Breaking News
Home / TRENDING / ফড়ে দাপট রুখতে খাদ্য দফতরের হাতিয়ার ‘কৃষকবন্ধু’

ফড়ে দাপট রুখতে খাদ্য দফতরের হাতিয়ার ‘কৃষকবন্ধু’

সূর্য সরকার

হাজারো ব্যবস্থা করেও খাদ্য দপ্তর ফড়েদের ওপর রাশ টানতে পারছে না। তাই কৃষক ও সরকারের মধ্যে দূরত্ব ঘোচাতে নতুন প্রকল্পের সূচনা করতে চলেছে তারা। “কৃষকবন্ধু” নামক প্রকল্পকে কাজে লাগিয়ে ফড়ে রাজ বন্ধে নয়া কৌশল নেওয়া হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে ধান সংগ্রহে নতুন লাগু হচ্ছে নতুন নিয়ম। ওয়েবসাইটে তুলে রাখা হচ্ছে প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সামগ্রিক তথ্য । রাজ্যের ৭২ লক্ষ কৃষকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই নথিভুক্ত হয়েছে ৪০ লক্ষ কৃষকের নাম, বাকিদের  নাম লেখানোর কাজ চলছে। সেই তালিকাই হতে চলেছে এই অর্থবর্ষের ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে বেনিয়ম আটকানোর হাতিয়ার।

খাদ্য দফতর সূত্রের খবর , সেই তালিকা ধরে ধরে কোন জেলায় কোন কৃষকের কত জমি আছে তার হিসেব রাখা হবে। তারপর সেই কৃষকের থেকে তাঁর জমি পিছু সর্বোচ্চ ধান সংগ্রহ করবে খাদ্য দফতর। অন্যদিকে , যারা ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পে নাম লেখাবেন না সেই সব কৃষকদের ক্ষেত্রে লাগবে বিডিও বা বিধায়কের শংসাপত্র। ফলে কেউ এক জায়গায় ধান বিক্রি করার পর অপর কোনও সরকারি ক্যাম্প গিয়ে ফের ধান বিক্রি করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে ফড়ে দাপট বন্ধ করা সম্ভব হবে বলেই মনে করছে খাদ্য দফতর।

কিভাবে হবে এই চিহ্নিতকরণের  কাজ ? খাদ্য দফতর সূত্রের খবর , “কৃষকবন্ধু” প্রকল্পে যে নাম লেখানো হচ্ছে , যে কৃষকরা সাহায্য পাচ্ছেন তাদের সামগ্রিক তথ্য অর্থাৎ নাম, ঠিকানা,জমির পরিমান সবকিছুই  নথিভুক্ত হয়ে যাচ্ছে অনলাইনে। সেক্ষেত্রে কোন জেলায় কত পরিমান জমিতে সর্বোচ্চ কত ধান উৎপাদিত হতে পারে তার একটা হিসেবও থাকবে দফতরের হাতে। ফলে, ধান সংগ্রহের সময় সেই কৃষক সরকারি সংগ্রহ কেন্দ্রে আসলে তাঁর থেকে ওই পরিমানই ধান কেনা হবে। সেক্ষেত্রে , কেউ একটা ক্যাম্পে ধান বিক্রি করে অপর ক্যাম্পে ফের ধান বিক্রি করতে গেলে হাতেনাতে ধরা পড়ে যাবে। কারণ, কোনও কৃষকের নিজের জমিতে কত ধান সর্বোচ্চ উৎপাদন করতে পারে। সেই  হিসেবের বাইরে ধান বিক্রি করতে গেলে সেটা ফড়ের কাজ হিসেবেই ধরে নেওয়া হবে ।

পাশাপাশি, যারা ‘ কৃষকবন্ধু ‘ প্রকল্পে নাম লেখাবেন না সেই সব কৃষকদের ক্ষেত্রে লাগবে বিডিও বা বিধায়কের শংসাপত্র। এইভাবেই ফড়ে রাজ বন্ধে পদক্ষেপ নিতে চলেছে খাদ্য দফতর। আগামীকাল বুধবার খাদ্য ভবনে ২০১৯-২০  সালের ধান সংগহের  কাজ নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন , ” ফড়ে দাপট বন্ধে আমরা বদ্ধপরিকর । তাই কৃষকবন্ধু প্রকল্পে এই কাজে লাগানোর একটা পরিকল্পনা করেছি । বুধবারের বৈঠকে সেই নিয়ে আলোচনা হবে । অনেকটাই কাজ এগিয়েছে আমাদের।” প্রসঙ্গত এর আগে “চেক নিন, ধান দিন” প্রকল্প নিয়েও ফড়েদের আটকাতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রকল্পে সঙ্গে এবার চালু হচ্ছে কৃষকবন্ধু” প্রকল্প।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *