নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
সোমবার মেদিনীপুরের সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, আর কয়েক মাসেই তৃণমূলের জুলুম থেকে মিলবে মুক্তি। এই মন্তব্য রীতিমতো ইঙ্গিতবাহী। কিন্তু কীসের ইঙ্গিত? রাজনৈতিক মহলের ধারণা, মেদিনীপুরের সভা থেকে কার্যত লোকসভা নির্বাচনের ঘন্টা বাজিয়ে দিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। সরাসরি না হলেও রাজ্যবাসীকে তৃণমূল কংগ্রেসের জুলুম থেকে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই মুক্তির আশ্বাস দিয়ে রাজ্যের পটপরিবর্তনেরই ইঙ্গিত করলেন মোদী। উল্লেখ্য, কয়েক মাস পর লোকসভা নির্বাচন। তার আগে একদিকে রাজ্য যখন জেরবার ভাগাড় কাণ্ড নিয়ে, কলেজে ভর্তির তোলাবাজি নিয়ে, যখন ফের সিবিআই নড়েচড়ে বসেছে সারধা, নারদা নিয়ে তখন নরেন্দ্র মোদীর এমন মন্তব্যে চিন্তায় পড়তে বাধ্য রাজ্য।
এদিন মঞ্চে উঠেই বাংলায় ‘বন্ধুগন’ বলে উপস্থিত জনগনকে সম্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন এটা আমার আপনার কৃষক দরদী সরকার।
সৌজন্য রেখে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রীকে। প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন—এমন দুরাবস্থায় পড়ার জন্যই কি বাম জমানা থেকে মুক্তি পেতে রাজ্যবাসী এই সরকারকে ক্ষমতায় এনেছিল? বলেন, তৃণমূল সরকার মাত্র আট বছরেই বিপদজ্জনক হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ-রাজ্যে শোষণ, নিপীড়ন, অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পাননি কেউ। গরীব, কৃষক, ধনী, আদিবাসী, মধ্যবিত্ত, দলিত সবাই তৃনমূলের অত্যাচারের শিকার। যে মাটিতে বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দেমাতরমের উৎপত্তি সেখানে আজ গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত।
মোদী অভিযোগ করেন এ-রাজ্যে দল ও প্রশাসন এক হয়ে গেছে। তৃণমূলের সরকার না মানে হাইকোর্ট না মানে সুপ্রিম কোর্ট। এই দলের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা কিংবা নির্বাচনী ব্যবস্থার উপরেও আস্থা নেই।
উপস্থিত ভিড়ের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের এই পরিমাণ উপস্থিতি দেখে আমি আপ্লুত। বলেন, এই জনজোয়ার প্রমাণ করে বাংলার মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, একজোট হয়ে লড়াই করলে মিলবে সাফল্য। ত্রিপুরার মতো এই রাজ্যেও উঠবে নতুন সূর্য।
সব মিলিয়ে আজ মোদী যেমনটা ইঙ্গিত করে গেলেন তাতে কপালে ভাঁজ পড়তে বাধ্য শাসকদলের নেতাদের।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news