ডম্বরুপাণি উপাধ্যায় :
পিতৃপক্ষের অবসানে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র জুড়ে কী দাদা পক্ষের সূচনা হচ্ছে!
মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির রাজ্য দফতরে ঢুকলে কিন্তু এমনটাই মনে হবে।
সকাল এগারোটা থেকে বিজেপির অফিসের সামনে গুটি গুটি পায়ে যাঁরা জড়ো হচ্ছেন তাঁরা কেউ শুধোচ্ছেন, দাদা কি এসেছেন? কেউ জানতে চাইছেন, দাদা কখন আসবেন? লক্ষনীয়, যাঁদের এই অনুসন্ধানের উত্তর দেওয়ার কথা তাঁরা কেউ পাল্টা জিজ্ঞাসা করছেন না, কোন দাদা? মালা জমে জমে পাহাড় হওয়ার মতো লোক জমতে জমতে প্রায় জমায়েতের আকার নিল যখন এইসব অপেক্ষমানদের ‘দাদা’ পার্টি অফিসে প্রবেশ করলেন প্রায় বিকেলের দিকে। রবিবার মধ্য কলকাতার মুরলীধরে যখন এমন চিত্র চিত্রিত হচ্ছে তখনই ডিজিটাল দুনিয়ায় আরও একবার তোলপাড় শুরু হয়েছে এই ‘দাদা’ মানে মুকুল রায়কে নিয়ে। মুকুলের আরও একটি অডিয়ো ফাঁস। এই অডিয়োতেও শোনা গেছে মুকুল আলোচনা করছেন দু’কোটি টাকা খরচ করে একটি ভিডিয়ো ফুটেজ কেনার ব্যাপারে। যে ফুটেজে নাকি তৃণমূলের জন্য মারণাস্ত্র লুকিয়ে আছে! কংগ্রেস এবং তৃণমূল থেকে এদিন বেশ কয়েকজন যোগ দিলেন বিজেপিতে। মুকুলের দেওয়া হিসেব মত যোগদানের সংখ্যা ১২০০। দলীয় পতাকা তুলে দেওয়ার পাট চুকতেই সাংবাদিকদের থেকে অডিয়ো ফাঁস সংক্রান্ত প্রশ্ন উড়ে এল… আপনি বলেছেন দু’কোটি টাকা দিয়ে আপনি ওই ভিডিয়ো কিনবেন…
ব্যাট হাতে এই বলটার জন্যেই অপেক্ষা করছিলেন ব্যাটসম্যান মুকুল! স্টেপআউট করে উড়িয়ে দিলেন গুডলেন্থ ডেলিভারি একেবারে বাপি বাড়ি যা ভঙ্গিমায়। বললেন, “একথা আমি বলেছি। ওই ভিডিয়ো দিয়ে যদি তৃণমূলকে ধ্বংস করা যায় তাহলে আমার বাড়ি-ঘর বেচে ওই ভিডিয়ো আমি কিনব।”
ওদিকে দলীয় দফতরে মুকুল যে ঘরে বসেন সেই ঘরের সামনে ভিড়। ভিড় মানে রাজ্যের খণ্ডচিত্র। পুরুলিয়া, আলিপুরদুয়ার, মেদিনীপুর আর হুগলি। জঙ্গলমহল, চা-বাগান, নন্দীগ্রাম আর সিঙ্গুরের সমাবেশ। পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন মুকুলের কাছে আর মুকুল বোঝাচ্ছেন লোকসভা-লড়াইয়ের কৌশল।
তারপর…
তারপর রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় অসুরদলনী ঢাকের বাদ্যি বুকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে পা বাড়াল জঙ্গলমহল, চা-বাগান, নন্দীগ্রাম আর সিঙ্গুর।
চেয়ার ছেড়ে ওঠার আগে মুকুল জানালেন, রাতে বাড়িতেও অনেকে আসবে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news