Breaking News
Home / TRENDING / মুকুল মন্ত্রী হলে চাপ বাড়বে মমতার, আজই দিল্লি যাচ্ছেন চাণক্য

মুকুল মন্ত্রী হলে চাপ বাড়বে মমতার, আজই দিল্লি যাচ্ছেন চাণক্য

নীল রায়।

অবশেষে স্বীকৃতি পেতে চলেছে বিজেপিতে মুকুল রায়ের অবদান।

সূত্রের খবর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তাঁকে স্থান দিতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। দিল্লি থেকে তলব পেয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যার বিমানে রাজধানী যাচ্ছেন তিনি। বিজেপির একটি সূত্র জানাচ্ছে, ভারী শিল্প অথবা কয়লা মন্ত্রকের দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি। এমন খবর চাউর হতে, বাংলার রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপিতে মুকুলের গুরুত্ব বৃদ্ধির পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর তার কি কি প্রভাব পড়তে পারে। এক সময় মুকুল রায় ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বিশ্বস্তদের একজন। শোনা যায় কালক্রমে ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলে জায়গা করে দিতে গিয়ে দূরত্ব আসে মুকুল-মমতার। তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে ‘অপমানিত’ মুকুল যোগ দেন বিজেপিতে (BJP)। প্রায় আড়াই বছর নিরলস পরিশ্রম করেছেন গেরুয়া শিবিরের হয়ে। গত লোকসভা ভোটে নির্বাচন কমিটির প্রধান হিসেবে দলকে ১৮টি লোকসভা কেন্দ্র উপহার দেন মুকুল। সেই থেকেই অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদীর সুনজরে তিনি।

দল ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে আর মুকুল রায়ের নাম মুখে আনতেন না মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু গত বছর লোকসভা ভোটের শেষ পর্যায়ে নিজের বাড়ির সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর নাম করে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মুকুলের বিজেপিতে গুরুত্ব বৃদ্ধিতে তাঁর পুরনো দলের সুপ্রিমোর উৎকণ্ঠা বাড়বে, অন্তত রাজনৈতিক মহলের এমনই ধারণা। সম্প্রতি বঙ্গ বিজেপির সংগঠনে মুকুলের প্রভাব বিস্তারের ঘটনা কারও অজানা নয়। এরপর মুকুল ভারী শিল্প অথবা কয়লা মন্ত্রক কিংবা দুটো মন্ত্রকেরই দায়িত্ব পেলে সেই উৎকণ্ঠা যে কয়েক হাজার গুণ বৃদ্ধি পাবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল।

কারণ তৃণমূলে থাকাকালীন মমতা ‌ বন্দোপাধ্যায় ও মুকুলের যুগলবন্দী দেখিয়েছিল মন্ত্রিত্বকে কিভাবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। ২০০৯ সালে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের আমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর সব ঘুটি সাজাতেন মুকুল রায় (Mukul Roy)। সেই মুকুলই এখন বিজেপির মত ক্ষমতাশালী দলের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে সেই ক্ষমতা রাজ্য রাজনীতিতে যে তিনি ব্যবহার করবেন, সে ব্যাপারে নিশ্চিত তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মন্ত্রকের কাজকর্ম থেকে শুরু করে তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচি দেখভালের দায়িত্ব ছিল মুকুলের কাঁধে। পরিবর্তনের যুদ্ধে বামফ্রন্ট বধে সেই রণকৌশল সবদিক থেকেই সাফল্য পেয়েছিল।

এবার বিপরীত শিবিরে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতা মুকুল রায়। তাঁর লক্ষ্য ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনে তৃণমূল তথা মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ক্ষমতাচ্যুত করা। কেন্দ্রীয় বিজেপিও যে পশ্চিমবঙ্গকে পাখির চোখ করেছে তাও নিশ্চিত তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। তাই মুকুলকে যে তারা পশ্চিমবঙ্গে মমতার বিরুদ্ধে যে কোনও রণকৌশল অবলম্বন করতে সম্পূর্ণ ছাড় দেবেন তা কারও অজানা নয়। লোকসভা ভোটেই সেই রণকৌশলের আঁচ টের পেয়েছে তৃণমূল। জোড়াফুল শিবিরের অন্দর মহল মুকুলের কাছে অজানা নয়। কোন অস্ত্রে কাকে ঘায়েল করতে হবে, তাও জানেন ঝানু এই রাজনীতিক। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার সুবাদে পশ্চিমবঙ্গে তাঁর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা যে দিদির কাছে রীতিমতো চাপের হবে তাও মেনে নিচ্ছে বাংলার রাজনীতির কারবারিরা। ‌এতদিন যেভাবে রাজ্য প্রশাসনের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে মুকুল রায়কে হেনস্তা করত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার, তা আর সহজে করা যাবে না, তেমন কোনও ঘটনা ঘটলে জাতীয় স্তরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে। সঙ্গে যে দুটি মন্ত্রিত্ব মুকুল পেতে পারেন, সে দুটি রাজ্য সরকারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পশ্চিমবঙ্গের কোনও ভারী শিল্প স্থাপন করতে গেলে মুকুলের দ্বারস্থ হতে হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যা হবে তাঁর পক্ষে অত্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। কয়লা মন্ত্রকের দায়িত্ব পেলে রাজনীতির খেলা আরও ঘোরালো হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, বীরভূমের দেউচা পাঁচামির কয়লা খনি নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পকে ঘিরে ভালো বিনিয়োগ আসবে, তেমনি বাড়বে কর্মসংস্থান, তেমনই আশা রাজ্য সরকারের। তবে সবকিছুই নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রকের ইতিবাচক মনোভাবের ওপর। মুকুল রায় যদি কয়লা মন্ত্রী হন, তাহলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখোমুখি হতে হবে তাঁর। কিন্তু দেউচা পাঁচামির কয়লা খনি নিয়ে রাজ্য বিজেপি বেশ কিছু আপত্তির কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জানিয়েছে। তাই বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রকল্পটিকে তুরুপের তাস করতে চাইছেন মমতা। বিজেপির বিরোধিতার সঙ্গে মুকুল রায়ের মতো কয়লা মন্ত্রীর সামনে পড়লে প্রকল্প থেকে রাজনৈতিক লাভ তুলতে চাইলে সত্যিই সমস্যায় পড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর মুকুলের কাছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব কোনও নতুন বিষয় নয়। এর আগে তৃণমূলে থাকাকালীন দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় জাহাজ ও রেল প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন প্রথম দফায়। পরের দীনেশ ত্রিবেদী সঙ্গে রেলের ভাড়া বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিবাদের জেরে রেল মন্ত্রকের পূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছিলেন মুকুল। কেন্দ্রীয় সরকারি ক্ষমতা ও রাজনীতি দুটি বিষয়কে একসঙ্গে চালাতে অভ্যস্ত তিনি। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র নয় মাস বাকি। তার আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজনৈতিক ক্ষমতার জোড়া ব্যবহার কিভাবে করতে হয় তা ভালোই জানেন মুকুল। সেই কারণেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিন্তা যে বাড়বেই তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *