ডম্বরুপাণি উপাধ্যায় :
অমিত শাহ রাজ্যের প্রতিটি জেলায় গিয়ে তৃণমূল বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা বাড়াবেন বলে জানিয়েছেন। আগেই জানা গেছে যে এখন থেকে তিনি প্রতি মাসে একবার করে রাজ্যে আসবেন। লোকসভায় ২২ টি আসনের লক্ষ্য এবং বিধানসভায় সরকার গঠন। পশ্চিমবঙ্গে এই এখন বিজেপির ঘোষিত টার্গেট। এই টার্গেটে পৌঁছনোর জন্য রাজ্য বিজেপির সভাপতি, সহকারী সভাপতিবৃন্দ, সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ, সম্পাদকবৃন্দ ও কর্মী-সমর্থক সকলে আছেন। মহিলা-ছাত্র-যুব, তারাও আছেন। এর বাইরে কী আর কেউ আছে বিজেপিতে! আর কেউ কী নিজের মগজাস্ত্রে শান দিচ্ছে তৃণমূলকে পরাস্ত করার লক্ষ্যে! কেউ কী দিনরাত এক করে টানা দু’মাস ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে রাজ্যের দক্ষিণ থেকে উত্তর! না আর কেউ নেই। অন্তত শনিবারের মেয়ো রোডে, অমিত শাহের সভা শুনতে এসে কোনও আনকোরা মানুষ যদি রাজ্য সভাপতির বক্তৃতা শোনেন তাহলে তাঁর এমনটাই মনে হওয়ার কথা। ঠিক বক্তৃতায় নয়, বরং বক্তৃতা শুরুর আগে মঞ্চে উপবিষ্টদের নাম উল্লেখ করার সময় তাঁর নাম মুখেই আনলেন না দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রীর পেটোয়া কোনও কোনও মহল তাঁকে প্রকাশ্যে বয়কট করেছে। (ভেতরে ভেতরে কি করছে বলা মুশকিল!) তাঁদের কোনও প্রকার বাধ্যবাধকতা হয়তো আছে। কিন্তু দিলীপ ঘোষ তো আর মুখ্যমন্ত্রীর বশংবদ শ্রেণীভূক্ত নন। তাহলে? তিনি চাচার মতো প্রবীন হেভিওয়েট কংগ্রেস প্রার্থীকে হারিয়ে বিধানসভায় গেছেন। তিনি কেন ওই পেটোয়াদের দলভূক্ত হতে যাবেন? তাহলে নাম উল্লেখ করলেন না কেন? সমস্যাটা কোথায়? কোনও কোনও মনোবিদ বলছেন, কমপ্লেক্স। ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্স। তাই দিলীপের এমন আচরন। কিন্তু কেন এই কমপ্লেক্স? বাস্তবটা এই যে রাজ্য সভাপতি যাঁর নাম মুখে আনছেন না তিনি রাজ্য রাজনীতির অলিগলি বহুদিন ধরে সিলি পয়েন্ট থেকে দেখছেন। তিনি জানেন কোন পথে পাকা রাস্তা, কোন পথে খানাখন্দ আর কোন পথটা আসলে কানাগলি। একটি দলের একদম শুরুর দিন থেকে তিনি খুব লো প্রোফাইলে থেকে কাজ করেছেন। রাজ্য রাজনীতির টেম্পারামেন্ট তিনি বোঝেন। রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে বহু মানুষ আছেন যাঁদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সরাসরি, ওয়ান-ইজ্ টু -ওয়ান। শুধু রাজ্য নয়। সর্বভারতীয় রাজনীতির পরিসরেও তাঁর পদার্পন অনেক আগেই হয়ে গেছে। তাহলে কেন কমপ্লেক্স! নাকি অন্য কোনও কারণ? ভরা সভায় তাঁর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে কিসের পরিচয় দিলেন দিলীপ ঘোষ! শনিবারের সভায় দিলীপের এমন আচরণ অনেকেরই চোখে পড়েছে। এ হেন অসৌজন্য দেখিয়ে কিছু কী লাভ হল রাজ্য সভাপতির! তাঁর বক্তব্যের পরে বিজেপির যুব সংগঠনের সর্বভারতীয় সভানেত্রী প্রমোদ-কন্যা তো তাঁর নাম নিলেন। আর অমিত শাহ তো বিশেষ ভাবে উল্লেখ করলেন তাঁর নাম। বললেন, ‘তৃণমূলকে উপড়ে ফেলে দিতে আমাদের সঙ্গে এসেছেন মুকুল রায়।’ শুধুমাত্র মুকুল রায় নয়। আরও অনেক নেতা-কর্মী অন্য দল থেকে এখন বিজেপিতে আসছেন, হয়তো আরও আসবেন। অনেক নামী ও বড় নেতাদের নামও বাতাসে ভাসছে, যাঁরা অন্য দল থেকে এসে বিজেপিতে যোগ দেবেন। দিলীপ ঘোষের এ হেন আচরণ তাঁদের কাছে কোন বার্তা পৌঁছবে? নতুনদের প্রতি যদি খোদ সভাপতির আচরণ অবমাননাকর হয় তাহলে এর প্রভাব নিচু তলাতে পড়াও স্বাভাবিক। কিছুদিন আগেও ছবিটা এমন ছিল না। দিলীপ ও মুকুল দুজনে কোচ ও ক্যাপ্টেন ছিলেন। অভিজ্ঞ মুকুলকে কোচ হিসেবে মেনে নিতে কোনও দ্বিধা ছিল না দিলীপের। তাহলে কোথায় সুর কাটল যে দিলীপ ঘোষ এতটা বেড়ে খেলতে শুরু করলেন! প্রকাশ্য জনসভায় অসৌজন্য প্রকাশ করতে তাঁর দ্বিধা হল না! দিলীপ-মুকুল বিবাদ লাগিয়ে দিতে পারলে যদি কোনও লাভ পাওয়া যায় সে লাভ যাবে তৃণমূলের ঘরে। বিজেপির অন্দরেই অনেকে বলছেন, মুকুল সম্পর্কে দিলীপের মন বিষাক্ত করছেন তৃণমূলেরই অনেক ‘ফঁড়ে জাতীয় নেতা।’ যদি সত্যি এমন হয়, তাহলে দিলীপ ঘোষেরই দায়িত্ব তাদের চিহ্নিত করা। সিদ্ধান্ত নেওয়া তাদের কথায় প্রভাবিত হবেন কি হবেন না। অন্যথায় মুকুলকে অসম্মান করার যে বার্তা মানুষের কাছে যাবে তা কিন্তু দিলীপের পক্ষেও সম্মানজনক নয়। বিজেপির পক্ষে তো নয়ই।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news