলার সময়ে, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ১০ বছরের নীচের কোনও বাচ্চা এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়স্ক কোনও বৃদ্ধ এই সময়ে বেরোতে পারবেন না। বেরোতে পারবেন না অন্তঃসত্ত্বা কোনও মহিলা বা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এসব রোগের বাহকরা।
১২ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন, নতুন ভাবে নতুন রূপে আসবে লকডাউনের চতুর্থ পর্যায়। গত দেড় মাসের লকডাউনে কখনও ট্রেন দুর্ঘটনায়, কখনও পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। তাই এবারের লকডাউনে তেমন পরিস্থিতি এড়োতে যাবতীয় প্রস্তুতি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news