ডম্বরুপাণি :
মোদি-মুকুল একান্তে কয়েক মিনিট। তাতেই দুশ্চিন্তার মেঘ নেমে এসেছে এই মুহুর্তে যাঁরা মুকুলের রাজনৈতিক মৃত্যু চাইছেন তাঁদের মুখে। মুকুল অবশ্য কয়েকদিন আগে বলেছেন তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা হচ্ছে। এমনকি তাঁকে যে এর আগেও খুন করতে চাওয়া হয়েছিল, সে কথাও বলেছেন মুকুল। সে সব কথা শুক্রবারের শান্তিনিকেতনে রাবীন্দ্রিক পরিমণ্ডলে একেবারেই বেমানান। বরং যে বিষয়টি কারও কারও ভ্রু কপালে তুলেছে তা হল মোদি-মুকুল অন্তরঙ্গতা। কয়েক মিনিট মুকুলের সঙ্গে আলাদা করে কথা বললেন মোদি। ‘কী কথা তাহার সাথে?’ মুকুলের বিপক্ষ মহলে এখন ছেয়ে আছে এই জীবনানন্দীয় প্রশ্ন! মুকুল বলছেন, সাধারণ কথাই হয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরের মধ্যে এমনকি বিজেপিরও অনেক পদাধিকারীর গোচরে মুকুলের সঙ্গে এ কেমন ‘সাধারণ কথা’ মোদির!
এর আগে মোদিকে স্বাগত জানানোর সময় রাজ্যপাল, বিজেপির রাজ্য সভাপতি এবং আরও অনেকের সামনেই মুকুলের সঙ্গে কিঞ্চিত বেশি সময় ব্যয় করেন প্রধানমন্ত্রী। যাঁরা মনে করেন ও বলেন মুকুল বিজেপির একজন সাধারণ সদস্য মাত্র, তাঁদের কাছেও প্রশ্ন, মোদির কাছে মুকুলের গুরুত্ব ঠিক কোথায়! তৃণমূল কংগ্রেসে কিল খেয়ে কিল হজম করে লালবাতি নীলবাতি গাড়ি চড়া নেতা-মন্ত্রীর অভাব নেই। মুকুলও সম্ভবত পারতেন তাঁদেরই একজন হতে। হতে পারলে হয়তো সুখেও থাকতেন। শাসকের আগ্রাসনের মুখোমুখি হয়ে যে লড়াই তিনি নিত্য লড়ছেন সেই লড়াই তাঁকে লড়তে হত না। তাঁর নিজের এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের ওপর চলা পুলিশি দমন প্রক্রিয়ার চাপ নিতে হত না। রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করে বললে, “কলঙ্ক যেমন থাকে শশাঙ্কের বুকে, কর্মহীন, গর্বহীন, দীপ্তিহীন সুখে… ” তেমন সুখে মুকুলও থাকতে পারতেন। তিনি থাকেননি। আবেগ দিয়ে গড়ে ওঠা দলের পরিবারতান্ত্রিক পরিণতি দেখে তিনি প্রতিবাদ করেছেন।
কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসা দলের, পরে বিজেপির হাত ধরে এগিয়ে যাওয়া দলের, এ রাজ্যে নেহরু-গান্ধি পরিবারের প্রতিনিধি হয়ে থেকে যাওয়া তিনি সমর্থন করেননি। মুকুল ঠিক না ভুল তা সময় বলবে। তবে তিনি একটি অবস্থান নিতে সক্ষম হয়েছিলেন কয়েক মাস আগে।
মুকুল এখনও পর্যন্ত দলের কোনও পদে নেই। তিনি এখনও সাংসদ নন। তবু মুকুল রায় বিজেপিতে মুকুল রায় হয়েই আছেন। তাঁর কোনও কোনও সঙ্গী ধৈর্য ধরে রাখতে পারছেন না। স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটা সবার কর্ম নয়। শাসকের কোনও কোনও ফঁড়ে জাতীয় কৃপাপ্রার্থী পরগাছা নেতা(!) মুকুলের ঘর ভাঙতে সক্রিয় হয়েছেন। এমনকি বিজেপির কোনও কোনও সরল সাদাসিধে নেতার মাথায় ঈর্ষার বিষ ঢুকিয়ে মুকুলকে দলছুট করতে উদ্যত হয়েছে।
তবু মুকুল আছেন মুকুলেই।
মুকুলের মুকুল হয়ে থাকার সুফল পঞ্চায়েতে মিলেছে। পঞ্চায়েত পরবর্তী কিছু রাজনৈতিক তৎপরতাও ইতিমধ্যেই চোখে পড়েছে। কোনও কোনও জায়গায় সাধারণ মানুষ মুখ খুলছেন। সরব হচ্ছেন। মুকুল কাটছেন কিন্তু এখনই রক্ত পড়ছে না।
কি বললেন মোদি?
উত্তর নেই মুকুলের।
জুনে সংসদে যাচ্ছেন?
নিরুত্তর মুকুল।
তাঁর নীরবতা কী বলছে মমতার সামনে মুকুলের সঙ্গে একান্ত আলাপে গিয়ে মমতাকে মুকুলের গুরুত্ব বোঝালেন মোদি!
তাঁর নীরবতা কী বলছে পঞ্চায়েতের সাফল্য নিয়ে আত্মপ্রচার করা নেতাকে মোদি বোঝালেন বাস্তব!
মুকুল বললেন, সব উত্তর পাওয়া যাবে লোকসভায়।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news