Breaking News
Home / TRENDING / মোদি-মমতা করে দেখাচ্ছেন, কিউবাগর্বী বামেরা বরং নিজেদের লক ডাউন করুন

মোদি-মমতা করে দেখাচ্ছেন, কিউবাগর্বী বামেরা বরং নিজেদের লক ডাউন করুন

সুমন ভট্টাচার্য :

কিউবার বর্তমান জনসংখ্যা ১ কোটি ২০ লক্ষ। কিউবায় কমিউনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৫৯ সালে। অর্থাৎ, আজ থেকে ৬১ বছর আগে। তার মানে যদি মোটা দাগে হিসেব করি, কমিউনিস্ট শাসন ৮২ বছর ধরে এক কোটি লোককেই জনকল্যাণ মূলক পরিষেবা দিয়ে এসেছে। আর এই করোনা ভাইরাস থেকে ভারতকে বাঁচাতে সরকারকে এক ধাক্কায় ৮০ কোটি মানুষের জন্য অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে হচ্ছে।

এটাই ভারতবর্ষ বা এটাই
ভারতবর্ষের অর্থনীতির সাইজ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২১ দিনের লকডাউন ঘোষনা করার পরে কেন অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করছেন না বলে যাঁরা চিৎকার করছিলেন, তাঁরা আসলে ভারতবর্ষের বিশালতার চ্যালেঞ্জ কে চেনেন না। গরিব মানুষের চলবে কি ভাবে, এই লকডাউন এর সময তারা কোথা থেকে টাকা পাবে বলে যারা শোরগোল তুলেছিলেন, তারা আসলে মন দিয়ে গান্ধী জিও পড়েননি। বৃহস্পতিবার যখন নির্মলা সীতারামন অর্থমন্ত্রী হিসাবে জানাচ্ছিলেন ভারতের আট কোটি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌছে যাবে, তখন আমি আরেকবার সংখ্যাতত্ব টা ঝালিয়ে নিলাম। ভারতবর্ষকে আট কোটি কৃষকের জন্য বরাদ্দ করতে হচ্ছে আর ইউরোপে কৃষকের সংখ্যা কত? এক কোটি পাঁচ লক্ষ মাত্র।
যে বামপন্থীরা মোদি এবং মমতা কি ভুল করছেন তা ধরতে সদা তৎপর, তারা একটু সংখ্যাতত্ব বা কাকে কতটা সামলাতে হচ্ছে হিসাব করে দেখতে পারেন। কিউবার থেকে চিকিৎসকদের দল ইতালি গেছে বলে যে বামপন্থীরা উচ্ছ্বসিত, তাঁদের যদি মমতা বলেন, কিসের কিউবা! দুই চব্বিশ পরগনা আর হাওড়া, হুগলিতেই আমাকে দেড় কোটির বেশি মানুষকে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে হয়। তাহলে সুজনবাবুদের জন্য হাভানা চুরুট ধরিয়ে উদাস হয়ে যাওযা ছাড়া উপায় থাকবে না!
নির্মলা সীতারামনের ঘোষণা আসলে নরেন্দ্র মোদীর গ্র্যান্ড প্ল্যানের অন্যতম অংশ। করোনা ভাইরাস কে ঠেকাতে দেশকে ২১ দিনের লকডাউন এ পাঠিয়ে মোদী যে ফ্রন্টফুটে গিয়েছিলেন, তাতে প্রান্তিক মানুষদের জন্য অর্থনৈতিক প্যাকেজের এই হেলমেট জরুরি ছিল। ঠিক সেটাই তিনি এনে দিলেন। একইসঙ্গে মহিলাদের জন্য সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা, উজালা প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়তি গ্যাস এই কারফিউ-এর মধ্যে বসন্তের সুশীতল মলয় বাতাস। এর পরের ধাপে হয়তো ছোট এবং মাঝারি ব্যবসার জন্য অর্থনৈতিক প্যাকেজ আসবে।

করোনার এই সংকটকালে রাজনীতি করা বা কাউকে সমালোচনা করাটা উচিত নয়। কিন্তু বামপন্থী ন্যারেটিভে যেহেতু গরিব মানুষের কি হবে এবং সোভিয়েত ইউনিয়নে কি হতো চলতেই থাকে, তাই কিছু কথা বিনম্র ভাবে স্মরণ করিযে দিচ্ছি। প্রথমত গরিবদের জন্য ভাবার পেটেন্ট বামপন্থীদের কাছে নেই, সব দলই ভাবে। এই দিনের কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা সেটাকে চোখে আঙুল দিযে দেখিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত বস্তাপচা কমিউনিস্ট মডেল বা সোভিয়েত মডেলের কথা না আলোচনা করাই ভাল। এই রবি শস্যের মরশুমে নরেন্দ্র মোদীকে সবচেয়ে বেশি করে যে কৃষকদের সুরক্ষা, কৃষিপণ্যের সরবরাহের কথা ভাবতে হচ্ছে, সেটা কোনো দিন সোভিয়েত ইউনিয়ন করে উঠতেই পারেনি।

তাই মোদি মমতার সমালোচনার চাইতে ওরা, মানে বামপন্থীরা নিজেদের লকডাউন এ রাখলেই করোনার মোকাবিলায় সুবিধে হবে।

 

Spread the love

Check Also

তবলিঘ-ই-জামাতের সদস্যরা কোনও অভব্যতা করছেন না চিকিৎসকদের সঙ্গে : এইমস

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো। তবলিঘ-ই-জামাতের (Tablig-E-Jamat) সদস্যরা কোনও রকম অভব্যতা করেননি চিকিৎসকদের সঙ্গে। বরঞ্চ সহযোগিতাই করছেন …

করোনা-লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যেই কোন্নগরে শক্তিশালী বোমার আতঙ্ক

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো। সাতসকালে কোন্নগরে বোমাতঙ্ক। সোমবার রাতে কোন্নগরের ধর্মডাঙ্গায় বোমার মতো কিছু পরে থাকতে …

দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটানোর সঠিক সময় এটাই :মোদী

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো। সারা বিশ্বে করোনার অর্থনৈতিক প্রভাব যে মারাত্মক পড়তে চলেছে সেই বিষয়ে আগেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!