চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
হুগলি জেলা তৃণমূলের (TMC) নতুন তালিকা ঘোষণার পর ধুন্ধুমার জেলা নেতৃত্বে। নতুন কমিটি ঘোষণার পরেই সিঙ্গুরের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য (Rabindranath Bhattcharya) দল ছাড়ার হুমকি দিলেন। পাশাপাশি জানিয়ে রাখলেন, প্রয়োজনে অন্য রাজনৈতিক দলের যোগদান করতে পিছপা হবেন না তিনি। ঘটনায় প্রকাশ, রবিবার বিকেলে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা সভাপতি দিলীপ যাদবকে সঙ্গে নিয়ে জেলা কমিটির পদাধিকারীরা নাম ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণায় দেখা যায় সিঙ্গুর বিধানসভা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে অশীতিপর বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যর অনুগামীদের।
এরপর এই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। নিজের অনুগামীদের সঙ্গে কথা বলার পর এই বর্ষীয়ান বিধায়ক জানিয়ে দেন এমন পরিস্থিতিতে তাঁর পক্ষে আর দল করা সম্ভব নয়। ঘটনাচক্রে সিঙ্গুর থেকে নির্বাচিত চারবারের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। ২০০১, ২০০৬, ২০১১ ও ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তিনি। ২০১১ সালে জিতে মন্ত্রী হন তিনি। কিন্তু বারবার দপ্তর অদল-বদল একসময় বিদ্রোহ করেছিলেন সিঙ্গুরের প্রবীণ বিধায়ক। কিন্তু পরে আবার সমস্যা মিটিয়ে ফিরেছিলেন মন্ত্রিসভায়। তবে ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে জিতলেও আর তাঁকে মন্ত্রিসভায় রাখেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নতুন কমিটি ঘোষণার পর সেই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন, “এখন দল প্রসঙ্গে ভাবনা চিন্তা করতে হবে। সঙ্গেও ভাবনা চিন্তা করতে হবে নতুন কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দেবো কিনা। যারা অন্যায় করছে তারাই এখন দলের পরিচালনার দায়িত্বে। আমরা যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নয় তাদের একপ্রকার দল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”
সিঙ্গুর আন্দোলনের অন্যতম ভূমিকায় ছিলেন এই প্রবীণ তৃণমূল নেতা। প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের কথায়, “দলের এমন ব্যবহারের জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। দল আমার প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখালেও, কিন্তু এই মুহূর্তে দল আমাকে যেভাবে অবহেলা ও বঞ্চিত করেছে এবং আমার সভাপতিকে যেভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা আমি কোনওভাবেই মেনে নেব না।” এরপরই তিনি বলেন, “নতুন দলে যোগদানের বিষয়টি আমাদের ভাবনা চিন্তার মধ্যে রয়েছে। আমি আবার তৃণমূলের হয়ে দাঁড়ালে পুনরাবৃত্তি ঘটবে সেই সব ঘটনার। ভোটে দাড়িয়ে যাতে আমি হেরে যাই ব্যর্থ হই সেই চেষ্টা করা হবে। অতীতে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।”
প্রসঙ্গত, এর আগে কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক মিহির গোস্বামীর অনুগামীদের নতুন কমিটিতে না রাখায় বিদ্রোহী হয়েছিলেন তিনি। মিহির গোস্বামী তৃণমূল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক দলে যোগদানের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। সিঙ্গুরের রাজনীতিতে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বনাম বেচারাম মান্নার সংঘাত সর্বজনবিদিত। এছাড়াও, জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে ইদানিং তাঁর বনিবানা হচ্ছে না বলেই খবর। তাই মিহির গোস্বামী, শীলভদ্র দত্ত, সুকুমার দে-র মতোই বিদ্রোহের শরিক হলেন সিঙ্গুরের বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক। তিনিও কমিটি থেকে নিজের অনুগামীদের বাদ যাওয়ার কারণে দলের ওপর ক্ষুব্ধ।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news