চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো :
এক চিলতে ঘর, তার মধ্যেই গাদাগাদি করে থাকা জনা দশেক মানুষ। তাঁদের না আছে ঘরে একটু হাত পা ছড়ানোর জায়গা না আছে নিজস্ব একটা বাথরুম। জলও কিনতে হয় পয়সা দিয়ে। কাজেই সামাজিক দূরত্ব আর বারবার হাত ধোওয়া অথবা সারাদিন ঘরের মধ্যে থাকা কোনওটাই সম্ভব হয় না এঁদের। এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম বস্তি ধারাভি এই সব কারণ মিলিয়েই মহারাষ্ট্র তো বটেই সারা দেশের কপালে চিন্তা ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই বস্তির বেশ কিছু লোকের শরীরে করোনা ভাইরাস থাবা বসিয়েছে। মারাও গিয়েছেন বেশ কয়েকজন। প্রথম যিনি মারা যান তাঁর বাড়িতে তবলিঘ-ই-জামাতের বেশ কিছু সদস্যও ছিলেন কয়েকদিন ধরে। এঁদের থেকেই সংক্রামিত হয়েছিলেন তিনি। এই বস্তির আরও কিছু বাড়িতে জামাতের সদস্যরা যান।
রোগ ছড়ায় সেখান থেকেও। এছাড়া অন্যান্য জায়গা থেকে আক্রান্ত হয়ে এসেছেন আরও অনেকে। মহারাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোজ। দেশের সমস্ত মৃত্যুর আর্ধেকই মহারাষ্ট্রে। আপাতত এখানকার ১৫ লাখ মানুষের মধ্যে ৩০ হাজার লোক কোয়েরান্টিনে আছেন। কিন্তু তাতে যে বিষয়টা সামাল দেওয়া যাবে না তা মানছে মুম্বাই প্রশাসন। এই মানুষগুলির ভাইরাসের ভয় আছে, কিন্তু তার থেকেও বড় ভয় লকডাউনের। খেতে না পাওয়ার ভয়। ধারাভির বাসিন্দারা বেশিরভাগই পরিযায়ী শ্রমিক। সারা দেশ থেকে মুম্বাইয়ে আসেন এঁরা কাজের সন্ধানে। আপাতত কাজ বন্ধ।
কখনও কোনও নেতা বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এখন এঁদের খাবার ব্যবস্থা করছেন। কিন্তু প্রশাসনের চিন্তা লকডাউন তোলা মাত্র এঁরা ছড়িয়ে পড়বেন সারা দেশে। তখন কী হবে ? দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় রোগ নিয়ে যাবেন এঁরা সঙ্গে করে। কাজেই লক ডাউন তুললে ধারাভির বাসিন্দাদের মাধ্যমে মহারাষ্ট্রের তীব্রতা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া আটকানো এখন প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news