নীল রায়।
মতুয়া মহাসঙ্ঘের ঠাকুরবাড়ির দখলদারি হারাতে বসেছে তৃণমূল ! নাগরিক সংশোধনী বিল (CAB) ও এনআরসির (NRC) বিরোধিতা করে মঙ্গল ও বুধবার ধর্মতলার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ধরনা দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Joytipriyo Mullick) দাবি করেছিলেন এই ধরনা অবস্থান করছেন রাজ্যের উদ্বাস্তু মতুয়ারা। তাতে পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বাংলা শাসকদলের। যদিও, বারবার ডাকা সত্ত্বেও বনগাঁর প্রাক্তন সাংসদ তথা মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতা ঠাকুর এই ধরনায় অংশ নেননি।
সূত্রের খবর, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ব্যবহারে বেজায় ক্ষুব্ধ দুর্গানগরের ঠাকুরবাড়ির মমতা ঠাকুরের ঘনিষ্ঠরা। লোকসভা ভোটে পরাজয়ের পর মমতা ঠাকুরের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেনি দল। ডাকা হয়নি কোনও দলীয় কর্মসূচি বা বৈঠকে। যা ভালোভাবে দেখেননি মমতা ঠাকুর স্বয়ং। তাই লোকসভা ভোটের পর থেকে বনগাঁর ঠাকুরবাড়ির মমতা ঠাকুরের গোষ্ঠীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে তৃণমূলের। এমতাবস্থায় ঠাকুরবাড়িতে তৃণমূল নেতৃত্বের আলগা হচ্ছে।
বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর ও আর পিতা মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর এখন গেরুয়া শিবিরের ছত্রছায়ায়। দুর্গানগর ঠাকুরবাড়ির একটি অংশ যে পুরোপুরি হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের, তা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। তাই মতুয়াবাড়ির দখল ধরে রাখতে মমতা বালাই ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একমাত্র হাতিয়ার। কিন্তু জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের ব্যবহারে বেজায় ক্ষুব্ধ মমতা ঠাকুর। তাই তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে সযত্নে দূরত্ব তৈরি করে নিয়েছেন তিনি, এমনটাই সূত্রের খবর। মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর ও তাঁর পুত্ররা আগেই বিজেপিতে যাওয়ায়, তাঁরা হাতছাড়া হয়েছিল তৃণমূলে। মমতা বালা ঠাকুর বিজেপিতে যোগ না দিলেও, তৃণমূলে থাকবেন কিনা সে ব্যাপারে কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি। অথচ পরিবর্তনের যুদ্ধে এই মতবাদের সমর্থন পেয়েই ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news